ঢাকা ০৫:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আবাসন খাতে সহায়ক করনীতি: অর্থনীতির সকল স্তরে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আবাসন খাত কেবল একটি ব্যবসায়িক ক্ষেত্র নয়, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পায়ন, বিনিয়োগ এবং রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। প্রায় ২৬৯টি শিল্প ও সেবা খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত এই খাত দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। তবে, বর্তমানে উচ্চ সুদের হার, নির্মাণ সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি, ফ্ল্যাট নিবন্ধনের অতিরিক্ত ব্যয় এবং কর ও ভ্যাটের চাপের কারণে আবাসন খাত নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। এই প্রেক্ষাপটে, জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ ঘোষণার প্রাক্কালে রিহ্যাবের সভাপতি ড. আলী আফজাল আবাসন খাতের প্রত্যাশা, সম্ভাবনা, বিদ্যমান সংকট এবং করণীয় বিষয়ে আলোকপাত করেছেন।

ড. আলী আফজাল বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় আবাসন খাতকে টেকসই ও গতিশীল রাখতে কিছু নীতিগত সহায়তা অত্যন্ত জরুরি। তাঁর প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ফ্ল্যাট নিবন্ধন ব্যয় কমানো, আবাসন ঋণে এক অঙ্কের সুদ নিশ্চিত করা, মধ্যবিত্তের জন্য বিশেষ গৃহঋণ তহবিল গঠন, নির্মাণ সামগ্রীর ওপর কর হ্রাস, আবাসন খাতে অতিরিক্ত কর ও ভ্যাটের বোঝা কমানো এবং প্রবাসী ও দেশীয় বিনিয়োগ উৎসাহিত করা। তিনি স্পষ্ট করেন যে, তারা কোনো বিশেষ সুবিধা চান না, বরং এমন একটি নীতিগত পরিবেশ চান যা সাধারণ মানুষের আবাসন প্রাপ্তি সহজ করবে এবং একই সঙ্গে অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাতকে সচল রাখবে।

তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন যে, আবাসন খাতকে কেবল একটি ব্যবসায়িক খাত হিসেবে দেখলে ভুল হবে। একটি ভবন নির্মাণের সঙ্গে রড, সিমেন্ট, ইট, কাচ, সিরামিক, লিফট, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, পরিবহন, ব্যাংকিং, বীমা, স্থাপত্য ও প্রকৌশল সেবাসহ শত শত শিল্প ও সেবা খাত জড়িত। একটি ফ্ল্যাট বিক্রির মাধ্যমে যে অর্থ প্রবাহিত হয়, তা পর্যায়ক্রমে অসংখ্য খাতে ছড়িয়ে পড়ে। অর্থনীতিতে এই বহুমাত্রিক প্রভাবের কারণেই আবাসন খাতকে ‘মাল্টিপ্লায়ার ইফেক্ট’ সৃষ্টিকারী খাত বলা হয়। আবাসন খাত সচল থাকলে শিল্প সচল থাকে, কর্মসংস্থান বাড়ে, রাজস্ব বাড়ে এবং সামগ্রিক অর্থনীতি গতিশীল হয়। ফ্ল্যাট নিবন্ধন ব্যয় কমানোর দাবি বারবার উত্থাপিত হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এটি ফ্ল্যাট ক্রয়ের একটি বড় অংশ এবং এটি কমানো হলে ক্রেতাদের ওপর চাপ কমবে ও লেনদেন বাড়বে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় সংকট মোকাবিলায় সাংবাদিকদের ভূমিকার গুরুত্ব অপরিসীম: সেলিম উদ্দিন

আবাসন খাতে সহায়ক করনীতি: অর্থনীতির সকল স্তরে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে

আপডেট সময় : ০৪:০৬:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আবাসন খাত কেবল একটি ব্যবসায়িক ক্ষেত্র নয়, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পায়ন, বিনিয়োগ এবং রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। প্রায় ২৬৯টি শিল্প ও সেবা খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত এই খাত দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। তবে, বর্তমানে উচ্চ সুদের হার, নির্মাণ সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি, ফ্ল্যাট নিবন্ধনের অতিরিক্ত ব্যয় এবং কর ও ভ্যাটের চাপের কারণে আবাসন খাত নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। এই প্রেক্ষাপটে, জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ ঘোষণার প্রাক্কালে রিহ্যাবের সভাপতি ড. আলী আফজাল আবাসন খাতের প্রত্যাশা, সম্ভাবনা, বিদ্যমান সংকট এবং করণীয় বিষয়ে আলোকপাত করেছেন।

ড. আলী আফজাল বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় আবাসন খাতকে টেকসই ও গতিশীল রাখতে কিছু নীতিগত সহায়তা অত্যন্ত জরুরি। তাঁর প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ফ্ল্যাট নিবন্ধন ব্যয় কমানো, আবাসন ঋণে এক অঙ্কের সুদ নিশ্চিত করা, মধ্যবিত্তের জন্য বিশেষ গৃহঋণ তহবিল গঠন, নির্মাণ সামগ্রীর ওপর কর হ্রাস, আবাসন খাতে অতিরিক্ত কর ও ভ্যাটের বোঝা কমানো এবং প্রবাসী ও দেশীয় বিনিয়োগ উৎসাহিত করা। তিনি স্পষ্ট করেন যে, তারা কোনো বিশেষ সুবিধা চান না, বরং এমন একটি নীতিগত পরিবেশ চান যা সাধারণ মানুষের আবাসন প্রাপ্তি সহজ করবে এবং একই সঙ্গে অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাতকে সচল রাখবে।

তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন যে, আবাসন খাতকে কেবল একটি ব্যবসায়িক খাত হিসেবে দেখলে ভুল হবে। একটি ভবন নির্মাণের সঙ্গে রড, সিমেন্ট, ইট, কাচ, সিরামিক, লিফট, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, পরিবহন, ব্যাংকিং, বীমা, স্থাপত্য ও প্রকৌশল সেবাসহ শত শত শিল্প ও সেবা খাত জড়িত। একটি ফ্ল্যাট বিক্রির মাধ্যমে যে অর্থ প্রবাহিত হয়, তা পর্যায়ক্রমে অসংখ্য খাতে ছড়িয়ে পড়ে। অর্থনীতিতে এই বহুমাত্রিক প্রভাবের কারণেই আবাসন খাতকে ‘মাল্টিপ্লায়ার ইফেক্ট’ সৃষ্টিকারী খাত বলা হয়। আবাসন খাত সচল থাকলে শিল্প সচল থাকে, কর্মসংস্থান বাড়ে, রাজস্ব বাড়ে এবং সামগ্রিক অর্থনীতি গতিশীল হয়। ফ্ল্যাট নিবন্ধন ব্যয় কমানোর দাবি বারবার উত্থাপিত হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এটি ফ্ল্যাট ক্রয়ের একটি বড় অংশ এবং এটি কমানো হলে ক্রেতাদের ওপর চাপ কমবে ও লেনদেন বাড়বে।