ইসলামের স্বর্ণযুগে, খলিফা আবু বকরের (রা.) শাসনামলে, পারস্যের গুরুত্বপূর্ণ নগরী হীরা বিজয়ের ঘটনা মুসলিম বাহিনীর বীরত্ব ও কৌশলের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। উল্লাইসের যুদ্ধ সমাপ্তির পর সেনাপতি খালেদ ইবনে ওয়ালিদ (রা.) আমগেশিয়ার দিকে অগ্রসর হন। তার আকস্মিক আগমনে সেখানকার অধিবাসীরা প্রতিরোধের সুযোগ পায়নি এবং নগরী ত্যাগ করে সাওয়াদে (ইরাকের উর্বর কৃষি-অঞ্চল) ছড়িয়ে পড়ে।
খালেদ (রা.) আমগেশিয়া এবং তার আওতাভুক্ত সকল স্থাপনা ধ্বংস করার নির্দেশ দেন। আমগেশিয়া ছিল হীরা নগরীর মতোই একটি সমৃদ্ধশালী শহর, যা ফুরাত বাদাকলির (ফোরাতের একটি শাখা নদী বা খাল) তীরে অবস্থিত ছিল। উল্লাইস ছিল আমগেশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত প্রতিরক্ষাকেন্দ্র। এই অভিযানে মুসলমানরা বিপুল পরিমাণ গনিমত লাভ করে, যা তাদের পূর্বের যেকোনো অভিযানের চেয়ে বেশি ছিল। বীরত্বের পুরস্কার হিসেবে প্রাপ্ত সম্পদ ছাড়াও, প্রতিজন অশ্বারোহী যোদ্ধা ১ হাজার ৫০০ দিরহাম পেয়েছিল।
আমগেশিয়া বিজয়ের সংবাদ মদিনায় পৌঁছালে খলিফা আবু বকর (রা.) কুরাইশদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমাদের বীর সিংহ আরেক সিংহের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে এবং তার গুহায় তাকে পরাস্ত করেছে। নারীরা কি আর খালিদের মতো কাউকে জন্ম দিতে পারবে?’
কিসরার যুগ থেকে আজাজবে ছিলেন হীরার মারজুবান (সীমান্তপ্রধান), যিনি উচ্চমর্যাদার অধিকারী ছিলেন। খালেদ (রা.) যখন আমগেশিয়া ধ্বংস করেন, তখন সেখানকার অধিবাসীরা গ্রামাঞ্চলের দেহকানদের (স্থানীয় ভূস্বামী) কাছে আশ্রয় নেয়। আজাজবে বুঝতে পারেন যে তাকেও ছাড় দেওয়া হবে না, তাই তিনি মুসলিম সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। তিনি অগ্রগামী বাহিনী হিসেবে ছেলেকে এবং পরে নিজেও হীরার বাইরে শিবির স্থাপন করেন। তিনি ছেলেকে ফোরাত নদীতে বাঁধ দিয়ে পানির প্রবাহ বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেন। অন্যদিকে, খালেদ (রা.) আমগেশিয়া থেকে হীরার উদ্দেশে যাত্রা করেন এবং গনিমত ও ভারী মালপত্র নৌকায় বোঝাই করে নদীপথে পাঠান। তবে পানিস্বল্পতার কারণে নৌকাগুলো আটকে গেলে মুসলমানরা কিছুটা বিচলিত হয়ে পড়ে।
রিপোর্টারের নাম 
























