ঢাকা ১১:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬

ভূ-রাজনৈতিক সংকটে তুরস্কের সামনে বড় সুযোগ: আলোচনায় ‘মিডল করিডোর’

ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিশ্বব্যাপী পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা যখন চরম সংকটের মুখে, তখন নিজেদের কৌশলগত অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে বড় অর্থনৈতিক সাফল্যের স্বপ্ন দেখছে তুরস্ক। চীন থেকে মধ্য এশিয়া হয়ে ইউরোপ পর্যন্ত বিস্তৃত ‘মিডল করিডোর’ বা মধ্যবর্তী বাণিজ্য পথকে একটি কার্যকর বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে আঙ্কারা।

রাশিয়া ও বেলারুশের মধ্য দিয়ে যাওয়া উত্তর দিকের বাণিজ্যিক পথগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই ‘ট্রান্স-কাস্পিয়ান ইন্টারন্যাশনাল ট্রান্সপোর্ট রুট’ বা টিআইটিআর-এর গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় বিকল্প এই রুটের প্রয়োজনীয়তা এখন বিশ্ব বাণিজ্যে স্পষ্ট। প্রায় ২ হাজার ৬০০ মাইল দীর্ঘ এই করিডোরটি রেল ও সমুদ্রপথের সমন্বয়ে গঠিত, যা চীনকে সরাসরি ইউরোপের সাথে সংযুক্ত করেছে।

তুরস্ক এই করিডোরকে কেবল একটি বাণিজ্যিক পথ হিসেবেই দেখছে না, বরং মধ্য এশিয়ার বিশাল তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সম্পদের প্রবেশদ্বার হিসেবে বিবেচনা করছে। এর মাধ্যমে কাজাখস্তান ও তুর্কমেনিস্তানের জ্বালানি সম্পদ ইউরোপে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি তুর্কি বিশ্বে নিজেদের প্রভাব আরও সুসংহত করতে চায় আঙ্কারা। তবে এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্প বাস্তবায়নে অবকাঠামোগত ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করাই এখন তুরস্কের প্রধান লক্ষ্য।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গোপালগঞ্জে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৪০

ভূ-রাজনৈতিক সংকটে তুরস্কের সামনে বড় সুযোগ: আলোচনায় ‘মিডল করিডোর’

আপডেট সময় : ০৮:৪০:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিশ্বব্যাপী পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা যখন চরম সংকটের মুখে, তখন নিজেদের কৌশলগত অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে বড় অর্থনৈতিক সাফল্যের স্বপ্ন দেখছে তুরস্ক। চীন থেকে মধ্য এশিয়া হয়ে ইউরোপ পর্যন্ত বিস্তৃত ‘মিডল করিডোর’ বা মধ্যবর্তী বাণিজ্য পথকে একটি কার্যকর বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে আঙ্কারা।

রাশিয়া ও বেলারুশের মধ্য দিয়ে যাওয়া উত্তর দিকের বাণিজ্যিক পথগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই ‘ট্রান্স-কাস্পিয়ান ইন্টারন্যাশনাল ট্রান্সপোর্ট রুট’ বা টিআইটিআর-এর গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় বিকল্প এই রুটের প্রয়োজনীয়তা এখন বিশ্ব বাণিজ্যে স্পষ্ট। প্রায় ২ হাজার ৬০০ মাইল দীর্ঘ এই করিডোরটি রেল ও সমুদ্রপথের সমন্বয়ে গঠিত, যা চীনকে সরাসরি ইউরোপের সাথে সংযুক্ত করেছে।

তুরস্ক এই করিডোরকে কেবল একটি বাণিজ্যিক পথ হিসেবেই দেখছে না, বরং মধ্য এশিয়ার বিশাল তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সম্পদের প্রবেশদ্বার হিসেবে বিবেচনা করছে। এর মাধ্যমে কাজাখস্তান ও তুর্কমেনিস্তানের জ্বালানি সম্পদ ইউরোপে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি তুর্কি বিশ্বে নিজেদের প্রভাব আরও সুসংহত করতে চায় আঙ্কারা। তবে এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্প বাস্তবায়নে অবকাঠামোগত ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করাই এখন তুরস্কের প্রধান লক্ষ্য।