ঢাকা ০১:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

পুতিনকে ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ সম্বোধন শি জিনপিংয়ের, জোর দিলেন কৌশলগত সহযোগিতায়

বেইজিং সফরে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাকে ‘সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ও অন্তরঙ্গ বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বুধবার (২০ মে) অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে পুতিনও দুই দেশের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈশ্বিক বিষয়ে ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্বের প্রশংসা করেন।

চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, শি জিনপিং দুই দেশের মধ্যে ‘রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থা ও কৌশলগত সহযোগিতা’র ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। অতীতেও এই দুই নেতা একে অপরের প্রশংসা করেছেন এবং তাদের সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

বৈঠকের শুরুতে পুতিন শিকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়ে বলেন, “আমার প্রিয় বন্ধু, আপনাকে দেখে আমরা সত্যিই আনন্দিত। ব্যক্তিগতভাবে এবং সরকারি সহকারীদের মাধ্যমেও আমরা সবসময় যোগাযোগ রাখছি।”

দুই দেশের নেতারা জ্বালানি, নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ২০০১ সালে স্বাক্ষরিত দুই দেশের বন্ধুত্ব চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে বেইজিং ও মস্কো সম্মত হয়েছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর চীন রাশিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদারে পরিণত হয়। বেইজিং সংঘাতে নিরপেক্ষ অবস্থানের কথা বললেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ক্রেমলিনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে।

শির সঙ্গে বৈঠকে পুতিন আরও বলেন, রুশ-চীন অর্থনৈতিক সহযোগিতার চালিকাশক্তি হলো জ্বালানি খাতে দুই দেশের অংশীদারত্ব। মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের মধ্যেও রাশিয়া নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহকারী হিসেবে ভূমিকা রাখছে এবং চীন দায়িত্বশীল ভোক্তা হিসেবে রয়েছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম অনুযায়ী, শি জিনপিং মধ্যপ্রাচ্যে ‘সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতি’র প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সংঘাত দ্রুত শেষ হলে জ্বালানি সরবরাহ, শিল্প ও সরবরাহ চেইন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে স্থিতিশীলতা ফিরবে।

রুশ প্রেসিডেন্টের এক সহকারীর তথ্যমতে, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে চীনে রাশিয়ার তেল রফতানি ৩৫ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া প্রাকৃতিক গ্যাস রফতানিতেও রাশিয়া এখন চীনের অন্যতম বড় সরবরাহকারী। পুতিনের দুই দিনের এই সফরে একাধিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্দিষ্ট চুক্তির চেয়েও বড় উদ্দেশ্য হলো দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৫৬ টাকায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে চাকরি, পদ ২৮০টি

পুতিনকে ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ সম্বোধন শি জিনপিংয়ের, জোর দিলেন কৌশলগত সহযোগিতায়

আপডেট সময় : ০২:২৩:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

বেইজিং সফরে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাকে ‘সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ও অন্তরঙ্গ বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বুধবার (২০ মে) অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে পুতিনও দুই দেশের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈশ্বিক বিষয়ে ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্বের প্রশংসা করেন।

চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, শি জিনপিং দুই দেশের মধ্যে ‘রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থা ও কৌশলগত সহযোগিতা’র ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। অতীতেও এই দুই নেতা একে অপরের প্রশংসা করেছেন এবং তাদের সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

বৈঠকের শুরুতে পুতিন শিকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়ে বলেন, “আমার প্রিয় বন্ধু, আপনাকে দেখে আমরা সত্যিই আনন্দিত। ব্যক্তিগতভাবে এবং সরকারি সহকারীদের মাধ্যমেও আমরা সবসময় যোগাযোগ রাখছি।”

দুই দেশের নেতারা জ্বালানি, নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ২০০১ সালে স্বাক্ষরিত দুই দেশের বন্ধুত্ব চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে বেইজিং ও মস্কো সম্মত হয়েছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর চীন রাশিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদারে পরিণত হয়। বেইজিং সংঘাতে নিরপেক্ষ অবস্থানের কথা বললেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ক্রেমলিনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে।

শির সঙ্গে বৈঠকে পুতিন আরও বলেন, রুশ-চীন অর্থনৈতিক সহযোগিতার চালিকাশক্তি হলো জ্বালানি খাতে দুই দেশের অংশীদারত্ব। মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের মধ্যেও রাশিয়া নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহকারী হিসেবে ভূমিকা রাখছে এবং চীন দায়িত্বশীল ভোক্তা হিসেবে রয়েছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম অনুযায়ী, শি জিনপিং মধ্যপ্রাচ্যে ‘সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতি’র প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সংঘাত দ্রুত শেষ হলে জ্বালানি সরবরাহ, শিল্প ও সরবরাহ চেইন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে স্থিতিশীলতা ফিরবে।

রুশ প্রেসিডেন্টের এক সহকারীর তথ্যমতে, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে চীনে রাশিয়ার তেল রফতানি ৩৫ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া প্রাকৃতিক গ্যাস রফতানিতেও রাশিয়া এখন চীনের অন্যতম বড় সরবরাহকারী। পুতিনের দুই দিনের এই সফরে একাধিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্দিষ্ট চুক্তির চেয়েও বড় উদ্দেশ্য হলো দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করা।