ঢাকা ১১:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬

দক্ষিণ এশিয়ায় বড় ধরনের খাদ্য সংকটের আশঙ্কা: নেপথ্যে জ্বালানি ও সার বিপর্যয়

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার প্রভাব কেবল তেলের বাজারে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য এক ভয়াবহ খাদ্য সংকটের পূর্বাভাস দিচ্ছে। জ্বালানি সংকটের ফলে সারের উৎপাদন হ্রাস এবং পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় এই অঞ্চলের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা অনেকাংশেই প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল, যা বিশেষ করে নাইট্রোজেন জাতীয় সার উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো বর্তমানে এই সংকটের সরাসরি শিকার। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারত, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ সার ব্যবহার করে, যার একটি বড় অংশ আসে ওই অঞ্চল থেকে। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বিশ্ব সার বাণিজ্যের বড় একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা সরাসরি ফসলের উৎপাদনশীলতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রয়োজনীয় সারের অভাব দেখা দিলে গম ও ধানের মতো প্রধান খাদ্যশস্যের ফলন ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার ভঙ্গুর কৃষি কাঠামো এই ধাক্কা সামলাতে না পারলে অদূর ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে তীব্র খাদ্য ঘাটতি দেখা দেওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গোপালগঞ্জে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৪০

দক্ষিণ এশিয়ায় বড় ধরনের খাদ্য সংকটের আশঙ্কা: নেপথ্যে জ্বালানি ও সার বিপর্যয়

আপডেট সময় : ০৭:৩৮:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার প্রভাব কেবল তেলের বাজারে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য এক ভয়াবহ খাদ্য সংকটের পূর্বাভাস দিচ্ছে। জ্বালানি সংকটের ফলে সারের উৎপাদন হ্রাস এবং পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় এই অঞ্চলের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা অনেকাংশেই প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল, যা বিশেষ করে নাইট্রোজেন জাতীয় সার উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো বর্তমানে এই সংকটের সরাসরি শিকার। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারত, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ সার ব্যবহার করে, যার একটি বড় অংশ আসে ওই অঞ্চল থেকে। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বিশ্ব সার বাণিজ্যের বড় একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা সরাসরি ফসলের উৎপাদনশীলতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রয়োজনীয় সারের অভাব দেখা দিলে গম ও ধানের মতো প্রধান খাদ্যশস্যের ফলন ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার ভঙ্গুর কৃষি কাঠামো এই ধাক্কা সামলাতে না পারলে অদূর ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে তীব্র খাদ্য ঘাটতি দেখা দেওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।