লালমনিরহাট জেলায় গত দুই মাসে আলোচিত পাঁচটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও হতাশার জন্ম দিয়েছে। এর মধ্যে আদিতমারী উপজেলায় মাত্র তিন সপ্তাহের ব্যবধানে চারটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ এই উপজেলায় একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে মাটিচাপা দেওয়া নন্দিনী রানী (৭) নামে প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রীর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
নন্দিনীর হত্যাকাণ্ডে মূল অভিযুক্তকে আটকের পর পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়, যা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন দেওয়া হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করতে হয়। এই ঘটনায় পুলিশসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
এর আগে আদিতমারী উপজেলাতেই জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে কুপিয়ে আহত হওয়া উজ্জ্বল মিয়া (২৬) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এছাড়া, একই উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নে লিয়াকত আলী লাদেন (১৫) নামে এক মাদরাসাছাত্রকে ছুরিকাঘাতে হত্যা এবং দুর্গাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণটারী গ্রাম থেকে স্বপ্না বেগম (৫০) নামে এক বিধবার লাশ উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে, সদর উপজেলার তেলিপাড়া এলাকায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সুমন (২৫) নামে এক যুবককে হত্যা করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক, সুদের লেনদেন এবং জমি-সংক্রান্ত বিরোধের মতো সামাজিক সমস্যাগুলোই এসব হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ। একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্তের দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে। পুলিশ সুপার ও সদর থানার ওসি-র সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সঙ্গে এসব ঘটনার সম্পর্ক নেই বলে জানানো হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 






















