ইরানে পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পাকিস্তানের সঙ্গে নতুন স্থল বাণিজ্য পথের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে তেহরান। এই স্থল করিডোরটি আঞ্চলিক বাজারে ইরানের প্রবেশাধিকার সহজ করার পাশাপাশি মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে নতুন বাণিজ্যিক পথ উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মূলত সামুদ্রিক পথে নানাবিধ প্রতিবন্ধকতা এড়াতেই এই বিকল্প পথ বেছে নিয়েছে দেশটি।
সম্প্রতি পাকিস্তানের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ‘এসআরও ৬৯১’ নামে একটি নতুন নীতিমালা জারি করেছে। এই নীতিমালার আওতায় তৃতীয় দেশ থেকে পাকিস্তানি ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে ইরানে পণ্য পরিবহনের জন্য ছয়টি ট্রানজিট রুট নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রায় দুই দশক ধরে ঝুলে থাকা একটি প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত করার মাধ্যমে করাচি, পোর্ট কাসিম এবং গোয়াদর বন্দরকে বেলুচিস্তানের গাব্দ ও তাফতান সীমান্ত দিয়ে ইরানের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনা ভেস্তে যাওয়া এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নৌ-অবরোধের কারণে ইরানের সামুদ্রিক বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। হরমুজ প্রণালির কাছে যুদ্ধ-ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় জাহাজ চলাচলের বীমা খরচ বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে অনেক আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানি ইরানগামী পণ্য পরিবহন বন্ধ করে দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের এই স্থলপথ ইরান ও পাকিস্তান উভয়ের জন্যই বড় অর্থনৈতিক স্বস্তি নিয়ে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই করিডোরটি কেবল ইরানের অভ্যন্তরীণ চাহিদাই মেটাবে না, বরং এটি ব্যবহারের মাধ্যমে ইরানের সড়ক নেটওয়ার্ক হয়ে উজবেকিস্তানের মতো মধ্য এশিয়ার দেশগুলোতেও পণ্য পৌঁছানো সম্ভব হবে। ইতোমধ্যে এই পথে পরীক্ষামূলকভাবে হিমায়িত মাংসের চালান সফলভাবে পাঠানো হয়েছে। ২০০৮ সালে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় সড়ক পরিবহন চুক্তির ভিত্তিতে এই বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে, যা দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় থাকার পর বর্তমানে সক্রিয় করা হলো।
রিপোর্টারের নাম 






















