ঢাকা ০৮:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬

১৮ মাস পর জানা গেল, ইসরায়েলের কারাগারে আটক গাজার যুবক: পরিবার পেল নতুন আশা

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার ২৫ বছর বয়সী যুবক ঈদ নাহেল আবু শার মারা গেছেন—এমনটাই এতদিন জানতো তার পরিবার। গত ১৮ মাস ধরে তারা ঈদকে খুঁজে বেড়িয়েছে, এমনকি তার মৃত্যু সনদও চেয়েছিল। অবশেষে এক আইনজীবীর অপ্রত্যাশিত ফোন কলে পরিবারটি জানতে পারে, ঈদ জীবিত আছেন এবং ইসরায়েলের ওফের কারাগারে আটক রয়েছেন। এই তথ্যে পরিবারটির দীর্ঘ ১৮ মাসের যন্ত্রণার অবসান হলেও, এটি গাজা উপত্যকার হাজারও পরিবারের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে, যারা এখনও তাদের নিখোঁজ স্বজনদের খবরের অপেক্ষায় দিন গুনছে।

এই পরিবারগুলো জানে না তাদের প্রিয়জনরা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে, নাকি অজ্ঞাত গণকবরে সমাহিত হয়েছে, অথবা ঈদের মতো ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি রয়েছে। ইসরায়েলের কারাগারগুলোতে ফিলিস্তিনিদের নির্যাতন একটি সাধারণ ঘটনা এবং তাদের অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে রাখা হয়।

পরিবারের আর্থিক সহায়তার জন্য গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন ঈদ। সে সময় ঈদের পরিবার মধ্য গাজার নেতজারিম করিডরে বসবাস করত। এই করিডরটি ‘অ্যাক্সিস অব ডেথ’ নামে পরিচিত, যেখানে ইসরায়েল উত্তর গাজাকে দক্ষিণ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে এই ভূখণ্ড দখল ও নিয়ন্ত্রণে নেয়। এই স্থানে শত শত ফিলিস্তিনি নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন।

ঈদের বাবা নাহেল আবু শার বলেন, “বড় ছেলেকে খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা আমাদের পরিবারকে চরম হতাশার দিকে ঠেলে দিয়েছিল। অনেক দিন আমি হাসপাতাল ও মর্গের দরজায় ঘুরেছি। যখন তারা অজ্ঞাত মরদেহ পাওয়ার ঘোষণা দিত, তখনই ছুটে যেতাম। আল-আকসা, আল-আদওয়া ও নুসেয়িরাতের হাসপাতালগুলোতে আমি গিয়েছি। অনেক সময় আমি নিজের হাতে রেফ্রিজারেটরের দরজা খুলেছি যেখানে মরদেহগুলো রাখা হয়। মরদেহগুলোতে ঈদের কাপড়ের চিহ্ন খুঁজে পেতাম, কিন্তু কিছুই পাইনি।”

পরিবারটি ঈদকে খুঁজে বের করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেড ক্রস (আইসিআরসি) এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিল, কিন্তু বারবার ব্যর্থ হয়। ঈদের আটক থাকার কোনো সরকারি নথি না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত পরিবারটি বাস্তবতা মেনে নিয়ে শোক পালনের জন্য একটি তাঁবু স্থাপন করে এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে মৃত হিসেবে উল্লেখ করা সরকারি নথি সংগ্রহ করে।

সবাই হতাশ হলেও ঈদের মা কখনও আশা ছাড়েননি। তিনি বিশ্বাস করতেন না যে তার ছেলে মারা গেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান সংঘাত: ট্রাম্প-নেতানিয়াহু সম্পর্কে টানাপড়েনের গুঞ্জন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দাবি ‘পূর্ণ সমন্বয়’

১৮ মাস পর জানা গেল, ইসরায়েলের কারাগারে আটক গাজার যুবক: পরিবার পেল নতুন আশা

আপডেট সময় : ০৭:০৯:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার ২৫ বছর বয়সী যুবক ঈদ নাহেল আবু শার মারা গেছেন—এমনটাই এতদিন জানতো তার পরিবার। গত ১৮ মাস ধরে তারা ঈদকে খুঁজে বেড়িয়েছে, এমনকি তার মৃত্যু সনদও চেয়েছিল। অবশেষে এক আইনজীবীর অপ্রত্যাশিত ফোন কলে পরিবারটি জানতে পারে, ঈদ জীবিত আছেন এবং ইসরায়েলের ওফের কারাগারে আটক রয়েছেন। এই তথ্যে পরিবারটির দীর্ঘ ১৮ মাসের যন্ত্রণার অবসান হলেও, এটি গাজা উপত্যকার হাজারও পরিবারের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে, যারা এখনও তাদের নিখোঁজ স্বজনদের খবরের অপেক্ষায় দিন গুনছে।

এই পরিবারগুলো জানে না তাদের প্রিয়জনরা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে, নাকি অজ্ঞাত গণকবরে সমাহিত হয়েছে, অথবা ঈদের মতো ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি রয়েছে। ইসরায়েলের কারাগারগুলোতে ফিলিস্তিনিদের নির্যাতন একটি সাধারণ ঘটনা এবং তাদের অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে রাখা হয়।

পরিবারের আর্থিক সহায়তার জন্য গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন ঈদ। সে সময় ঈদের পরিবার মধ্য গাজার নেতজারিম করিডরে বসবাস করত। এই করিডরটি ‘অ্যাক্সিস অব ডেথ’ নামে পরিচিত, যেখানে ইসরায়েল উত্তর গাজাকে দক্ষিণ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে এই ভূখণ্ড দখল ও নিয়ন্ত্রণে নেয়। এই স্থানে শত শত ফিলিস্তিনি নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন।

ঈদের বাবা নাহেল আবু শার বলেন, “বড় ছেলেকে খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা আমাদের পরিবারকে চরম হতাশার দিকে ঠেলে দিয়েছিল। অনেক দিন আমি হাসপাতাল ও মর্গের দরজায় ঘুরেছি। যখন তারা অজ্ঞাত মরদেহ পাওয়ার ঘোষণা দিত, তখনই ছুটে যেতাম। আল-আকসা, আল-আদওয়া ও নুসেয়িরাতের হাসপাতালগুলোতে আমি গিয়েছি। অনেক সময় আমি নিজের হাতে রেফ্রিজারেটরের দরজা খুলেছি যেখানে মরদেহগুলো রাখা হয়। মরদেহগুলোতে ঈদের কাপড়ের চিহ্ন খুঁজে পেতাম, কিন্তু কিছুই পাইনি।”

পরিবারটি ঈদকে খুঁজে বের করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেড ক্রস (আইসিআরসি) এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিল, কিন্তু বারবার ব্যর্থ হয়। ঈদের আটক থাকার কোনো সরকারি নথি না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত পরিবারটি বাস্তবতা মেনে নিয়ে শোক পালনের জন্য একটি তাঁবু স্থাপন করে এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে মৃত হিসেবে উল্লেখ করা সরকারি নথি সংগ্রহ করে।

সবাই হতাশ হলেও ঈদের মা কখনও আশা ছাড়েননি। তিনি বিশ্বাস করতেন না যে তার ছেলে মারা গেছে।