রংপুরের পীরগাছায় মানবপাচার চক্রের কবলে পড়ে আইভরি কোস্টে সানোয়ার হোসেন নামে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় প্রাণে বেঁচে দেশে ফিরেছেন একই এলাকার জব্বার মিয়া। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে আইভরি কোস্টে নিয়ে গিয়ে সেখানে একটি মানবপাচারকারী চক্র নির্মম নির্যাতন চালিয়েছে, যার শিকার হয়ে সানোয়ার প্রাণ হারান।
পীরগাছা উপজেলার পশুয়া টাঙ্গাইলপাড়া এলাকার আব্দুর রহমান মিয়া ও তার ছেলে জাইদুর রহমান ওরফে রিয়াদ এলাকায় প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন যে, তারা আইভরি কোস্টে লোক পাঠাতে পারেন এবং সেখানে গিয়ে অনেকেই আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তাদের কথায় বিশ্বাস করে কাউনিয়া উপজেলার গোড়াই গ্রামের জব্বার মিয়া এবং পীরগাছা উপজেলার পশুয়া খাঁপাড়া গ্রামের সানোয়ার হোসেন বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। জনপ্রতি সাত লাখ টাকা চুক্তিতে মোট ১৪ লাখ টাকা তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রহমান ট্রেডার্সে পরিশোধ করা হয়।
সানোয়ার হোসেন প্রায় ১০ বছর ধরে ভ্যান চালিয়ে ও ভাঙারির ব্যবসা করে সংসার চালাতেন। তার পরিবারে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। সংসারের অভাব দূর করার স্বপ্ন নিয়েই তিনি বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি তারা বাংলাদেশ থেকে আইভরি কোস্টের উদ্দেশ্যে রওনা হন এবং পরদিন সেখানে পৌঁছান। তবে সেখানে পৌঁছে তারা জানতে পারেন যে, চাকরির কোনো ব্যবস্থা নেই, বরং অপেক্ষা করছে এক অন্ধকার বাস্তবতা।
অভিযোগ রয়েছে, কুমিল্লা অঞ্চলের ‘রাজু’ নামে এক দালাল বিমানবন্দর থেকে তাদের গ্রহণ করে একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে একটি পরিত্যক্ত বাড়ির অন্ধকার কক্ষে তাদের আটকে রাখা হয়। সেখানে আগে থেকেই কয়েকজন বাংলাদেশি দালাল অবস্থান করছিল। ভুক্তভোগীদের কোনো কাজ দেওয়া হয়নি, বরং তাদের জিম্মি করে পরিবারের কাছ থেকে টাকা আদায়ের চেষ্টা শুরু হয়। জব্বার মিয়া জানান, তার চোখের সামনেই সানোয়ারকে নির্মম নির্যাতন করা হয় এবং একপর্যায়ে তিনি মারা যান।
রিপোর্টারের নাম 























