ঢাকা ০৭:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

চট্টগ্রামে অপরাধীদের দাপটে বিপর্যস্ত আইনশৃঙ্খলা: একের পর এক হত্যাকাণ্ডে আতঙ্কিত জনপদ

চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগরীতে সাম্প্রতিক সময়ে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে খুনের ঘটনা, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে। প্রকাশ্য দিবালোকে ভারী অস্ত্র নিয়ে সন্ত্রাসীদের মহড়া, ঘরে ঢুকে মা-মেয়েকে হত্যা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার মতো ঘটনাগুলো জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতিকেই নির্দেশ করছে। মূলত মাদক ব্যবসা, বালি ও মাটি কাটার সিন্ডিকেট এবং বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্বই এসব রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সবশেষ গত শনিবার রাউজানে দিনদুপুরে এক যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যার ঘটনাটি চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, পাঁচজন সশস্ত্র সন্ত্রাসী পিস্তল ও শটগান নিয়ে প্রকাশ্যে বাজারে ঢুকে এই হত্যাকাণ্ড চালায়। একই দিন রাতে আনোয়ারায় এক বসতবাড়িতে ঢুকে মা ও মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা, যেখানে এক শিশুও গুরুতর আহত হয়েছে। এসব ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও এবং খুনিদের পরিচয় শনাক্ত হলেও তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের ধীরগতি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ত্রাসীরা এখন এতটাই বেপরোয়া যে তারা এমনকি পুলিশ ক্যাম্প গুঁড়িয়ে দিতেও দ্বিধাবোধ করছে না। পুলিশ অবশ্য দাবি করেছে যে, রাউজান ও আনোয়ারার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে এবং অপরাধীদের ধরতে বড় ধরনের বিশেষ অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে। একের পর এক এমন লোমহর্ষক ঘটনায় চট্টগ্রামের উপজেলাগুলোতে এখন থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং সাধারণ মানুষ নিজেদের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার ফি নেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল, শিক্ষার্থীদের উপর চাপ কমাবে সরকার

চট্টগ্রামে অপরাধীদের দাপটে বিপর্যস্ত আইনশৃঙ্খলা: একের পর এক হত্যাকাণ্ডে আতঙ্কিত জনপদ

আপডেট সময় : ০১:৫৩:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগরীতে সাম্প্রতিক সময়ে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে খুনের ঘটনা, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে। প্রকাশ্য দিবালোকে ভারী অস্ত্র নিয়ে সন্ত্রাসীদের মহড়া, ঘরে ঢুকে মা-মেয়েকে হত্যা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার মতো ঘটনাগুলো জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতিকেই নির্দেশ করছে। মূলত মাদক ব্যবসা, বালি ও মাটি কাটার সিন্ডিকেট এবং বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্বই এসব রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সবশেষ গত শনিবার রাউজানে দিনদুপুরে এক যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যার ঘটনাটি চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, পাঁচজন সশস্ত্র সন্ত্রাসী পিস্তল ও শটগান নিয়ে প্রকাশ্যে বাজারে ঢুকে এই হত্যাকাণ্ড চালায়। একই দিন রাতে আনোয়ারায় এক বসতবাড়িতে ঢুকে মা ও মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা, যেখানে এক শিশুও গুরুতর আহত হয়েছে। এসব ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও এবং খুনিদের পরিচয় শনাক্ত হলেও তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের ধীরগতি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ত্রাসীরা এখন এতটাই বেপরোয়া যে তারা এমনকি পুলিশ ক্যাম্প গুঁড়িয়ে দিতেও দ্বিধাবোধ করছে না। পুলিশ অবশ্য দাবি করেছে যে, রাউজান ও আনোয়ারার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে এবং অপরাধীদের ধরতে বড় ধরনের বিশেষ অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে। একের পর এক এমন লোমহর্ষক ঘটনায় চট্টগ্রামের উপজেলাগুলোতে এখন থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং সাধারণ মানুষ নিজেদের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।