ঢাকা ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

ভারতে ধর্ষণ মামলার আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা ও উত্তেজনা

ভারতের উত্তর প্রদেশের প্রতাপগড়ে এক নাবালিকাকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে গ্রেফতারের পর তুমুল উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। ৩১ বছর বয়সী অভিযুক্ত গুলজার আহমেদকে উদাইয়াডিহ মোড় বাস স্ট্যান্ডের কাছ থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় তীব্র সাম্প্রদায়িক ও সামাজিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
পরিস্থিতি চরম নাটকীয় রূপ নেয় যখন পুলিশ গুলজার আহমেদকে আদালতের মাধ্যমে বিচারিক হেফাজতে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সে সময় হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বজরং দল-এর নেতাকর্মী ও বিক্ষুব্ধ জনতার একটি বিশাল দল পুলিশের গাড়িটি আটকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে। আক্রমণাত্মক জনতা অভিযুক্তকে পুলিশ জিপ থেকে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে বের করে সেখানেই গণপিটুনি দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে আসামিকে জনতার হাত থেকে রক্ষা করে এবং গাড়িটি দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যায়।
এই ঘটনাকে ‘লাভ জিহাদ’ আখ্যা দিয়ে বজরং দলের কর্মীরা ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু করেন এবং পাত্তি কোতোয়ালি থানা ঘেরাও করে স্লোগান দিতে থাকেন। এরই মধ্যে ক্ষুব্ধ জনতার একটি অংশ পাত্তি বাজারে অবস্থিত অভিযুক্তের দোকানে ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং ভাঙচুর চালায়। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে স্থানীয় বাজারে তীব্র আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো বাজার বন্ধ হয়ে যায়।
বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে, উত্তেজনা কমাতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ কঠোর পদক্ষেপ নেয়। ঘটনাস্থলে একটি বুলডোজার নিয়ে আসা হয় এবং সেটি দিয়ে গুলজার আহমেদের দোকানের টিনের চালা ও শাটার গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। উচ্ছেদের পরপরই কর্তৃপক্ষ ওই বাণিজ্যিক সম্পত্তিটি সিলগালা করে দেয়।
এর আগে, গত ১১ মে পুলিশ ওই নাবালিকাকে নিরাপদে উদ্ধার করে। মেয়েটিকে উদ্ধারের পর গুলজার আহমেদের বিরুদ্ধে শিশু যৌন অপরাধ প্রতিরোধ (পকসো) আইন, অপহরণের অভিযোগ এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতা-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) অলোক কুমার জানিয়েছেন, পাত্তি শহরের পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সেখানে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনও ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে এবং শান্তি বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত টহল দিচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৫৬ টাকায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে চাকরি, পদ ২৮০টি

ভারতে ধর্ষণ মামলার আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা ও উত্তেজনা

আপডেট সময় : ০৭:২৭:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

ভারতের উত্তর প্রদেশের প্রতাপগড়ে এক নাবালিকাকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে গ্রেফতারের পর তুমুল উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। ৩১ বছর বয়সী অভিযুক্ত গুলজার আহমেদকে উদাইয়াডিহ মোড় বাস স্ট্যান্ডের কাছ থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় তীব্র সাম্প্রদায়িক ও সামাজিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
পরিস্থিতি চরম নাটকীয় রূপ নেয় যখন পুলিশ গুলজার আহমেদকে আদালতের মাধ্যমে বিচারিক হেফাজতে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সে সময় হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বজরং দল-এর নেতাকর্মী ও বিক্ষুব্ধ জনতার একটি বিশাল দল পুলিশের গাড়িটি আটকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে। আক্রমণাত্মক জনতা অভিযুক্তকে পুলিশ জিপ থেকে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে বের করে সেখানেই গণপিটুনি দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে আসামিকে জনতার হাত থেকে রক্ষা করে এবং গাড়িটি দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যায়।
এই ঘটনাকে ‘লাভ জিহাদ’ আখ্যা দিয়ে বজরং দলের কর্মীরা ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু করেন এবং পাত্তি কোতোয়ালি থানা ঘেরাও করে স্লোগান দিতে থাকেন। এরই মধ্যে ক্ষুব্ধ জনতার একটি অংশ পাত্তি বাজারে অবস্থিত অভিযুক্তের দোকানে ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং ভাঙচুর চালায়। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে স্থানীয় বাজারে তীব্র আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো বাজার বন্ধ হয়ে যায়।
বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে, উত্তেজনা কমাতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ কঠোর পদক্ষেপ নেয়। ঘটনাস্থলে একটি বুলডোজার নিয়ে আসা হয় এবং সেটি দিয়ে গুলজার আহমেদের দোকানের টিনের চালা ও শাটার গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। উচ্ছেদের পরপরই কর্তৃপক্ষ ওই বাণিজ্যিক সম্পত্তিটি সিলগালা করে দেয়।
এর আগে, গত ১১ মে পুলিশ ওই নাবালিকাকে নিরাপদে উদ্ধার করে। মেয়েটিকে উদ্ধারের পর গুলজার আহমেদের বিরুদ্ধে শিশু যৌন অপরাধ প্রতিরোধ (পকসো) আইন, অপহরণের অভিযোগ এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতা-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) অলোক কুমার জানিয়েছেন, পাত্তি শহরের পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সেখানে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনও ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে এবং শান্তি বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত টহল দিচ্ছে।