ঢাকা ০৭:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত, নির্বাচনি মৌসুমে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪৮:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতির গতি এবং বৈদেশিক খাতের চাপ বিবেচনায় নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, সামনে জাতীয় নির্বাচন ও রমজান মাসে ভোক্তা চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা থাকায় সাময়িকভাবে মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।

মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের সভাপতিত্বে মুদ্রানীতি কমিটির (এমপিসি) বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় অংশ নেন ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান, চিফ ইকোনমিস্ট ড. মোহাম্মদ আখতার হোসেন, বিআইডিএস মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাসুদা ইয়াসমিন, নির্বাহী পরিচালক ড. মো. এজাজুল ইসলাম এবং সদস্য-সচিব মাহমুদ সালাহউদ্দিন নাসের।

মূল্যস্ফীতি কমলেও ঝুঁকি রয়ে গেছে

এমপিসির মূল্যায়নে দেখা যায়, দেশে মূল্যস্ফীতি ধীরে ধীরে কমছে। সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ সার্বিক মূল্যস্ফীতি নেমে এসেছে ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশে—যা সাম্প্রতিক সময়ে ইতিবাচক অগ্রগতি। তবে কিছু এলাকায় খাদ্যপণ্যের সরবরাহ ব্যাঘাতের কারণে দাম বাড়ার ঝুঁকি রয়ে গেছে।

ব্যাংকিং খাত ও বৈদেশিক খাতের চিত্র

রিপোর্টে জানানো হয়, আন্তঃব্যাংক কলমানি ও রেপো হার সামান্য কমেছে। সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ বাড়ায় সুদের চাপে কিছুটা স্বস্তি এসেছে। অন্যদিকে জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অনিশ্চয়তার কারণে বেসরকারি খাতে ঋণ চাহিদা কমে গেছে।

বৈদেশিক খাতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি মাঝারি থাকলেও আমদানি বেড়েছে। রমজানকে সামনে রেখে জরুরি পণ্যের এলসি মার্জিন শিথিল করায় এই আমদানি বৃদ্ধি প্রত্যাশিত বলে জানায় কমিটি। একই সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহও সন্তোষজনক ছিল।

আবহাওয়াজনিত কারণে আমন ধানের ক্ষতি, নির্বাচন, রমজান এবং নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণার সম্ভাব্য প্রভাবে মূল্যস্ফীতিতে বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়।

নীতি সুদহার অপরিবর্তিত

সবকিছু বিবেচনায় মুদ্রানীতি কমিটি নীতি সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। পাশাপাশি এসডিএফ হার ৮ শতাংশ এবং এসএলএফ হার ১১ দশমিক ৫ শতাংশই থাকবে।

এমপিসি জানায়, প্রকৃত নীতিগত সুদহার ৩ শতাংশে পৌঁছানো পর্যন্ত কঠোর মুদ্রানীতি অব্যাহত থাকবে। সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই নীতি বজায় রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিরোধী সংসদীয় এলাকায় নারী এমপিদের উন্নয়ন তদারকি: প্রধানমন্ত্রীর ব্যাখ্যা

নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত, নির্বাচনি মৌসুমে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা

আপডেট সময় : ১১:৪৮:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতির গতি এবং বৈদেশিক খাতের চাপ বিবেচনায় নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, সামনে জাতীয় নির্বাচন ও রমজান মাসে ভোক্তা চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা থাকায় সাময়িকভাবে মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।

মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের সভাপতিত্বে মুদ্রানীতি কমিটির (এমপিসি) বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় অংশ নেন ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান, চিফ ইকোনমিস্ট ড. মোহাম্মদ আখতার হোসেন, বিআইডিএস মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাসুদা ইয়াসমিন, নির্বাহী পরিচালক ড. মো. এজাজুল ইসলাম এবং সদস্য-সচিব মাহমুদ সালাহউদ্দিন নাসের।

মূল্যস্ফীতি কমলেও ঝুঁকি রয়ে গেছে

এমপিসির মূল্যায়নে দেখা যায়, দেশে মূল্যস্ফীতি ধীরে ধীরে কমছে। সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ সার্বিক মূল্যস্ফীতি নেমে এসেছে ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশে—যা সাম্প্রতিক সময়ে ইতিবাচক অগ্রগতি। তবে কিছু এলাকায় খাদ্যপণ্যের সরবরাহ ব্যাঘাতের কারণে দাম বাড়ার ঝুঁকি রয়ে গেছে।

ব্যাংকিং খাত ও বৈদেশিক খাতের চিত্র

রিপোর্টে জানানো হয়, আন্তঃব্যাংক কলমানি ও রেপো হার সামান্য কমেছে। সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ বাড়ায় সুদের চাপে কিছুটা স্বস্তি এসেছে। অন্যদিকে জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অনিশ্চয়তার কারণে বেসরকারি খাতে ঋণ চাহিদা কমে গেছে।

বৈদেশিক খাতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি মাঝারি থাকলেও আমদানি বেড়েছে। রমজানকে সামনে রেখে জরুরি পণ্যের এলসি মার্জিন শিথিল করায় এই আমদানি বৃদ্ধি প্রত্যাশিত বলে জানায় কমিটি। একই সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহও সন্তোষজনক ছিল।

আবহাওয়াজনিত কারণে আমন ধানের ক্ষতি, নির্বাচন, রমজান এবং নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণার সম্ভাব্য প্রভাবে মূল্যস্ফীতিতে বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়।

নীতি সুদহার অপরিবর্তিত

সবকিছু বিবেচনায় মুদ্রানীতি কমিটি নীতি সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। পাশাপাশি এসডিএফ হার ৮ শতাংশ এবং এসএলএফ হার ১১ দশমিক ৫ শতাংশই থাকবে।

এমপিসি জানায়, প্রকৃত নীতিগত সুদহার ৩ শতাংশে পৌঁছানো পর্যন্ত কঠোর মুদ্রানীতি অব্যাহত থাকবে। সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই নীতি বজায় রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।