চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানার লকআপে থাকা এক যুবলীগ কর্মীর পরিবার ও দলীয় কর্মীদের সঙ্গে কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ভিডিওটিতে, আটককৃত যুবলীগ কর্মী মো. শুক্কুরকে থানার লকআপে থেকে বাইরের লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় এবং তিনি ওসি ও সেকেন্ড অফিসারের সঙ্গে ব্যক্তিগত পরিচয়ের দাবি করে সুবিধা পাওয়ার আশ্বাস দেন। এই ঘটনা পুলিশের নিরপেক্ষতা ও থানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে।
গত শনিবার শুক্কুরকে জনতা আটক করে থানায় সোপর্দ করে। সোমবার ভিডিওটি ভাইরাল হলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে শুক্কুরকে বলতে শোনা যায়, ‘ওসি আফতাব ভাই’ ও ‘সেকেন্ড অফিসার নওশাদ’ তার পরিচিত এবং তাদের পক্ষ থেকে কোনো অসুবিধা হবে না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোতোয়ালি থানার ওসি আফতাব উদ্দিন বলেন, পরিবারের সদস্যরা দেখা করতে এলে কেউ একজন ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, আসামিরা অনেক ধরনের কথাবার্তা বলে থাকে এবং এর দায় পুলিশ নেবে না।
আইন ও বিধি অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া এবং নিকটাত্মীয়দের কাছে গ্রেপ্তারের তথ্য জানানো ও সীমিত পরিসরে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে, লকআপে থাকা কোনো আসামির সঙ্গে বাইরের লোকজনের অবাধ যোগাযোগ বা অনিয়ন্ত্রিত সাক্ষাতের সুযোগ নেই। পুলিশের অভ্যন্তরীণ বিধি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় কোনো সাক্ষাৎ হলে তা সাধারণত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অনুমতি ও তদারকিতে হয়ে থাকে। কোনো আসামি লকআপের ভেতর থেকে ইচ্ছামতো লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন বা দীর্ঘ সময় আলাপ করবেন—এমন সুযোগ নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আইনবিদ ও মানবাধিকার সংগঠকরা মনে করেন, এমন বক্তব্য জনমনে পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 






















