ঢাকা ০৮:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

শাপলা চত্বর গণহত্যা মামলা: ‘ওপর মহলের নির্দেশে সংবাদ করেছি’, ট্রাইব্যুনালের জিজ্ঞাসাবাদে রুপা-বাবু

২০১৩ সালে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত গণহত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েছেন দুই সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা একটি সেফ হোমে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তারা দাবি করেছেন যে, ‘ওপর মহলের নির্দেশে’ এসব সংবাদ করা হয়েছিল, তবে ব্যক্তিগত দায় অস্বীকার করেছেন তারা।

বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। ট্রাইব্যুনাল সূত্রমতে, চলতি সপ্তাহে একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু ও সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপাকে একদিন করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তারা নিজেদের দায় অস্বীকার করে জানান, যা কিছু হয়েছে, তার সবকিছুই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই করেছেন।

জিজ্ঞাসাবাদকালে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে-পরে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিভিন্ন সংবাদ সম্মেলনের ভিডিও ফুটেজ তাদের দেখানো হয়। তবে মোজাম্মেল বাবু দাবি করেন, সেসব ভিডিও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি।

এর আগে গত ৭ জুন প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল-১ রুপা ও বাবুকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। একই সঙ্গে এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১০ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়।

এই মামলায় বর্তমানে নয়জন আসামি গ্রেপ্তার রয়েছেন। রুপা ও বাবু ছাড়া অপর আসামিরা হলেন—সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, বরখাস্ত সেনাকর্মকর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক আইজিপি একেএম শহিদুল হক, পুলিশের সাবেক ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তর ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির ও সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল। মামলায় পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—জুলাই গণহত্যার দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার, পুলিশের সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার ও বেনজীর আহমেদ। প্রসিকিউশন জানিয়েছে, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে ঢাকাসহ দেশের চারটি স্থানে ৫৮ জন শহীদ হন। এর মধ্যে ঢাকায় ৩২, নারায়ণগঞ্জে ২০, চট্টগ্রামে ৫ ও কুমিল্লায় একজন শহীদের তথ্য শনাক্ত করেছে তদন্ত সংস্থা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কওমি আলেমদের অবদানের মূল্যায়ন ও বাজেট বরাদ্দ নিয়ে সংসদে আলোচনা

শাপলা চত্বর গণহত্যা মামলা: ‘ওপর মহলের নির্দেশে সংবাদ করেছি’, ট্রাইব্যুনালের জিজ্ঞাসাবাদে রুপা-বাবু

আপডেট সময় : ০৬:৫৩:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

২০১৩ সালে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত গণহত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েছেন দুই সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা একটি সেফ হোমে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তারা দাবি করেছেন যে, ‘ওপর মহলের নির্দেশে’ এসব সংবাদ করা হয়েছিল, তবে ব্যক্তিগত দায় অস্বীকার করেছেন তারা।

বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। ট্রাইব্যুনাল সূত্রমতে, চলতি সপ্তাহে একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু ও সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপাকে একদিন করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তারা নিজেদের দায় অস্বীকার করে জানান, যা কিছু হয়েছে, তার সবকিছুই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই করেছেন।

জিজ্ঞাসাবাদকালে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে-পরে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিভিন্ন সংবাদ সম্মেলনের ভিডিও ফুটেজ তাদের দেখানো হয়। তবে মোজাম্মেল বাবু দাবি করেন, সেসব ভিডিও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি।

এর আগে গত ৭ জুন প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল-১ রুপা ও বাবুকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। একই সঙ্গে এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১০ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়।

এই মামলায় বর্তমানে নয়জন আসামি গ্রেপ্তার রয়েছেন। রুপা ও বাবু ছাড়া অপর আসামিরা হলেন—সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, বরখাস্ত সেনাকর্মকর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক আইজিপি একেএম শহিদুল হক, পুলিশের সাবেক ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তর ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির ও সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল। মামলায় পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—জুলাই গণহত্যার দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার, পুলিশের সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার ও বেনজীর আহমেদ। প্রসিকিউশন জানিয়েছে, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে ঢাকাসহ দেশের চারটি স্থানে ৫৮ জন শহীদ হন। এর মধ্যে ঢাকায় ৩২, নারায়ণগঞ্জে ২০, চট্টগ্রামে ৫ ও কুমিল্লায় একজন শহীদের তথ্য শনাক্ত করেছে তদন্ত সংস্থা।