ঢাকা ১০:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

রাঙ্গামাটিতে পাহাড়ধসের ৯ বছর: ঝুঁকিপূর্ণ বসতিদের পুনর্বাসনে নেই দৃশ্যমান অগ্রগতি

আজ ১৩ জুন, রাঙ্গামাটির ভয়াবহ পাহাড়ধস ট্র্যাজেডির নবম বার্ষিকী। ২০১৭ সালের এই দিনে পাহাড় ধসে মাটিচাপা পড়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন পাঁচ সেনাসদস্যসহ ১২০ জন। সেই মর্মান্তিক ঘটনার ৯ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো মেঘের গর্জন কিংবা বৃষ্টির শব্দে বুক কাঁপে পাহাড়ের মানুষের।

অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ সময়েও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের স্থায়ী পুনর্বাসন করা হয়নি, উল্টো ঝুঁকিপূর্ণ বসতি বেড়েই চলেছে। ২০১৭ সালের পাহাড়ধসের পর বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ১১ দফা সুপারিশ দিয়েছিল। সেই সুপারিশ কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে তা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন।

ভুক্তভোগীদের মতে, ২০১৭ সালের ১৩ জুন, রাঙ্গামাটিবাসীর ক্যালেন্ডারে এক অভিশপ্ত ও শোকাবহ দিন। টানা কয়েক দিনের ভারি বর্ষণে মুহূর্তের মধ্যে ধসে পড়ে পাহাড়ের বিশাল সব চূড়া। চোখের পলকে মাটিচাপা পড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় শহরের ভেদভেদি, যুব উন্নয়ন, উলুছড়া, রূপনগর, শিমুলতলী ও কাপ্তাই উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা।

রাঙ্গামাটি রোভার স্কাউট কমিশনার নুরুল আবচার জানান, পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসতিদের সরিয়ে নেওয়া বা স্থায়ী পুনর্বাসন নিয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। পরিবেশ রক্ষা বা পাহাড় কাটা, ক্ষতিকারক জুমচাষ বন্ধেও কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে পাহাড়ের মানুষ আরও ভয়াবহ দুর্যোগের মুখে পড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফি অবশ্য বলেন, এর সঙ্গে দীর্ঘ প্রক্রিয়া আর নানা বাস্তবতা জড়িয়ে আছে। সরকার বিষয়টি নিয়ে ভাবছে। তবে পাহাড়ধসসহ সম্ভাব্য যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলা ও ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সরকার সচেষ্ট রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ বসতিদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। বৃষ্টির আগমুহূর্তে বা ভারি বৃষ্টি শুরু হলে বিভিন্ন মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়, সার্বক্ষণিক আশ্রয়কেন্দ্র, স্বেচ্ছাসেবী ও উদ্ধারকর্মীদের প্রস্তুত রাখা হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চক্ষু সেবায় বিএনএসবি ও সিইআইটিসির অবদান: বার্ষিক সাধারণ সভায় অগ্রগতি পর্যালোচনা

রাঙ্গামাটিতে পাহাড়ধসের ৯ বছর: ঝুঁকিপূর্ণ বসতিদের পুনর্বাসনে নেই দৃশ্যমান অগ্রগতি

আপডেট সময় : ০৮:৫৯:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

আজ ১৩ জুন, রাঙ্গামাটির ভয়াবহ পাহাড়ধস ট্র্যাজেডির নবম বার্ষিকী। ২০১৭ সালের এই দিনে পাহাড় ধসে মাটিচাপা পড়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন পাঁচ সেনাসদস্যসহ ১২০ জন। সেই মর্মান্তিক ঘটনার ৯ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো মেঘের গর্জন কিংবা বৃষ্টির শব্দে বুক কাঁপে পাহাড়ের মানুষের।

অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ সময়েও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের স্থায়ী পুনর্বাসন করা হয়নি, উল্টো ঝুঁকিপূর্ণ বসতি বেড়েই চলেছে। ২০১৭ সালের পাহাড়ধসের পর বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ১১ দফা সুপারিশ দিয়েছিল। সেই সুপারিশ কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে তা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন।

ভুক্তভোগীদের মতে, ২০১৭ সালের ১৩ জুন, রাঙ্গামাটিবাসীর ক্যালেন্ডারে এক অভিশপ্ত ও শোকাবহ দিন। টানা কয়েক দিনের ভারি বর্ষণে মুহূর্তের মধ্যে ধসে পড়ে পাহাড়ের বিশাল সব চূড়া। চোখের পলকে মাটিচাপা পড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় শহরের ভেদভেদি, যুব উন্নয়ন, উলুছড়া, রূপনগর, শিমুলতলী ও কাপ্তাই উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা।

রাঙ্গামাটি রোভার স্কাউট কমিশনার নুরুল আবচার জানান, পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসতিদের সরিয়ে নেওয়া বা স্থায়ী পুনর্বাসন নিয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। পরিবেশ রক্ষা বা পাহাড় কাটা, ক্ষতিকারক জুমচাষ বন্ধেও কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে পাহাড়ের মানুষ আরও ভয়াবহ দুর্যোগের মুখে পড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফি অবশ্য বলেন, এর সঙ্গে দীর্ঘ প্রক্রিয়া আর নানা বাস্তবতা জড়িয়ে আছে। সরকার বিষয়টি নিয়ে ভাবছে। তবে পাহাড়ধসসহ সম্ভাব্য যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলা ও ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সরকার সচেষ্ট রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ বসতিদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। বৃষ্টির আগমুহূর্তে বা ভারি বৃষ্টি শুরু হলে বিভিন্ন মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়, সার্বক্ষণিক আশ্রয়কেন্দ্র, স্বেচ্ছাসেবী ও উদ্ধারকর্মীদের প্রস্তুত রাখা হয়।