ঢাকা ০৪:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

আকর্ষণীয় বুদ্ধি, মননশীলতা: স্যাপিওসেক্সুয়ালিটি কী?

একসময় প্রেমের ক্ষেত্রে মানুষের নজর ছিল চেহারা, কণ্ঠ, স্টাইল কিংবা সামাজিক অবস্থানের দিকে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সম্পর্কের সংজ্ঞাও বদলাচ্ছে। এখন অনেকেই বলছেন—তাদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো একজন মানুষের চিন্তাভাবনা, জ্ঞান আর বুদ্ধিমত্তা। এই প্রবণতাকেই বলা হয় “স্যাপিওসেক্সুয়ালিটি”

“স্যাপিও” শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ ‘সাপেরে’ থেকে, যার অর্থ জ্ঞানী হওয়া বা বুঝতে পারা। আর “সেক্সুয়াল” শব্দটি এখানে আকর্ষণ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ, স্যাপিওসেক্সুয়াল বলতে এমন মানুষকে বোঝায় যারা মূলত অন্যের বুদ্ধিমত্তা, গভীর চিন্তাশক্তি, বিশ্লেষণক্ষমতা বা জ্ঞান দ্বারা আকৃষ্ট হন। তাদের কাছে বাহ্যিক সৌন্দর্যের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে একটি দীর্ঘ বুদ্ধিদীপ্ত আলাপ।

কেউ হয়তো প্রথম দেখায় প্রেমে পড়েন না। কিন্তু একটি গভীর আলোচনা, বই নিয়ে কথা, যুক্তি দিয়ে মত প্রকাশ বা কোনো বিষয়ে অসাধারণ জ্ঞান—এসবই তাদের কাছে আকর্ষণের কারণ হয়ে উঠতে পারে। মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, স্যাপিওসেক্সুয়াল মানুষ সাধারণত এমন কাউকে পছন্দ করেন যিনি—নতুন বিষয় নিয়ে ভাবতে ভালোবাসেন; যুক্তি দিয়ে কথা বলেন; কৌতূহলী ও শেখার আগ্রহী; গভীর আলোচনা করতে পারেন; সৃজনশীল বা বিশ্লেষণধর্মী চিন্তাভাবনা করেন। তাদের কাছে “তুমি দেখতে সুন্দর” কথার চেয়ে “তোমার চিন্তাভাবনা দারুণ” বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

এ নিয়েই সবচেয়ে বেশি বিতর্ক রয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, স্যাপিওসেক্সুয়ালিটি আসলে আলাদা কোনো যৌন পরিচয় নয়; বরং এটি আকর্ষণের একটি ধরণ বা ব্যক্তিগত পছন্দ। যেমন কেউ আত্মবিশ্বাসী মানুষ পছন্দ করেন, কেউ রসবোধসম্পন্ন মানুষ—তেমনি কেউ বুদ্ধিমান মানুষে আকৃষ্ট হন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং আধুনিক সম্পর্কের আলোচনায় শব্দটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশে এই শব্দ ব্যবহার বাড়ছে।

টিন্ডার, বাম্বল বা বিভিন্ন ডেটিং অ্যাপে এখন অনেকেই নিজেদের পরিচয়ে “স্যাপিওসেক্সুয়াল” লিখে থাকেন। কারণ অনেকের বিশ্বাস, শুধু বাহ্যিক আকর্ষণ দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক টিকে না। মানসিক সংযোগ, কথোপকথনের গভীরতা এবং চিন্তার মিলও গুরুত্বপূর্ণ। ডিজিটাল যুগে মানুষ যখন দ্রুত সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং দ্রুত বিচ্ছিন্নও হয়ে যায়, তখন অনেকেই “বুদ্ধিবৃত্তিক সংযোগ”কে বেশি মূল্য দিচ্ছেন। তবে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনাও কম নয়। কিছু সমালোচকের মতে, “আমি শুধু বুদ্ধিমান মানুষ পছন্দ করি” বলাটা এক ধরনের ছদ্ম-বুদ্ধিবৃত্তিক অহংকার বা নিজেদের অন্যদের থেকে আলাদা করে দেখানোর প্রবণতা মাত্র।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দক্ষিণ কোরিয়া যাচ্ছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ

আকর্ষণীয় বুদ্ধি, মননশীলতা: স্যাপিওসেক্সুয়ালিটি কী?

