ঢাকা ১১:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

রাজনৈতিক ও মানবাধিকার বিতর্ক ছাপিয়ে শুরু হলো বিশ্বকাপ, নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি আয়োজকরা

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে শুরু হয়েছে ফুটবল বিশ্বকাপ। জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও আতশবাজির রোশনাইয়ের মধ্যে দিয়ে এই মহোৎসবের পর্দা উঠলেও, আয়োজক দেশগুলোকে ঘিরে থাকা রাজনৈতিক, মানবাধিকার ও বাণিজ্যিক বিতর্কগুলো রয়েই গেছে। ২০১৮ সালে এই তিন দেশকে যৌথ আয়োজক হিসেবে নির্বাচন করার সময় ফিফা ‘নিম্ন ঝুঁকি’ এবং ‘পরিচালনাগতভাবে সবচেয়ে নিরাপদ’ হিসেবে উল্লেখ করেছিল। ১৪ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড আয়ের একটি বড় লক্ষ্যও ছিল ফিফার। যদিও বর্তমানে সম্ভাব্য আয় ১১ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি এসে দাঁড়িয়েছে।

তবে টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই একের পর এক ঘটনা বিশ্বকাপকে ঘিরে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সবচেয়ে বড় বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যেকার রাজনৈতিক সংঘাত। বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী একটি দেশের বিরুদ্ধে আয়োজক দেশের সামরিক অভিযান বিশ্বকাপ ইতিহাসে নজিরবিহীন। এই সংঘাতের জেরে ইরানি কর্মকর্তাদের ভিসা জটিলতা, দলীয় প্রস্তুতিতে বাধা এবং নিরাপত্তা উদ্বেগ বিশ্বকাপকে এক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি করেছে। অনেক পর্যবেক্ষকের মতে, এমন পরিস্থিতি অন্য কোনো আয়োজক দেশের ক্ষেত্রে দেখা গেলে বিশ্বকাপ সরিয়ে নেওয়ার দাবি উঠতে পারত।

সংকট শুধু এখানেই থেমে নেই। বিশ্বকাপ শুরুর আগে বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও ম্যাচ অফিসিয়ালদের ভিসা জটিলতাও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সোমালিয়ার রেফারি ওমর আরতান এবং কয়েকজন ইরানি কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাননি। এছাড়া ইরাক, সেনেগাল ও উজবেকিস্তানের প্রতিনিধিদেরও অতিরিক্ত নিরাপত্তা যাচাইয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছে। বিশ্বকাপ আয়োজনের অন্যতম শর্ত হলো অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা। তাই এসব ঘটনা ফিফার অবস্থান এবং আয়োজক দেশের দায়িত্ব নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, ফিফা রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে এবং আয়োজক দেশের রাজনৈতিক প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনৈতিক ও মানবাধিকার বিতর্ক ছাপিয়ে শুরু হলো বিশ্বকাপ, নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি আয়োজকরা

রাজনৈতিক ও মানবাধিকার বিতর্ক ছাপিয়ে শুরু হলো বিশ্বকাপ, নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি আয়োজকরা

আপডেট সময় : ০৯:৫৮:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে শুরু হয়েছে ফুটবল বিশ্বকাপ। জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও আতশবাজির রোশনাইয়ের মধ্যে দিয়ে এই মহোৎসবের পর্দা উঠলেও, আয়োজক দেশগুলোকে ঘিরে থাকা রাজনৈতিক, মানবাধিকার ও বাণিজ্যিক বিতর্কগুলো রয়েই গেছে। ২০১৮ সালে এই তিন দেশকে যৌথ আয়োজক হিসেবে নির্বাচন করার সময় ফিফা ‘নিম্ন ঝুঁকি’ এবং ‘পরিচালনাগতভাবে সবচেয়ে নিরাপদ’ হিসেবে উল্লেখ করেছিল। ১৪ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড আয়ের একটি বড় লক্ষ্যও ছিল ফিফার। যদিও বর্তমানে সম্ভাব্য আয় ১১ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি এসে দাঁড়িয়েছে।

তবে টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই একের পর এক ঘটনা বিশ্বকাপকে ঘিরে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সবচেয়ে বড় বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যেকার রাজনৈতিক সংঘাত। বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী একটি দেশের বিরুদ্ধে আয়োজক দেশের সামরিক অভিযান বিশ্বকাপ ইতিহাসে নজিরবিহীন। এই সংঘাতের জেরে ইরানি কর্মকর্তাদের ভিসা জটিলতা, দলীয় প্রস্তুতিতে বাধা এবং নিরাপত্তা উদ্বেগ বিশ্বকাপকে এক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি করেছে। অনেক পর্যবেক্ষকের মতে, এমন পরিস্থিতি অন্য কোনো আয়োজক দেশের ক্ষেত্রে দেখা গেলে বিশ্বকাপ সরিয়ে নেওয়ার দাবি উঠতে পারত।

সংকট শুধু এখানেই থেমে নেই। বিশ্বকাপ শুরুর আগে বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও ম্যাচ অফিসিয়ালদের ভিসা জটিলতাও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সোমালিয়ার রেফারি ওমর আরতান এবং কয়েকজন ইরানি কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাননি। এছাড়া ইরাক, সেনেগাল ও উজবেকিস্তানের প্রতিনিধিদেরও অতিরিক্ত নিরাপত্তা যাচাইয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছে। বিশ্বকাপ আয়োজনের অন্যতম শর্ত হলো অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা। তাই এসব ঘটনা ফিফার অবস্থান এবং আয়োজক দেশের দায়িত্ব নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, ফিফা রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে এবং আয়োজক দেশের রাজনৈতিক প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার করেছে।