ঢাকা ০৫:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

আধুনিক সমর নেতৃত্বে অস্ত্রের পাশাপাশি প্রযুক্তিতেও দক্ষ হতে হবে: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:২৪:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
  • ২১ বার পড়া হয়েছে

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম বর্তমান যুগের সামরিক নেতৃত্বের প্রয়োজনীয় পরিবর্তন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, আধুনিক রণক্ষেত্রে কেবল প্রচলিত অস্ত্র চালনায় পারদর্শী হওয়া যথেষ্ট নয়; বরং কর্মকর্তাদের প্রযুক্তি, তথ্যপ্রবাহ, মনস্তাত্ত্বিক কৌশল এবং কৌশলগত যোগাযোগে সমানভাবে দক্ষ হয়ে উঠতে হবে। বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধের চরিত্র বদলে যাওয়ায় ট্যাংক বা কামানের পাশাপাশি এখন সাইবার যুদ্ধ, ড্রোন প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং স্যাটেলাইট ব্যবস্থার মতো বিষয়গুলো জাতীয় নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। এমনকি আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণা ছাড়াই একটি দেশের আর্থিক খাত বা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে আঘাত হানা সম্ভব বলে তিনি কর্মকর্তাদের এই নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে প্রযুক্তিতে স্বনির্ভর হওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি মনে করেন, সব ধরনের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিদেশ থেকে ক্রয় করে দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই স্বল্প ব্যয়ে দেশীয় প্রযুক্তিতে ড্রোন, সাইবার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন কমান্ড সিস্টেম তৈরির জন্য গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। এমআইএসটি-র মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে কেবল ডিগ্রি প্রদানের কেন্দ্র হিসেবে নয়, বরং জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেন তিনি। তার মতে, নিজস্ব সক্ষমতায় প্রযুক্তি নকশা ও উৎপাদন করা কেবল অর্থনৈতিক সাশ্রয় নয়, এটি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য একটি অপরিহার্য পদক্ষেপ।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও জাতীয় চেতনার প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি ১৯৭১ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন, যা জাতির ক্রান্তিলগ্নে মানুষকে দিশা দেখিয়েছিল। তিনি তরুণ কর্মকর্তাদের মনে করিয়ে দেন যে, সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্ব এবং জনগণের আস্থা হলো রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার মূল ভিত্তি। এছাড়া তিনি উগ্রবাদ, সাম্প্রদায়িকতা এবং অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে কঠোর সততা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। দুর্নীতিকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি কর্মকর্তাদের ‘বাংলাদেশ প্রথম’ আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে দেশ ও জাতির সেবায় আত্মনিয়োগ করার অনুপ্রেরণা দেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

বড় ভাইয়ের মৃত্যুর খবর শুনে ছোট ভাইয়ের মৃত্যু, শোকের ছায়া বাঁশখালীতে

আধুনিক সমর নেতৃত্বে অস্ত্রের পাশাপাশি প্রযুক্তিতেও দক্ষ হতে হবে: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

আপডেট সময় : ০৮:২৪:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম বর্তমান যুগের সামরিক নেতৃত্বের প্রয়োজনীয় পরিবর্তন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, আধুনিক রণক্ষেত্রে কেবল প্রচলিত অস্ত্র চালনায় পারদর্শী হওয়া যথেষ্ট নয়; বরং কর্মকর্তাদের প্রযুক্তি, তথ্যপ্রবাহ, মনস্তাত্ত্বিক কৌশল এবং কৌশলগত যোগাযোগে সমানভাবে দক্ষ হয়ে উঠতে হবে। বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধের চরিত্র বদলে যাওয়ায় ট্যাংক বা কামানের পাশাপাশি এখন সাইবার যুদ্ধ, ড্রোন প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং স্যাটেলাইট ব্যবস্থার মতো বিষয়গুলো জাতীয় নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। এমনকি আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণা ছাড়াই একটি দেশের আর্থিক খাত বা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে আঘাত হানা সম্ভব বলে তিনি কর্মকর্তাদের এই নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে প্রযুক্তিতে স্বনির্ভর হওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি মনে করেন, সব ধরনের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিদেশ থেকে ক্রয় করে দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই স্বল্প ব্যয়ে দেশীয় প্রযুক্তিতে ড্রোন, সাইবার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন কমান্ড সিস্টেম তৈরির জন্য গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। এমআইএসটি-র মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে কেবল ডিগ্রি প্রদানের কেন্দ্র হিসেবে নয়, বরং জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেন তিনি। তার মতে, নিজস্ব সক্ষমতায় প্রযুক্তি নকশা ও উৎপাদন করা কেবল অর্থনৈতিক সাশ্রয় নয়, এটি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য একটি অপরিহার্য পদক্ষেপ।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও জাতীয় চেতনার প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি ১৯৭১ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন, যা জাতির ক্রান্তিলগ্নে মানুষকে দিশা দেখিয়েছিল। তিনি তরুণ কর্মকর্তাদের মনে করিয়ে দেন যে, সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্ব এবং জনগণের আস্থা হলো রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার মূল ভিত্তি। এছাড়া তিনি উগ্রবাদ, সাম্প্রদায়িকতা এবং অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে কঠোর সততা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। দুর্নীতিকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি কর্মকর্তাদের ‘বাংলাদেশ প্রথম’ আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে দেশ ও জাতির সেবায় আত্মনিয়োগ করার অনুপ্রেরণা দেন।