ঢাকা ১১:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে নতুন বাজেট: বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের মতো বিষয়গুলোকে সমন্বিতভাবে মোকাবিলার প্রচেষ্টা দেখা গেছে। আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি সাত দশমিক পাঁচ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছয় দশমিক পাঁচ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে ২০৩০-৩১ অর্থবছরের মধ্যে মূল্যস্ফীতি পাঁচ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজেট বক্তৃতায় স্বীকার করা হয়েছে যে, টাকার অবমূল্যায়ন, উচ্চ বিনিময় হার, আমদানিনির্ভরতা এবং মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে জ্বালানি, এলএনজি ও সারের মূল্যবৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করেছে। এসব বাস্তবতা স্বীকার করা নিঃসন্দেহে বাজেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। এসব লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে সরকার বাজেটকে কেবল ব্যয়ের পরিকল্পনা হিসেবে নয়, বরং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি নীতিগত রূপরেখা হিসেবে উপস্থাপন করেছে।

বিনিয়োগ ও শিল্পায়নকে উৎসাহিত করতে বাজেটে বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ব্যবসা পরিচালনা সহজ করতে সরকার ‘বাংলাবিজ’ নামে একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে। বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণের লক্ষ্যে সম্ভাবনাময় ১৯টি খাতকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি এফডিআই হিট ম্যাপ প্রণয়ন করা হয়েছে।

এছাড়া, পটুয়াখালী ও যশোরে নতুন রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) স্থাপন করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে প্রায় আড়াই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, চাঁদপুর ও কুষ্টিয়ায় নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা আঞ্চলিক শিল্পায়নকে ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করবে।

এছাড়া কৃষিপণ্য, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, ওষুধ, ইলেকট্রনিকস, স্বর্ণ ও হীরাসহ সম্পূর্ণ রপ্তানিমুখী খাতগুলোর জন্য বন্ডেড গুদাম সুবিধা অথবা ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে শুল্কমুক্ত আমদানির প্রস্তাব করা হয়েছে। এই উদ্যোগ বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বাজেটের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ জোরদার করার লক্ষ্যে ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার ‘স্টিমুলাস প্যাকেজ-২০২৬’।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনৈতিক ও মানবাধিকার বিতর্ক ছাপিয়ে শুরু হলো বিশ্বকাপ, নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি আয়োজকরা

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে নতুন বাজেট: বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ

আপডেট সময় : ০৯:৫৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের মতো বিষয়গুলোকে সমন্বিতভাবে মোকাবিলার প্রচেষ্টা দেখা গেছে। আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি সাত দশমিক পাঁচ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছয় দশমিক পাঁচ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে ২০৩০-৩১ অর্থবছরের মধ্যে মূল্যস্ফীতি পাঁচ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজেট বক্তৃতায় স্বীকার করা হয়েছে যে, টাকার অবমূল্যায়ন, উচ্চ বিনিময় হার, আমদানিনির্ভরতা এবং মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে জ্বালানি, এলএনজি ও সারের মূল্যবৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করেছে। এসব বাস্তবতা স্বীকার করা নিঃসন্দেহে বাজেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। এসব লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে সরকার বাজেটকে কেবল ব্যয়ের পরিকল্পনা হিসেবে নয়, বরং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি নীতিগত রূপরেখা হিসেবে উপস্থাপন করেছে।

বিনিয়োগ ও শিল্পায়নকে উৎসাহিত করতে বাজেটে বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ব্যবসা পরিচালনা সহজ করতে সরকার ‘বাংলাবিজ’ নামে একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে। বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণের লক্ষ্যে সম্ভাবনাময় ১৯টি খাতকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি এফডিআই হিট ম্যাপ প্রণয়ন করা হয়েছে।

এছাড়া, পটুয়াখালী ও যশোরে নতুন রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) স্থাপন করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে প্রায় আড়াই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, চাঁদপুর ও কুষ্টিয়ায় নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা আঞ্চলিক শিল্পায়নকে ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করবে।

এছাড়া কৃষিপণ্য, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, ওষুধ, ইলেকট্রনিকস, স্বর্ণ ও হীরাসহ সম্পূর্ণ রপ্তানিমুখী খাতগুলোর জন্য বন্ডেড গুদাম সুবিধা অথবা ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে শুল্কমুক্ত আমদানির প্রস্তাব করা হয়েছে। এই উদ্যোগ বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বাজেটের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ জোরদার করার লক্ষ্যে ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার ‘স্টিমুলাস প্যাকেজ-২০২৬’।