ঢাকা ১০:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

ধর্ষণ মামলায় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান প্রধান বহিষ্কার, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে সংগঠন

কুমিল্লার দাউদকান্দি থানায় ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা মো. জিসান আহম্মেদ প্রধানকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। প্রেমের সম্পর্ক প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় শনিবার (১৩ জুন) এই সিদ্ধান্তের কথা জানায় ছাত্রশিবির।

শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ জানান, অভিযুক্ত জিসান আহম্মেদের সঙ্গে ভুক্তভোগী নারীর প্রেমের সম্পর্কের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। সাংগঠনিক বিধি অনুসারে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জিসানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের কোনটি প্রমাণিত হলে ভুক্তভোগী নারীকে আইনি সহায়তা দেবে সংগঠনটি।

তবে এই পুরো নিখোঁজ ও মামলা প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি তুলেছে ছাত্রশিবির। সংগঠনের দাবি, গত রাতে পুলিশ জিসানকে উদ্ধারের পর থেকে শনিবার দুপুর দেড়টা পর্যন্ত তার সঙ্গে ছাত্রশিবিরের কোনো প্রতিনিধি বা পরিবারের সদস্যদের দেখা করতে দেওয়া হয়নি। তিনি এখনো পুলিশ হেফাজতে থাকায় নিখোঁজের বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। ফলে পুলিশের বক্তব্য ছাড়া অন্য কোনো সূত্র থেকে তথ্য পাওয়া যায়নি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া, মামলা দায়েরকারী নারীর বড় বোন সাবিকুন্নাহারের তথ্য উদ্ধৃত করে বিবৃতিতে বলা হয়, শুক্রবার বিকেলে ১৫ থেকে ২০ জন পুলিশ বা প্রশাসনের সদস্য তাদের বাড়ি থেকে ওই নারীকে নিয়ে যান এবং পরিবারের কাউকে সঙ্গে যেতে দেওয়া হয়নি। বর্তমানে ওই নারী ও তার বাবাকে পুলিশের জিম্মায় আলাদা করে রাখা হয়েছে এবং পরিবারের সদস্যরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না বলেও দাবি করা হয়। ভুক্তভোগীর বোন প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি জানতেন, তবে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া, থানায় মামলা দায়ের এবং বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন না বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ না থাকায় ঘটনার প্রকৃত অবস্থা স্পষ্ট নয় বলে দাবি ছাত্রশিবিরের।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চক্ষু সেবায় বিএনএসবি ও সিইআইটিসির অবদান: বার্ষিক সাধারণ সভায় অগ্রগতি পর্যালোচনা

ধর্ষণ মামলায় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান প্রধান বহিষ্কার, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে সংগঠন

আপডেট সময় : ০৮:৫৩:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

কুমিল্লার দাউদকান্দি থানায় ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা মো. জিসান আহম্মেদ প্রধানকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। প্রেমের সম্পর্ক প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় শনিবার (১৩ জুন) এই সিদ্ধান্তের কথা জানায় ছাত্রশিবির।

শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ জানান, অভিযুক্ত জিসান আহম্মেদের সঙ্গে ভুক্তভোগী নারীর প্রেমের সম্পর্কের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। সাংগঠনিক বিধি অনুসারে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জিসানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের কোনটি প্রমাণিত হলে ভুক্তভোগী নারীকে আইনি সহায়তা দেবে সংগঠনটি।

তবে এই পুরো নিখোঁজ ও মামলা প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি তুলেছে ছাত্রশিবির। সংগঠনের দাবি, গত রাতে পুলিশ জিসানকে উদ্ধারের পর থেকে শনিবার দুপুর দেড়টা পর্যন্ত তার সঙ্গে ছাত্রশিবিরের কোনো প্রতিনিধি বা পরিবারের সদস্যদের দেখা করতে দেওয়া হয়নি। তিনি এখনো পুলিশ হেফাজতে থাকায় নিখোঁজের বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। ফলে পুলিশের বক্তব্য ছাড়া অন্য কোনো সূত্র থেকে তথ্য পাওয়া যায়নি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া, মামলা দায়েরকারী নারীর বড় বোন সাবিকুন্নাহারের তথ্য উদ্ধৃত করে বিবৃতিতে বলা হয়, শুক্রবার বিকেলে ১৫ থেকে ২০ জন পুলিশ বা প্রশাসনের সদস্য তাদের বাড়ি থেকে ওই নারীকে নিয়ে যান এবং পরিবারের কাউকে সঙ্গে যেতে দেওয়া হয়নি। বর্তমানে ওই নারী ও তার বাবাকে পুলিশের জিম্মায় আলাদা করে রাখা হয়েছে এবং পরিবারের সদস্যরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না বলেও দাবি করা হয়। ভুক্তভোগীর বোন প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি জানতেন, তবে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া, থানায় মামলা দায়ের এবং বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন না বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ না থাকায় ঘটনার প্রকৃত অবস্থা স্পষ্ট নয় বলে দাবি ছাত্রশিবিরের।