ঢাকা ০৬:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

বিমান ও পর্যটন খাতের নীতিগত সহায়তার দাবি: বাজেট প্রণয়নে বিশেষ গুরুত্বের আহ্বান

বাংলাদেশের বিমান চলাচল ও পর্যটন শিল্প খাত দুটি সরকারি বরাদ্দের বাইরে গিয়ে একটি সুসংহত নীতি কাঠামোর দাবি জানাচ্ছে। বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রথম জাতীয় বাজেট পেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে, এমন সময়ে এই খাতগুলোর উদ্যোক্তারা মনে করছেন, একটি কার্যকর নীতি কাঠামো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই দুটি খাতকে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তিতে রূপান্তরিত করতে সক্ষম।

বিমান চলাচল খাতের নেতারা প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি এবং বিমান ভাড়া কমানোর লক্ষ্যে জেট ফুয়েল, বিমান লিজ এবং এয়ারলাইন পরিচালনার ওপর কর ছাড়ের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, পর্যটন উদ্যোক্তারা এই খাতের বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বহু প্রতীক্ষিত জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, বিনিয়োগ প্রণোদনা বৃদ্ধি এবং শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার ওপর জোর দিয়েছেন।

পর্যটন উদ্যোক্তা ও নীতি বিশেষজ্ঞরা আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন। এই ইশতেহারে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক বিমান চলাচল কেন্দ্র এবং বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতামূলক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিমান চলাচল শিল্পের প্রধান উদ্বেগ হলো পরিচালন ব্যয়। যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বিমানবন্দরে বিনিয়োগ সত্ত্বেও, বিমান সংস্থাগুলোর পরিচালকদের মতে, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সর্বোচ্চ কর আরোপিত বিমান চলাচল বাজার। এটি স্থানীয় বিমান সংস্থাগুলোর প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাকে সীমিত করে এবং বিমানভাড়া উচ্চ রাখে।

অ্যাভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এওএবি) মহাসচিব ও নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান বলেন, জেট ফুয়েলের প্রতিটি মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি বিমান সংস্থাগুলোর কার্যক্রম এবং টিকিটের মূল্যকে প্রভাবিত করে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি বাংলাদেশেও জেট ফুয়েলের ওপর করের বোঝা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শিল্প খাতের হিসাব অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ বিমান সংস্থাগুলোর জন্য জ্বালানি-সংক্রান্ত কর ও শুল্ক এখনো অন্যতম বৃহত্তম পরিচালন ব্যয়। তাই বিমান সংস্থাগুলো সরকারকে জেট ফুয়েলের ওপর ভ্যাট ছাড়, বিমান লিজ ও রক্ষণাবেক্ষণের ওপর কর হ্রাস এবং বিমান চলাচল-সংক্রান্ত শুল্ক শিথিল করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় সংকট মোকাবিলায় সাংবাদিকদের ভূমিকার গুরুত্ব অপরিসীম: সেলিম উদ্দিন

বিমান ও পর্যটন খাতের নীতিগত সহায়তার দাবি: বাজেট প্রণয়নে বিশেষ গুরুত্বের আহ্বান

আপডেট সময় : ১১:৩৭:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

বাংলাদেশের বিমান চলাচল ও পর্যটন শিল্প খাত দুটি সরকারি বরাদ্দের বাইরে গিয়ে একটি সুসংহত নীতি কাঠামোর দাবি জানাচ্ছে। বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রথম জাতীয় বাজেট পেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে, এমন সময়ে এই খাতগুলোর উদ্যোক্তারা মনে করছেন, একটি কার্যকর নীতি কাঠামো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই দুটি খাতকে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তিতে রূপান্তরিত করতে সক্ষম।

বিমান চলাচল খাতের নেতারা প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি এবং বিমান ভাড়া কমানোর লক্ষ্যে জেট ফুয়েল, বিমান লিজ এবং এয়ারলাইন পরিচালনার ওপর কর ছাড়ের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, পর্যটন উদ্যোক্তারা এই খাতের বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বহু প্রতীক্ষিত জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, বিনিয়োগ প্রণোদনা বৃদ্ধি এবং শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার ওপর জোর দিয়েছেন।

পর্যটন উদ্যোক্তা ও নীতি বিশেষজ্ঞরা আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন। এই ইশতেহারে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক বিমান চলাচল কেন্দ্র এবং বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতামূলক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিমান চলাচল শিল্পের প্রধান উদ্বেগ হলো পরিচালন ব্যয়। যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বিমানবন্দরে বিনিয়োগ সত্ত্বেও, বিমান সংস্থাগুলোর পরিচালকদের মতে, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সর্বোচ্চ কর আরোপিত বিমান চলাচল বাজার। এটি স্থানীয় বিমান সংস্থাগুলোর প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাকে সীমিত করে এবং বিমানভাড়া উচ্চ রাখে।

অ্যাভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এওএবি) মহাসচিব ও নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান বলেন, জেট ফুয়েলের প্রতিটি মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি বিমান সংস্থাগুলোর কার্যক্রম এবং টিকিটের মূল্যকে প্রভাবিত করে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি বাংলাদেশেও জেট ফুয়েলের ওপর করের বোঝা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শিল্প খাতের হিসাব অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ বিমান সংস্থাগুলোর জন্য জ্বালানি-সংক্রান্ত কর ও শুল্ক এখনো অন্যতম বৃহত্তম পরিচালন ব্যয়। তাই বিমান সংস্থাগুলো সরকারকে জেট ফুয়েলের ওপর ভ্যাট ছাড়, বিমান লিজ ও রক্ষণাবেক্ষণের ওপর কর হ্রাস এবং বিমান চলাচল-সংক্রান্ত শুল্ক শিথিল করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছে।