ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির দাবি করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সংস্থাটির মতে, ভারতে গ্রেফতার হওয়া প্রধান অভিযুক্ত ফয়সালসহ কয়েকজনকে দেশে ফিরিয়ে আনা গেলে হত্যাকাণ্ডের সম্পূর্ণ রহস্য উন্মোচন করা সম্ভব হবে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রের উৎস অনুসন্ধান করতে গিয়ে চট্টগ্রামের অস্ত্র ব্যবসায়ী মাজেদুল হেলালকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সিআইডি।
মামলার অধিকতর তদন্তে হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে কয়েকজন রাজনৈতিকভাবে পরিচিত ব্যক্তির নামও উঠে এসেছে বলে তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল এবং অস্ত্রের উৎস শনাক্ত করার দাবি করেছে সংস্থাটি। এর আগে রাজধানীর পল্লবী এলাকার সাবেক কাউন্সিলরকে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করে মামলায় অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল। তবে বাদীপক্ষের আপত্তির পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তদন্তের অংশ হিসেবে গ্রেফতার হওয়া কয়েকজনের জবানবন্দি এবং ফরেনসিক বিশ্লেষণে নতুন তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সিআইডি। সংস্থাটির দাবি, ডিবির তদন্তে উল্লেখিত ব্যক্তিদের পাশাপাশি আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্যও তাদের হাতে এসেছে। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান বলেন, তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে ভারতে আটক থাকা অভিযুক্তদের দেশে ফিরিয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে মামলার চার্জশিট দ্রুত দাখিল করা সম্ভব হবে।
এদিকে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্যও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি হাদি হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে নানা তথ্য জানেন বলে দাবি করলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করেননি। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকার কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ায় কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে অন্য দেশের রাজনৈতিক বক্তব্যকে গুরুত্ব না দিয়ে আইনগত প্রক্রিয়াকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তদন্ত শেষ হলে মামলার পূর্ণাঙ্গ চিত্র এবং হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের তথ্য আরও স্পষ্ট হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
রিপোর্টারের নাম 
























