সম্প্রতি সমাজে বিয়ে নামক পবিত্র ও সংবেদনশীল একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে এক জঘন্য বিকৃতির চিত্র সামনে এসেছে। তিন তালাকপ্রাপ্ত নারীদের পুনরায় প্রথম স্বামীর সংসারে ফিরিয়ে দেওয়ার অজুহাতে এক রাত বা নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য যে চুক্তিভিত্তিক বিয়ে বা তথাকথিত ‘হালালা’র আয়োজন করা হচ্ছে, তা কোনো সাধারণ বিচ্যুতি নয়, বরং এটি ইসলামের মূল বিধানের ওপর এক প্রকাশ্য আঘাত। কিছু স্বঘোষিত ধর্মীয় ব্যক্তি ও এজেন্সির মাধ্যমে তালাকপ্রাপ্ত নারীদের ‘সিভি’ সংগ্রহ করে পরপুরুষের সঙ্গে এক বা একাধিক রাত কাটানোর, অর্থাৎ সহবাসের চুক্তি করানো হচ্ছে। এই জঘন্য প্রথাকে তারা ‘ইসলামি সমাধান’ হিসেবে আখ্যায়িত করছে। ইসলামের নামে এমন বিকৃত ও কামুক চর্চা দেখে বনি ইসরাইলের সেই অবাধ্য জাতির কথাই স্মরণ হয়, যারা আল্লাহর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ধূর্ততার আশ্রয় নিয়েছিল।
ইসলামের মূল বিধান অনুযায়ী, পবিত্র কোরআনে তিন তালাকের পর প্রথম স্বামীর জন্য সাময়িকভাবে হারাম হওয়া এবং পুনরায় হালাল হওয়ার যে স্বাভাবিক ও আইনি প্রক্রিয়ার কথা বলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ শর্তহীন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘অতঃপর যদি সে তাকে (স্ত্রীকে) তালাক দেয়, তবে এরপর সে তার জন্য হালাল হবে না, যতক্ষণ না সে অন্য স্বামী গ্রহণ করে। অতঃপর যদি সে (দ্বিতীয় স্বামী) তাকে তালাক দেয়, তবে তাদের উভয়ের আবার মিলিত হতে কোনো গুনাহ নেই, যদি তারা মনে করে যে তারা আল্লাহর হুদুদ (সীমারেখা) কায়েম রাখতে পারবে।’ (সুরা বাকারা: ২৩০)। এই আয়াতের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, তালাকপ্রাপ্ত নারী তার ইদ্দত শেষ হওয়ার পর সম্পূর্ণ স্বাধীন। তিনি নিজের পছন্দমতো যেকোনো পুরুষকে স্বাভাবিকভাবে ও স্থায়ীভাবে বসবাসের নিয়তে বিয়ে করবেন। দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে সংসার করার পর যদি কোনো কারণে তাদের বনিবনা না হয় এবং দ্বিতীয় স্বামী তাকে স্বাভাবিকভাবে তালাক দেয় অথবা দ্বিতীয় স্বামী মারা যায়, তবেই কেবল ইদ্দত পালনের পর প্রথম স্বামী নতুন মোহরানা ও আকদের মাধ্যমে তাকে বিয়ে করতে পারবে। এই আয়াতে কোথাও ‘এক বা একাধিক রাতের জন্য’ বা ‘তালাক দেওয়ার শর্তে’, ‘পূর্বপরিকল্পিত সাময়িক চুক্তি বা মেয়াদের’—এসবের কোনো স্থান নেই। অথচ এই পবিত্র ও সুরক্ষামূলক বিধানটিকে কিছু কামুক মানুষ ও কথিত আলেম বিকৃত করে ‘এক রাতের চুক্তি’তে রূপান্তর করেছে এবং এই চুক্তিভিত্তিক জেনাকার পুরুষদের ‘মুহাল্লিল’ নাম দিয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























