ঢাকা ০৬:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’ ও আলবেয়ার কামুর ‘দ্য প্লেগ’: একটি তুলনামূলক পাঠ

বিশ্বসাহিত্যের দুই কালজয়ী উপন্যাস মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’ এবং আলবেয়ার কামুর ‘দ্য প্লেগ’। লেখকদ্বয়ের জন্মকাল কাছাকাছি হলেও তাদের সাহিত্যিক প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯৩৬ সালে মাত্র আটাশ বছর বয়সে তার অমর সৃষ্টি ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’ রচনা করেন। অন্যদিকে, ১৯৪৭ সালে জ্যাঁ পল সার্ত্রের অস্তিত্ববাদী দর্শনে অনুপ্রাণিত হয়ে আলবেয়ার কামু লেখেন ‘দ্য প্লেগ’। অনেকেই হয়তো মনে করতে পারেন মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কামুর দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন, কিন্তু বাস্তব সত্য হলো, ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’ প্রকাশের দীর্ঘ সময় পর পর্যন্ত এর কোনো অনুবাদ প্রচলিত ছিল না। ফলে একে অপরের প্রভাবমুক্ত থেকেই তারা নিজ নিজ কালজয়ী সৃষ্টি উপহার দিয়েছেন।

‘পুতুলনাচের ইতিকথা’ কেবল তিরিশের দশকের আধুনিকতার দলিল নয়, বরং এটি মানুষের অস্তিত্বের গভীর সংকট ও জীবন-মৃত্যুর দর্শনের এক অনন্য সংকলন। উপন্যাসটি কোনো প্রথাগত নাট্যরসনির্ভর কাহিনি নয়, বরং এটি জীবনের এক বহমান স্রোত। শশী চরিত্রকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই উপন্যাসে মতি-কুমুদ কিংবা বিন্দু-নন্দলালের মতো পার্শ্বচরিত্রগুলো জীবনবোধের জটিলতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। ব্যক্তি মানুষের মনস্তাত্ত্বিক যাত্রা ও তার অস্তিত্বের ওডিসি হিসেবে এই উপন্যাস বাংলা সাহিত্যে এক অবিস্মরণীয় স্থান দখল করে আছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় সংকট মোকাবিলায় সাংবাদিকদের ভূমিকার গুরুত্ব অপরিসীম: সেলিম উদ্দিন

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’ ও আলবেয়ার কামুর ‘দ্য প্লেগ’: একটি তুলনামূলক পাঠ

আপডেট সময় : ০৮:৩৬:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

বিশ্বসাহিত্যের দুই কালজয়ী উপন্যাস মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’ এবং আলবেয়ার কামুর ‘দ্য প্লেগ’। লেখকদ্বয়ের জন্মকাল কাছাকাছি হলেও তাদের সাহিত্যিক প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯৩৬ সালে মাত্র আটাশ বছর বয়সে তার অমর সৃষ্টি ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’ রচনা করেন। অন্যদিকে, ১৯৪৭ সালে জ্যাঁ পল সার্ত্রের অস্তিত্ববাদী দর্শনে অনুপ্রাণিত হয়ে আলবেয়ার কামু লেখেন ‘দ্য প্লেগ’। অনেকেই হয়তো মনে করতে পারেন মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কামুর দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন, কিন্তু বাস্তব সত্য হলো, ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’ প্রকাশের দীর্ঘ সময় পর পর্যন্ত এর কোনো অনুবাদ প্রচলিত ছিল না। ফলে একে অপরের প্রভাবমুক্ত থেকেই তারা নিজ নিজ কালজয়ী সৃষ্টি উপহার দিয়েছেন।

‘পুতুলনাচের ইতিকথা’ কেবল তিরিশের দশকের আধুনিকতার দলিল নয়, বরং এটি মানুষের অস্তিত্বের গভীর সংকট ও জীবন-মৃত্যুর দর্শনের এক অনন্য সংকলন। উপন্যাসটি কোনো প্রথাগত নাট্যরসনির্ভর কাহিনি নয়, বরং এটি জীবনের এক বহমান স্রোত। শশী চরিত্রকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই উপন্যাসে মতি-কুমুদ কিংবা বিন্দু-নন্দলালের মতো পার্শ্বচরিত্রগুলো জীবনবোধের জটিলতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। ব্যক্তি মানুষের মনস্তাত্ত্বিক যাত্রা ও তার অস্তিত্বের ওডিসি হিসেবে এই উপন্যাস বাংলা সাহিত্যে এক অবিস্মরণীয় স্থান দখল করে আছে।