ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় অনলাইন জুয়ার টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে আন্দালিব সাদমান রাফি (৯) নামের এক শিশুকে অপহরণের পর নির্মমভাবে হত্যা করে লাশ বস্তাবন্দি করে লুকিয়ে রাখার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশ নূর মুহাম্মদ খোকন (২০) নামের এক প্রতিবেশী যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। খোকনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বাড়ির একটি স্যানিটারি ল্যাট্রিনের রিং স্ল্যাবের ভেতর থেকে শিশুটির বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত রাফি মুক্তাগাছা শহরের রেসিডেন্সিয়াল মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের জমিনপুর গ্রামের জহিরুল ইসলামের ছেলে। শিশুটির পরিবার জানায়, রাফি নিখোঁজ হওয়ার পর থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পরবর্তীতে রাফির বাবার সন্দেহের ভিত্তিতে পুলিশ খোকনকে আটক করে।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আটক খোকন স্বীকার করেন যে তিনি অনলাইন জুয়ায় আসক্ত। শিশুটির বাবা জহিরুল ইসলাম জুয়া খেলায় বিভিন্ন সময় বাধা দেওয়ায় এবং জুয়ার টাকা উদ্ধার সংক্রান্ত বিষয়ে তার সঙ্গে খোকনের দ্বন্দ্ব চলছিল। বাবার প্রতি ক্ষোভ থেকেই খোকন শিশুটিকে অপহরণ ও পরে হত্যা করে লাশ গুম করে রাখেন।
শিশুটির বাবা জহিরুল ইসলাম জানান, খোকন এক ব্যক্তির কাছে অনলাইন জুয়ার এক লাখ টাকা পেতেন। তিনিসহ কয়েকজন মিলে সেই টাকা উদ্ধার করে দিয়েছিলেন এবং প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী একটি অংশ রেখেছিলেন। এসব ঘটনা থেকেই খোকন ক্ষুব্ধ হয়ে তার ছেলেকে হত্যা করেছে। তিনি হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত খোকন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন এবং এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা তদন্ত করা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 























