ঢাকা ১১:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

গণিতবিদের নামেই লুকিয়ে আছে ‘অ্যালগরিদম’ শব্দের রহস্য

আধুনিক জীবনে ‘অ্যালগরিদম’ শব্দটি বহুলভাবে ব্যবহৃত হলেও অনেকের কাছে এটি এক ভীতিকর বা নেতিবাচক ধারণা তৈরি করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমরা কী দেখব, পড়ব বা শুনব, তা নির্ধারণে এই অ্যালগরিদম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর ফলে মানুষের নিজস্ব পছন্দ-অপছন্দ আরও দৃঢ় হয় এবং এক ধরনের আদর্শিক একঘেয়েমি বা ‘ইকো চেম্বার’ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

শব্দটির গুরুত্ব এতটাই যে, পোপ লিও চতুর্দশ তার প্রথম বিশ্বপত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে আলোচনায় ‘অ্যালগরিদম’ শব্দটি ১৯ বার ব্যবহার করেছেন।

কিন্তু এই বহুল প্রচলিত শব্দের উৎপত্তি কোথায়? এটি জানা যায়, নবম শতকের একজন বিখ্যাত পার্সিয়ান (পারস্যের) গণিতবিদের নাম থেকে। তার নাম ছিল মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খাওয়ারিজমি। জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেল ‘রবওয়ার্ডস’-এর সঞ্চালক ও সাংবাদিক রব ওয়াটস জানান, আমরা যখন ‘অ্যালগরিদম’ শব্দটি ব্যবহার করি, তখন আসলে আল-খাওয়ারিজমি নামের ল্যাটিন রূপটিকেই উচ্চারণ করি। দ্বাদশ শতাব্দী পেরিয়ে আজকের ‘অ্যালগরিদম’ রূপে পৌঁছানোর পথটি ছিল বেশ দীর্ঘ ও জটিল। আধুনিক শব্দটি ল্যাটিন ‘অ্যালগোরিজমাস’ থেকে ফরাসি ‘অ্যালগরিজম’ এবং ইংরেজি ‘অ্যালগরিজম’ হয়ে বর্তমান রূপে এসেছে। এর আগে এটি ‘অ্যারিথমেটিক’ বা পাটিগণিত শব্দের সঙ্গেও কিছুটা মিশে গিয়েছিল।

মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খাওয়ারিজমি ছিলেন কেবল একজন গণিতবিদই নন, তিনি ছিলেন একজন প্রতিভাবান জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও ভূগোলবিদও। বর্তমান উজবেকিস্তানের আরাল সাগরের দক্ষিণ অঞ্চলের ‘খাওয়ারিজম’ নামক স্থান থেকে তার নামের এই অংশটি এসেছে। গণিতে তার সবচেয়ে বড় অবদান হলো ‘দ্য কম্পেনডিয়াস বুক অন ক্যালকুলেশন বাই কমপ্লিশন অ্যান্ড ব্যালেন্সিং’ নামক বিখ্যাত বই, যার মাধ্যমে তিনি গাণিতিক সমস্যা সমাধানের পদ্ধতি বা অ্যালগরিদমিক প্রক্রিয়ার ধারণা দেন। এছাড়া, তিনি পশ্চিমে হিন্দু-আরবি সংখ্যা পদ্ধতি (শূন্যের ধারণা সহ) এবং বীজগণিত বা ‘অ্যালজেব্রা’র ভিত্তি স্থাপনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। পিটজার কলেজের বিজ্ঞান ইতিহাসের অধ্যাপক জুডি গ্র্যাবাইনার বলেন, দ্বাদশ শতকে ইউরোপে প্রাচীন জ্ঞানচর্চার পুনর্জাগরণ ঘটলে এই বইটি একাধিকবার ল্যাটিন ভাষায় অনূদিত হয়েছিল, যা তার জ্ঞানকে আরও ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনৈতিক ও মানবাধিকার বিতর্ক ছাপিয়ে শুরু হলো বিশ্বকাপ, নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি আয়োজকরা

