পৃথিবী এবং চাঁদে পানির উৎস ও প্রাণের বিকাশের পেছনে গ্রহাণুর ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রচলিত ধারণায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে চীনের চন্দ্রমিশন ‘ছাং’এ-৬’ থেকে প্রাপ্ত নমুনা। বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে মনে করতেন, কার্বনসমৃদ্ধ গ্রহাণুর পতনের মাধ্যমেই পৃথিবীতে পানি ও প্রাণের উপযোগী রাসায়নিক পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। তবে চাঁদের মাটি থেকে সংগৃহীত অতি ক্ষুদ্র ধাতব কণা বিশ্লেষণের পর এই তত্ত্ব নিয়ে নতুন করে গবেষণার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
পৃথিবীর ভূত্বকের ক্রমাগত পরিবর্তন ও ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার কারণে গ্রহাণুর আঘাতের প্রাচীন চিহ্নগুলো হারিয়ে গেছে, ফলে পৃথিবীতে পাওয়া উল্কাপিণ্ড থেকে সাধারণত গত ২০ লাখ বছরের বেশি সময়ের তথ্য পাওয়া কঠিন। বিপরীতে, চাঁদে ভূতাত্ত্বিক অস্থিরতা কম থাকায় সেখানে প্রায় ৪০০ কোটি বছরের পুরনো গ্রহাণুর আঘাতের ইতিহাস সংরক্ষিত রয়েছে। গবেষকরা তাই চাঁদকে সৌরজগতের এক বিশাল ‘প্রাকৃতিক দিনলিপি’ হিসেবে দেখছেন।
গবেষক দলের প্রধান জানান, গ্রহাণুর আঘাতে চাঁদের পৃষ্ঠে প্রচণ্ড তাপ উৎপন্ন হয়, যা ধাতব কণাগুলোকে বাষ্পীভূত করে ফেলে। এই কণাগুলোর রাসায়নিক গঠন চাঁদের নিজস্ব শিলার চেয়ে ভিন্ন, যা অনেকটা ‘রাসায়নিক আঙুলের ছাপ’-এর মতো কাজ করে। এর মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারছেন, অতীতে ঠিক কী ধরনের গ্রহাণু সৌরজগতে আঘাত হেনেছিল।
গবেষণায় ছাং-এ ৬ থেকে সংগৃহীত ৪০টি নমুনা বিশ্লেষণ করে ৪৩০ কোটি থেকে ২৮০ কোটি বছর আগের আঘাতের রেকর্ড পাওয়া গেছে। এর মধ্যে প্রাচীন নমুনাগুলো মূলত সৌরজগতের অভ্যন্তরীণ অঞ্চলের পাথুরে গ্রহাণু ও লৌহসমৃদ্ধ উল্কাপিণ্ড থেকে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই আবিষ্কার মহাবিশ্বের বিবর্তন এবং পৃথিবীতে প্রাণের শুরুর রহস্য উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রিপোর্টারের নাম 

























