ঢাকা ১১:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

উদ্যোক্তা ও তরুণবান্ধব নতুন বাজেট: উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্যমাত্রা ও বাস্তবতার চ্যালেঞ্জ

মার্কিন ইতিহাসবিদ চার্লস এ বিয়ার্ড-এর ভাষায়, ‘বাজেট হলো একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মধ্যে সাজানো মানুষের আকাঙ্ক্ষা’। তিনি আরো সহজ করে বলেছেন, ‘বাজেট মানে কেবল খরচ কমানো নয়; বরং উপার্জিত অর্থকে সঠিক নিয়মে, সঠিক জায়গায় ব্যবহারের একটি দূরদর্শী পরিকল্পনা’। জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত আগামী অর্থবছরের বাজেটে মানুষের আকাঙ্ক্ষা সাজানোর একটা প্রচেষ্টা দেখা গেছে। কিন্তু উপার্জিত অর্থ সঠিক নিয়মে, সঠিক জায়গায় ব্যবহারের দূরদর্শী পরিকল্পনার ছাপ কতটা আছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে? ৯৭ পৃষ্ঠার দীর্ঘ বক্তব্যে এ প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনরুদ্ধার করে স্থিতিশীল অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছে ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদে এই বাজেট উপস্থাপন করেন।

নতুন উদ্যোক্তা ও তরুণদের জন্য নানাবিধ সুবিধা দিয়ে প্রণীত বাজেটের আকার চলতি অর্থবছরের তুলনায় ১৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ বড় হয়েছে, যা বছরান্তে বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি রেকর্ড। প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা আকাশছোঁয়া এবং অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণে তা অবাস্তব বলে মনে হচ্ছে। সঙ্গে বেড়েছে বাজেট ঘাটতিও। প্রাক্কলিত আয়ের তুলনায় ঘাটতি দুই লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা এটিও একটি রেকর্ড। চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের গতি-প্রকৃতি বলছে, এ ঘাটতির পরিমাণ শেষ পর্যন্ত তিন লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

বাজেট ঘাটতি পূরণে সরকারকে ব্যাংক ও ব্যাংক-বহির্ভূত উৎস থেকে ঋণও নিতে হবে অনেক বেশি। বৈদেশিক সূত্র থেকেও বড় দাগে ঋণ পাওয়ার আশা করছে সরকার। উন্নয়ন বাজেটের আকার তিন লাখ কোটি টাকার। বাজেটে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ কমিয়ে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নিয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও স্থানীয় সরকার খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ দেশের ৫৫তম এবং তার নিজের প্রথম বাজেট উপস্থাপন করলেন গতকাল। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এই বাজেট প্রস্তাব পেশ করেন তিনি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনৈতিক ও মানবাধিকার বিতর্ক ছাপিয়ে শুরু হলো বিশ্বকাপ, নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি আয়োজকরা

উদ্যোক্তা ও তরুণবান্ধব নতুন বাজেট: উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্যমাত্রা ও বাস্তবতার চ্যালেঞ্জ

আপডেট সময় : ০৯:৫৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

মার্কিন ইতিহাসবিদ চার্লস এ বিয়ার্ড-এর ভাষায়, ‘বাজেট হলো একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মধ্যে সাজানো মানুষের আকাঙ্ক্ষা’। তিনি আরো সহজ করে বলেছেন, ‘বাজেট মানে কেবল খরচ কমানো নয়; বরং উপার্জিত অর্থকে সঠিক নিয়মে, সঠিক জায়গায় ব্যবহারের একটি দূরদর্শী পরিকল্পনা’। জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত আগামী অর্থবছরের বাজেটে মানুষের আকাঙ্ক্ষা সাজানোর একটা প্রচেষ্টা দেখা গেছে। কিন্তু উপার্জিত অর্থ সঠিক নিয়মে, সঠিক জায়গায় ব্যবহারের দূরদর্শী পরিকল্পনার ছাপ কতটা আছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে? ৯৭ পৃষ্ঠার দীর্ঘ বক্তব্যে এ প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনরুদ্ধার করে স্থিতিশীল অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছে ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদে এই বাজেট উপস্থাপন করেন।

নতুন উদ্যোক্তা ও তরুণদের জন্য নানাবিধ সুবিধা দিয়ে প্রণীত বাজেটের আকার চলতি অর্থবছরের তুলনায় ১৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ বড় হয়েছে, যা বছরান্তে বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি রেকর্ড। প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা আকাশছোঁয়া এবং অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণে তা অবাস্তব বলে মনে হচ্ছে। সঙ্গে বেড়েছে বাজেট ঘাটতিও। প্রাক্কলিত আয়ের তুলনায় ঘাটতি দুই লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা এটিও একটি রেকর্ড। চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের গতি-প্রকৃতি বলছে, এ ঘাটতির পরিমাণ শেষ পর্যন্ত তিন লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

বাজেট ঘাটতি পূরণে সরকারকে ব্যাংক ও ব্যাংক-বহির্ভূত উৎস থেকে ঋণও নিতে হবে অনেক বেশি। বৈদেশিক সূত্র থেকেও বড় দাগে ঋণ পাওয়ার আশা করছে সরকার। উন্নয়ন বাজেটের আকার তিন লাখ কোটি টাকার। বাজেটে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ কমিয়ে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নিয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও স্থানীয় সরকার খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ দেশের ৫৫তম এবং তার নিজের প্রথম বাজেট উপস্থাপন করলেন গতকাল। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এই বাজেট প্রস্তাব পেশ করেন তিনি।