ঢাকা ০৮:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬

ইসরায়েলে গভীর রাতে বিকট বিস্ফোরণ, আতঙ্কিত বাসিন্দারা; প্রতিরক্ষা কোম্পানির দাবি ‘পরিকল্পিত পরীক্ষা’

ইসরায়েলের বেইত শেমেশ শহরে শনিবার মধ্যরাতে আগুনের গোলাসহ বড় ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। পরবর্তীতে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান টোমার জানায়, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত পরীক্ষা ছিল। তবে বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, তাদের আগে থেকে কোনো সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি।

জেরুজালেমের নিকটবর্তী এই শহরটি সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে কয়েকবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কার মধ্যে এই আকস্মিক বিস্ফোরণে বাসিন্দারা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।

রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্রের ইঞ্জিন এবং অ্যারো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করা প্রতিষ্ঠান টোমার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই বিস্ফোরণটি ছিল ‘একটি পূর্বপরিকল্পিত পরীক্ষা যা পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে’। প্রতিষ্ঠানটির একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা নিশ্চিত করে বলেন, এটি একটি নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ছিল। তবে রাত সাড়ে ১১টার সময় কেন এই পরীক্ষা চালানো হলো, তার কোনো ব্যাখ্যা তিনি দেননি।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই পরীক্ষায় হাজার কিলোমিটার পাল্লার রকেটের জ্বালানি ব্যবহার করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২১ সালেও এই কারখানায় একই ধরনের একটি বড় বিস্ফোরণ ঘটেছিল, যা কোম্পানিটি তখন পরিকল্পিত পরীক্ষা হিসেবে দাবি করেছিল।

এদিকে, যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানের বিরুদ্ধে আবারও হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র এমন খবরও প্রকাশিত হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সরকারকে অস্থিতিশীল করা এবং দেশটির পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংসের লক্ষ্যে অভিযান শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে ইরান অঞ্চলজুড়ে, বিশেষ করে ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। একই সঙ্গে ইরাক ও লেবাননে ইরানপন্থি গোষ্ঠীগুলোও হামলা চালায়। এর প্রতিক্রিয়ায় লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। গত মার্চে বেইত শেমেশ শহরে ইরানের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানলে নয় জন নিহত এবং ৪০ জনের বেশি আহত হন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পাঁচ মাস পর চালু হলো ইরান ও কাতারের সরাসরি নৌ-বাণিজ্য পথ

ইসরায়েলে গভীর রাতে বিকট বিস্ফোরণ, আতঙ্কিত বাসিন্দারা; প্রতিরক্ষা কোম্পানির দাবি ‘পরিকল্পিত পরীক্ষা’

আপডেট সময় : ০১:৫৭:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

ইসরায়েলের বেইত শেমেশ শহরে শনিবার মধ্যরাতে আগুনের গোলাসহ বড় ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। পরবর্তীতে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান টোমার জানায়, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত পরীক্ষা ছিল। তবে বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, তাদের আগে থেকে কোনো সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি।

জেরুজালেমের নিকটবর্তী এই শহরটি সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে কয়েকবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কার মধ্যে এই আকস্মিক বিস্ফোরণে বাসিন্দারা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।

রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্রের ইঞ্জিন এবং অ্যারো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করা প্রতিষ্ঠান টোমার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই বিস্ফোরণটি ছিল ‘একটি পূর্বপরিকল্পিত পরীক্ষা যা পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে’। প্রতিষ্ঠানটির একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা নিশ্চিত করে বলেন, এটি একটি নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ছিল। তবে রাত সাড়ে ১১টার সময় কেন এই পরীক্ষা চালানো হলো, তার কোনো ব্যাখ্যা তিনি দেননি।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই পরীক্ষায় হাজার কিলোমিটার পাল্লার রকেটের জ্বালানি ব্যবহার করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২১ সালেও এই কারখানায় একই ধরনের একটি বড় বিস্ফোরণ ঘটেছিল, যা কোম্পানিটি তখন পরিকল্পিত পরীক্ষা হিসেবে দাবি করেছিল।

এদিকে, যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানের বিরুদ্ধে আবারও হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র এমন খবরও প্রকাশিত হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সরকারকে অস্থিতিশীল করা এবং দেশটির পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংসের লক্ষ্যে অভিযান শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে ইরান অঞ্চলজুড়ে, বিশেষ করে ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। একই সঙ্গে ইরাক ও লেবাননে ইরানপন্থি গোষ্ঠীগুলোও হামলা চালায়। এর প্রতিক্রিয়ায় লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। গত মার্চে বেইত শেমেশ শহরে ইরানের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানলে নয় জন নিহত এবং ৪০ জনের বেশি আহত হন।