গণিতবিদের নামেই লুকিয়ে আছে ‘অ্যালগরিদম’ শব্দের রহস্য

আপডেট সময় : ০৯:৫৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

আধুনিক জীবনে ‘অ্যালগরিদম’ শব্দটি বহুলভাবে ব্যবহৃত হলেও অনেকের কাছে এটি এক ভীতিকর বা নেতিবাচক ধারণা তৈরি করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমরা কী দেখব, পড়ব বা শুনব, তা নির্ধারণে এই অ্যালগরিদম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর ফলে মানুষের নিজস্ব পছন্দ-অপছন্দ আরও দৃঢ় হয় এবং এক ধরনের আদর্শিক একঘেয়েমি বা ‘ইকো চেম্বার’ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

শব্দটির গুরুত্ব এতটাই যে, পোপ লিও চতুর্দশ তার প্রথম বিশ্বপত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে আলোচনায় ‘অ্যালগরিদম’ শব্দটি ১৯ বার ব্যবহার করেছেন।

কিন্তু এই বহুল প্রচলিত শব্দের উৎপত্তি কোথায়? এটি জানা যায়, নবম শতকের একজন বিখ্যাত পার্সিয়ান (পারস্যের) গণিতবিদের নাম থেকে। তার নাম ছিল মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খাওয়ারিজমি। জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেল ‘রবওয়ার্ডস’-এর সঞ্চালক ও সাংবাদিক রব ওয়াটস জানান, আমরা যখন ‘অ্যালগরিদম’ শব্দটি ব্যবহার করি, তখন আসলে আল-খাওয়ারিজমি নামের ল্যাটিন রূপটিকেই উচ্চারণ করি। দ্বাদশ শতাব্দী পেরিয়ে আজকের ‘অ্যালগরিদম’ রূপে পৌঁছানোর পথটি ছিল বেশ দীর্ঘ ও জটিল। আধুনিক শব্দটি ল্যাটিন ‘অ্যালগোরিজমাস’ থেকে ফরাসি ‘অ্যালগরিজম’ এবং ইংরেজি ‘অ্যালগরিজম’ হয়ে বর্তমান রূপে এসেছে। এর আগে এটি ‘অ্যারিথমেটিক’ বা পাটিগণিত শব্দের সঙ্গেও কিছুটা মিশে গিয়েছিল।

মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খাওয়ারিজমি ছিলেন কেবল একজন গণিতবিদই নন, তিনি ছিলেন একজন প্রতিভাবান জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও ভূগোলবিদও। বর্তমান উজবেকিস্তানের আরাল সাগরের দক্ষিণ অঞ্চলের ‘খাওয়ারিজম’ নামক স্থান থেকে তার নামের এই অংশটি এসেছে। গণিতে তার সবচেয়ে বড় অবদান হলো ‘দ্য কম্পেনডিয়াস বুক অন ক্যালকুলেশন বাই কমপ্লিশন অ্যান্ড ব্যালেন্সিং’ নামক বিখ্যাত বই, যার মাধ্যমে তিনি গাণিতিক সমস্যা সমাধানের পদ্ধতি বা অ্যালগরিদমিক প্রক্রিয়ার ধারণা দেন। এছাড়া, তিনি পশ্চিমে হিন্দু-আরবি সংখ্যা পদ্ধতি (শূন্যের ধারণা সহ) এবং বীজগণিত বা ‘অ্যালজেব্রা’র ভিত্তি স্থাপনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। পিটজার কলেজের বিজ্ঞান ইতিহাসের অধ্যাপক জুডি গ্র্যাবাইনার বলেন, দ্বাদশ শতকে ইউরোপে প্রাচীন জ্ঞানচর্চার পুনর্জাগরণ ঘটলে এই বইটি একাধিকবার ল্যাটিন ভাষায় অনূদিত হয়েছিল, যা তার জ্ঞানকে আরও ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে।