কুরাসাও-ইকুয়েডর ম্যাচের শেষ মিনিটের বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে সব আলো এসে পড়ল ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি উচ্চতার এক মানুষের ওপর। ৯০ মিনিট ধরে তিনি থামিয়ে রেখেছিলেন পৃথিবীর অজস্র শ্বাসরুদ্ধকর মুহূর্ত, আটকে দিয়েছিলেন চোখের পলক এবং বিশ্বকে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, দেড় লাখ জনসংখ্যার ছোট্ট দেশের ফুটবল ইতিহাসে লেখা হয়ে গেছে এক ঐতিহাসিক উপাখ্যান। কুরাসাও ম্যাচটি জিততে পারেনি, পেয়েছে এক পয়েন্ট। কিন্তু ‘গ্রেটেস্ট শো অন দ্য আর্থ’ খ্যাত বিশ্বমঞ্চের ইতিহাসে নিজেদের নাম খোদাই করে নিয়েছে। এর পেছনের নায়ক হলেন দীর্ঘদেহী এলয় রুম, দলটির গোলপোস্টের অতন্দ্র প্রহরী, যিনি রেকর্ড ১৫টি সেভ করে ‘কুরাসাও মহাপ্রাচীর’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।
ইকুয়েডরের বিপক্ষে ম্যাচের আগে কুরাসাওয়ের জালে জার্মানি গুণে গুণে ৭ গোল দিয়েছিল। এই রেকর্ডের পর কুরাসাওকে নিয়ে অনেকেরই ধারণা জন্মেছিল, তারা হয়তো বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করতেই এসেছে। কিন্তু ইকুয়েডরকে ৯০ মিনিট গোলবঞ্চিত রেখে রুম জানিয়ে দিয়েছিলেন তাদের লক্ষ্য! ম্যাচজুড়ে ১৫টি সেভ করে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজের পাশে দলের নামও লিখে ফেলেন। অপ্টার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬৬ সাল থেকে রেকর্ড সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর ৯০ মিনিটের বিশ্বকাপ ম্যাচে কোনো গোলরক্ষক এর চেয়ে বেশি সেভ করেননি। অর্থাৎ, ১৫টি সেভ করে তিনি বিশ্বরেকর্ড স্পর্শ করেছেন।
বিশ্বকাপে এক ম্যাচে ১৫ বা তার বেশি সেভ করার কৃতিত্ব কেবল যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক গোলরক্ষক টিম হাওয়ার্ডের ছিল। ২০১৪ সালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে তিনি ১৬টি সেভ করেছিলেন। তবে সেই ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়িয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত দুটি গোলও হজম করেছিলেন। রুমের বিশেষত্ব হলো, তিনি ৯০ মিনিটের মধ্যেই ১৫টি সেভ করে ক্লিন শিট ধরে রেখেছেন। কুরাসাওয়ের বিশ্বকাপে খেলার পেছনেও তার বড় ভূমিকা রয়েছে। গত নভেম্বরে জ্যামাইকার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ের ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে তিনি দলকে বিশ্বকাপে তুলতে সাহায্য করেছিলেন।
রুমের এই বীরত্ব ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিয়েছে। বিবিসির বিশ্লেষক এবং সাবেক আর্সেনাল ডিফেন্ডার মার্টিন কিওন যেমন বলছিলেন, ‘শেষ দিকে তার সেভের সংখ্যা গুনতে ক্যালকুলেটর নেওয়ার উপক্রম হয়েছিল। একের পর এক সেভের তালিকা লেখার মতো অবস্থা হয়েছিল। তার সেভগুলো ছিল সেরা। ম্যাচজুড়েই মনে হচ্ছিল সে ক্লিন শিট নিয়েই মাঠ ছাড়বে।’
নেদারল্যান্ডসের নাইমেখেনে জন্ম নেওয়া রুম দীর্ঘদিন ডাচ লিগে খেলেছেন। পিএসভি আইন্দহোভেনের হয়ে লিগ শিরোপা এবং ভিতেসের হয়েও তিনি খেলেছেন।
রিপোর্টারের নাম 























