রাজধানী ঢাকা যেন এখন ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। সাধারণ মানুষ তো বটেই, খোদ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও এখন এই অপরাধী চক্রের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। সম্প্রতি দিনদুপুরে এক বিকাশ এজেন্টের টাকা লুটের ঘটনায় বাধা দিতে গিয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও একজন এসআই আহত হওয়ার ঘটনাটি ঢাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থার নাজুক অবস্থাকেই ফুটিয়ে তুলেছে। গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, শহরের ৪৬৬টি পয়েন্টে প্রায় এক হাজার ছিনতাইকারী সক্রিয় থাকলেও পুলিশের বিশেষ অভিযান অপরাধের এই জোয়ার থামাতে পারছে না।
সর্বশেষ গত মঙ্গলবার সকালে আদাবর এলাকায় এক বিকাশ এজেন্টের কাছ থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। তাদের ধরতে গিয়ে ছিনতাইকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন আদাবর থানার ওসি ও একজন এসআই। পাল্টা গুলিতে দুই ছিনতাইকারী আহত হওয়ার পর পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করে। এছাড়া গত সোমবার রাতে পল্লবীতেও এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগীদের মতে, বর্তমানে ছিনতাইকারীরা প্রাইভেটকার ও মারণাস্ত্র ব্যবহার করে নতুন নতুন কৌশলে অপরাধ সংঘটন করছে।
পরিসংখ্যান বলছে, রাজধানীর দেড় শতাধিক স্পট এখন ছিনতাইকারীদের নিয়ন্ত্রণে। বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যমতে, মে মাসেই রাজধানীতে ৩৩টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে, যদিও প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি। অধিকাংশ ভুক্তভোগী আইনি জটিলতা এড়াতে মামলা করতে আগ্রহী না হওয়ায় অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত ছিনতাইয়ের ঘটনায় ১১৬টি মামলা হয়েছে, যা প্রতি মাসে অপরাধের হার বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। বর্তমানে কর্মজীবী থেকে শুরু করে সাধারণ গৃহিণী—সবার মধ্যেই বাইরে বের হওয়া নিয়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
রিপোর্টারের নাম 




















