ইসলাম ধর্মে সন্তানদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ এবং তাদের মধ্যে সম্পদ বণ্টনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ইনসাফ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। কোনো সন্তানের প্রতি অধিক ভালোবাসা প্রকাশ বা সম্পদ বণ্টনে বৈষম্য সৃষ্টি করাকে জুলুম ও অবিচার হিসেবে গণ্য করা হয়।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যখন তোমাদের কারো মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয়ে যায় (মাতার লক্ষণ দেখা যায় কারো মধ্যে বা দ্রুত মৃত্যু হবে এমন অবস্থা তৈরি হয়), আর যে যদি কল্যাণকর কোনো ধন-সম্পদ রেখে যায়, তবে তার জন্য ইনসাফের সঙ্গে পিতামাতা ও নিকট আত্মীয়দের জন্য ওয়সিয়ত করা বিধিবদ্ধ করা হলো।’ (সুরা বাকারা: ১৮০)। এই আয়াতটি যদিও উত্তরাধিকার বিষয়ক সুরা নিসার ৭নং আয়াত দ্বারা রহিত হয়ে গেছে, তবে সাধারণ দান বা উপহারের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার বজায় রাখার নির্দেশনা এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়।
সাহাবি নুমান ইবনে বাশীর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাকে আমার বাবা তার সম্পদ থেকে কিছু প্রদান করেন। আমার মা আমরাহ বিনতে রাওয়াহা (রা.) বললেন, আমি সন্তুষ্ট হতে পারছি না, যতক্ষণ না আপনি রাসুল (সা.)-কে সাক্ষী রাখেন। এরপর আমার পিতা আমাকে নিয়ে নবীজির (সা.) কাছে এলেন। রাসুল (সা.) তাকে বললেন, তুমি কি এমন কাজ তোমার অন্য সব পুত্রদের সঙ্গে করেছ? তিনি বললেন, না। নবীজি (সা.) বললেন, আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমার সন্তানদের মধ্যে ন্যায়বিচার করো। তখন আমার পিতা চলে এলেন এবং তিনি তার যে দান ফিরিয়ে নেন। (মুসলিম)।
মুসলিম শরিফের আরেক বর্ণনায় এসেছে, নবীজির কাছে যখন এ বিষয়ে সাক্ষী রাখার উদ্দেশ্যে আসা হলো, তখন তিনি তাঁর পিতাকে সন্তানদের মধ্যে ন্যায়বিচার করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই হাদিস প্রমাণ করে যে, সন্তানদের মধ্যে কোনো প্রকার বৈষম্য করা জায়েজ নয়, এমনকি তা দান বা উপহারের ক্ষেত্রেই হোক না কেন।
রিপোর্টারের নাম 
























