ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের খেলা শেষে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে নেমে ক্লান্ত শরীরে বাড়ি ফেরার পথে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে মারধর করেছে পুলিশ। চট্টগ্রাম নগরীর লালখানবাজার ফ্লাইওভারের মুখে সিএনজি অটোরিকশা থেকে নামিয়ে তাকে নিজেদের গাড়িতে তুলে নেয় তারা।
মারধর চলাকালীন নাঈম নিজেকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করলেও তা আমলে নেয়নি পুলিশ। দীর্ঘক্ষণ ধরে তাকে মারধর ও হেনস্তা করার পর এক পর্যায়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ফোন কলের পর তার পরিচয় নিশ্চিত হয় পুলিশ। ঘটনার পরদিন সকালে নিজের ওপর হওয়া নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ২৬ বছর বয়সী এই অফস্পিনার।
মোহাম্মদ নাঈম হাসান ২০০০ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ১৮ বছর বয়সে ২০১৮ সালে বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট অভিষেক হয় তার, যা ছিল একটি মাইলফলক। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন সহস্রাব্দে জন্ম নেওয়া প্রথম টেস্ট ক্রিকেটার। ৬ ফুট উচ্চতার এই অফস্পিনার ঘরোয়া ক্রিকেটে সুপরিচিত এবং জাতীয় দলেও নিয়মিত খেলে থাকেন। সম্প্রতি আসন্ন জিম্বাবুয়ে টেস্ট সিরিজের দলেও তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ক্রিকেটের মাঠে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা এই তরুণ ক্রিকেটার নিজের শহরেই রাতের অন্ধকারে ‘অপরাধী’ হিসেবে হেনস্তার শিকার হন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে যখন শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করছিলেন এবং পুলিশের গুলিতে তরুণ প্রাণ ঝরছিল, তখন নাঈম হাসান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে পোস্ট করেছিলেন। ১৭ জুলাই তিনি ফেসবুকে লেখেন, ‘আর যেন খালি না হোক কোনো মা-বাবার বুক, চাই শান্তিপূর্ণ সমাধান। সঙ্গে জুড়ে দেন ‘শান্তিতে থাকুক আমার এই প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশ।’ পহেলা আগস্টের পর থেকে তিনি ছাত্রদের পক্ষ নেন এবং ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের দিনে বাংলাদেশের পতাকার ছবিতে ‘স্বাধীন’ লেখা পোস্ট করেন।
রিপোর্টারের নাম 




