আপডেট সময় : ০৪:০২:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

একসময় প্রেমের ক্ষেত্রে মানুষের নজর ছিল চেহারা, কণ্ঠ, স্টাইল কিংবা সামাজিক অবস্থানের দিকে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সম্পর্কের সংজ্ঞাও বদলাচ্ছে। এখন অনেকেই বলছেন—তাদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো একজন মানুষের চিন্তাভাবনা, জ্ঞান আর বুদ্ধিমত্তা। এই প্রবণতাকেই বলা হয় “স্যাপিওসেক্সুয়ালিটি”

“স্যাপিও” শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ ‘সাপেরে’ থেকে, যার অর্থ জ্ঞানী হওয়া বা বুঝতে পারা। আর “সেক্সুয়াল” শব্দটি এখানে আকর্ষণ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ, স্যাপিওসেক্সুয়াল বলতে এমন মানুষকে বোঝায় যারা মূলত অন্যের বুদ্ধিমত্তা, গভীর চিন্তাশক্তি, বিশ্লেষণক্ষমতা বা জ্ঞান দ্বারা আকৃষ্ট হন। তাদের কাছে বাহ্যিক সৌন্দর্যের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে একটি দীর্ঘ বুদ্ধিদীপ্ত আলাপ।

কেউ হয়তো প্রথম দেখায় প্রেমে পড়েন না। কিন্তু একটি গভীর আলোচনা, বই নিয়ে কথা, যুক্তি দিয়ে মত প্রকাশ বা কোনো বিষয়ে অসাধারণ জ্ঞান—এসবই তাদের কাছে আকর্ষণের কারণ হয়ে উঠতে পারে। মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, স্যাপিওসেক্সুয়াল মানুষ সাধারণত এমন কাউকে পছন্দ করেন যিনি—নতুন বিষয় নিয়ে ভাবতে ভালোবাসেন; যুক্তি দিয়ে কথা বলেন; কৌতূহলী ও শেখার আগ্রহী; গভীর আলোচনা করতে পারেন; সৃজনশীল বা বিশ্লেষণধর্মী চিন্তাভাবনা করেন। তাদের কাছে “তুমি দেখতে সুন্দর” কথার চেয়ে “তোমার চিন্তাভাবনা দারুণ” বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

এ নিয়েই সবচেয়ে বেশি বিতর্ক রয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, স্যাপিওসেক্সুয়ালিটি আসলে আলাদা কোনো যৌন পরিচয় নয়; বরং এটি আকর্ষণের একটি ধরণ বা ব্যক্তিগত পছন্দ। যেমন কেউ আত্মবিশ্বাসী মানুষ পছন্দ করেন, কেউ রসবোধসম্পন্ন মানুষ—তেমনি কেউ বুদ্ধিমান মানুষে আকৃষ্ট হন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং আধুনিক সম্পর্কের আলোচনায় শব্দটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশে এই শব্দ ব্যবহার বাড়ছে।

টিন্ডার, বাম্বল বা বিভিন্ন ডেটিং অ্যাপে এখন অনেকেই নিজেদের পরিচয়ে “স্যাপিওসেক্সুয়াল” লিখে থাকেন। কারণ অনেকের বিশ্বাস, শুধু বাহ্যিক আকর্ষণ দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক টিকে না। মানসিক সংযোগ, কথোপকথনের গভীরতা এবং চিন্তার মিলও গুরুত্বপূর্ণ। ডিজিটাল যুগে মানুষ যখন দ্রুত সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং দ্রুত বিচ্ছিন্নও হয়ে যায়, তখন অনেকেই “বুদ্ধিবৃত্তিক সংযোগ”কে বেশি মূল্য দিচ্ছেন। তবে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনাও কম নয়। কিছু সমালোচকের মতে, “আমি শুধু বুদ্ধিমান মানুষ পছন্দ করি” বলাটা এক ধরনের ছদ্ম-বুদ্ধিবৃত্তিক অহংকার বা নিজেদের অন্যদের থেকে আলাদা করে দেখানোর প্রবণতা মাত্র।