ঢাকা ০১:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

মার্কিন যুদ্ধবিমানের গোপন রুট আয়ত্তে এনেছে ইরান, বাড়ছে সামরিক ঝুঁকি

ইরানি সামরিক কমান্ডাররা তাদের আকাশসীমায় মার্কিন যুদ্ধবিমান ও বোমারু বিমানের উড্ডয়ন রুট বা ফ্লাইট প্যাটার্ন চিহ্নিত করে ম্যাপ তৈরি করেছে বলে জানা গেছে। এর ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ঝুঁকি অনেক বেড়ে যাবে। মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে একটি শীর্ষস্থানীয় সংবাদ মাধ্যম।

ইরানের ওপর পুনরায় হামলা চালানো হবে কিনা, ট্রাম্পের সেই সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান পরিস্থিতি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে, ইরানের ওপর একটি বড় ধরনের হামলা চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত ছিল। কিন্তু কিছু দেশের অনুরোধে তিনি সেই সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা একটি অত্যন্ত বড় ধরনের হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু আমি এটি কিছু সময়ের জন্য স্থগিত করেছি; আশা করছি হয়তো চিরকালের জন্য, তবে সম্ভবত অল্প সময়ের জন্য। কারণ ইরানের সঙ্গে আমাদের বড় ধরনের আলোচনা হয়েছে এবং দেখা যাক এর ফল কী দাঁড়ায়।’

ট্রাম্প এবং মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বারবার দাবি করেছেন যে ইরানের সামরিক বাহিনী পঙ্গু হয়ে পড়েছে এবং তাদের কোনো কার্যকর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই। যদিও যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত ইরানের আকাশসীমায় বিমান অভিযান চালাতে সক্ষম হয়েছে, তবে সেখানে তাদের সম্পূর্ণ আধিপত্য নেই। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে। এর ফলে পাইলটদের উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রকে বড় ধরনের অভিযান চালাতে হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান যদি মার্কিন পাইলটকে জীবিত বন্দি করতে পারত, তবে তা ওয়াশিংটনের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করতো।

সংবাদ মাধ্যমকে ওই মার্কিন কর্মকর্তা আরও বলেন, বিমানটি ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাই প্রমাণ করে যে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমানের উড্ডয়ন পথ এখন ইরানের কাছে আরও বেশি অনুমানযোগ্য হয়ে উঠেছে। যুদ্ধ যত গড়িয়েছে, মার্কিন যুদ্ধবিমান সফলভাবে ভূপাতিত করার ক্ষেত্রে ইরান ততটাই কাছাকাছি পৌঁছেছে। গত মার্চ মাসে ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলেও খবর পাওয়া যায়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৫৬ টাকায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে চাকরি, পদ ২৮০টি

মার্কিন যুদ্ধবিমানের গোপন রুট আয়ত্তে এনেছে ইরান, বাড়ছে সামরিক ঝুঁকি

আপডেট সময় : ০৫:৩৭:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

ইরানি সামরিক কমান্ডাররা তাদের আকাশসীমায় মার্কিন যুদ্ধবিমান ও বোমারু বিমানের উড্ডয়ন রুট বা ফ্লাইট প্যাটার্ন চিহ্নিত করে ম্যাপ তৈরি করেছে বলে জানা গেছে। এর ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ঝুঁকি অনেক বেড়ে যাবে। মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে একটি শীর্ষস্থানীয় সংবাদ মাধ্যম।

ইরানের ওপর পুনরায় হামলা চালানো হবে কিনা, ট্রাম্পের সেই সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান পরিস্থিতি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে, ইরানের ওপর একটি বড় ধরনের হামলা চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত ছিল। কিন্তু কিছু দেশের অনুরোধে তিনি সেই সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা একটি অত্যন্ত বড় ধরনের হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু আমি এটি কিছু সময়ের জন্য স্থগিত করেছি; আশা করছি হয়তো চিরকালের জন্য, তবে সম্ভবত অল্প সময়ের জন্য। কারণ ইরানের সঙ্গে আমাদের বড় ধরনের আলোচনা হয়েছে এবং দেখা যাক এর ফল কী দাঁড়ায়।’

ট্রাম্প এবং মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বারবার দাবি করেছেন যে ইরানের সামরিক বাহিনী পঙ্গু হয়ে পড়েছে এবং তাদের কোনো কার্যকর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই। যদিও যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত ইরানের আকাশসীমায় বিমান অভিযান চালাতে সক্ষম হয়েছে, তবে সেখানে তাদের সম্পূর্ণ আধিপত্য নেই। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে। এর ফলে পাইলটদের উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রকে বড় ধরনের অভিযান চালাতে হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান যদি মার্কিন পাইলটকে জীবিত বন্দি করতে পারত, তবে তা ওয়াশিংটনের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করতো।

সংবাদ মাধ্যমকে ওই মার্কিন কর্মকর্তা আরও বলেন, বিমানটি ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাই প্রমাণ করে যে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমানের উড্ডয়ন পথ এখন ইরানের কাছে আরও বেশি অনুমানযোগ্য হয়ে উঠেছে। যুদ্ধ যত গড়িয়েছে, মার্কিন যুদ্ধবিমান সফলভাবে ভূপাতিত করার ক্ষেত্রে ইরান ততটাই কাছাকাছি পৌঁছেছে। গত মার্চ মাসে ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলেও খবর পাওয়া যায়।