ঢাকা ১০:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

শেরপুরে পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত নিম্নাঞ্চল: ঝিনাইগাতীতে দুর্ভোগ, মহারশি বাঁধের দাবিতে ক্ষোভ

ভারি বৃষ্টিপাত ও উজানের পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। মহারশি নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় শনিবার সকাল থেকে ঝিনাইগাতী সদর বাজারসহ আশেপাশের এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে। এতে তলিয়ে গেছে অনেক রাস্তাঘাট, ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জনজীবন।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, শহর রক্ষা বাঁধ না থাকায় প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে সামান্য পানি বাড়লেই ঝিনাইগাতী সদর বাজারের সড়ক, দোকানপাট ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। এবারও একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। দোকানে পানি ঢুকে পড়ায় মালামাল রক্ষায় হিমশিম খেতে হচ্ছে, অনেক স্থানে স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে, নালিতাবাড়ী উপজেলার চেল্লাখালী নদীর বাঁতকুচি পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা নদী তীরবর্তী এলাকায় পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।

উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের শাখা কর্মকর্তা নাদরুজ্জামান ইমন জানান, সকালে মহারশি নদীর দক্ষিণাংশের তীর উপচে প্রবল বেগে ঢলের পানি প্রবাহিত হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা অনেকটাই কমে এসেছে। চলমান মহারশি বাঁধের কোনো ক্ষতি হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুদীপ্ত চৌধুরী জানান, শনিবার শেরপুর পয়েন্টে ২৪.৫০ মিলিমিটার, নালিতাবাড়ী পয়েন্টে ৩৫ মিলিমিটার ও নাকুগাঁও পয়েন্টে ১৮০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, সকালের দিকে পাহাড়ি ঢলের চাপ বেশি থাকলেও এখন কমতে শুরু করেছে। ঝিনাইগাতী বাজারের ড্রেনের সঙ্গে মহারশি নদীর সংযোগ থাকায় সকালে পানি উঠলেও এখন তা কমছে।

শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল জানিয়েছেন, মহারশি নদীতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের বিষয়টি তিনি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেছেন। তিনি আশা করছেন, দ্রুতই টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা সম্ভব হবে, যা মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সহায়ক হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চক্ষু সেবায় বিএনএসবি ও সিইআইটিসির অবদান: বার্ষিক সাধারণ সভায় অগ্রগতি পর্যালোচনা

শেরপুরে পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত নিম্নাঞ্চল: ঝিনাইগাতীতে দুর্ভোগ, মহারশি বাঁধের দাবিতে ক্ষোভ

আপডেট সময় : ০৮:৪২:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

ভারি বৃষ্টিপাত ও উজানের পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। মহারশি নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় শনিবার সকাল থেকে ঝিনাইগাতী সদর বাজারসহ আশেপাশের এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে। এতে তলিয়ে গেছে অনেক রাস্তাঘাট, ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জনজীবন।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, শহর রক্ষা বাঁধ না থাকায় প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে সামান্য পানি বাড়লেই ঝিনাইগাতী সদর বাজারের সড়ক, দোকানপাট ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। এবারও একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। দোকানে পানি ঢুকে পড়ায় মালামাল রক্ষায় হিমশিম খেতে হচ্ছে, অনেক স্থানে স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে, নালিতাবাড়ী উপজেলার চেল্লাখালী নদীর বাঁতকুচি পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা নদী তীরবর্তী এলাকায় পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।

উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের শাখা কর্মকর্তা নাদরুজ্জামান ইমন জানান, সকালে মহারশি নদীর দক্ষিণাংশের তীর উপচে প্রবল বেগে ঢলের পানি প্রবাহিত হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা অনেকটাই কমে এসেছে। চলমান মহারশি বাঁধের কোনো ক্ষতি হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুদীপ্ত চৌধুরী জানান, শনিবার শেরপুর পয়েন্টে ২৪.৫০ মিলিমিটার, নালিতাবাড়ী পয়েন্টে ৩৫ মিলিমিটার ও নাকুগাঁও পয়েন্টে ১৮০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, সকালের দিকে পাহাড়ি ঢলের চাপ বেশি থাকলেও এখন কমতে শুরু করেছে। ঝিনাইগাতী বাজারের ড্রেনের সঙ্গে মহারশি নদীর সংযোগ থাকায় সকালে পানি উঠলেও এখন তা কমছে।

শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল জানিয়েছেন, মহারশি নদীতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের বিষয়টি তিনি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেছেন। তিনি আশা করছেন, দ্রুতই টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা সম্ভব হবে, যা মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সহায়ক হবে।