ঢাকা ০৭:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬

শীতলক্ষ্যা দূষণ: ২০ শিল্প কারখানার বিদ্যুৎ-গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন, হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল

নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে পরিবেশবান্ধব ইটিপি (Effluent Treatment Plant) স্থাপন না করে পরিচালিত ২০টি শিল্প কারখানার বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।

রিটকারী পক্ষের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ শনিবার (৯ মে) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষ থেকে শীতলক্ষ্যা নদী দূষণকারী ২০টি শিল্প কারখানার বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি আবেদন করা হয়। গত ৫ মার্চ এই আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্ট ওই ২০টি প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দেন।

আদালতের নির্দেশের প্রেক্ষিতে গত ৭ মে বিআইডব্লিউটিএ একটি প্রতিবেদন দাখিল করে, যেখানে অভিযুক্ত ২০টি প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ ও গ্যাস লাইন বিচ্ছিন্ন করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এই প্রতিবেদনটির ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আদালত পরবর্তীতে শীতলক্ষ্যা নদীর দূষণের ফলে সৃষ্ট ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ সংক্রান্ত পূর্বের আদেশের আলোকে নতুন প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন এবং দাখিলকৃত প্রতিবেদনটি নথিভুক্ত করেন।

বিচ্ছিন্ন সংযোগের আওতায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে—খালেক টেক্সটাইল, লীনা পেপার মিল, আর এস কে ডাইং, খান ব্রাদার্স টেক্সটাইল, এসআরএস নিড ডাইং, মেসার্স রুবেল ডাইং, বাংলাদেশ ডাইয়িং অ্যান্ড প্রসেসিং, মেসার্স সোহেল ডাইং, এশিয়ান ফেব্রিক, জিলানী ডাইং, গাজীপুর বোর্ড মিলস, নিউ আলম ডাইং, মায়ের দোয়া ডাইং, এম আর ডাইং, আব্দুর রব ডাইং, বিসমিল্লাহ নিড ডাইং, শিমুল ডাইং, রাজ্জাক ওয়াশিং, কর্ণফুলী টেক্সটাইল মিল এবং হাজী রাসুল ডাইং।

শুনানিকালে এইচআরপিবির পক্ষ থেকে সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, পরিবেশ আইন অনুযায়ী ইটিপি ছাড়া শিল্পকারখানা পরিচালনা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রতিষ্ঠান আইন অমান্য করে নদী দূষণ করে আসছে এবং আদালতের নির্দেশের আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তিনি দূষণের ফলে সৃষ্ট ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিষয়েও আদালতে আবেদন জানান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১৮ মাস পর জানা গেল, ইসরায়েলের কারাগারে আটক গাজার যুবক: পরিবার পেল নতুন আশা

শীতলক্ষ্যা দূষণ: ২০ শিল্প কারখানার বিদ্যুৎ-গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন, হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল

আপডেট সময় : ০৫:৫৩:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে পরিবেশবান্ধব ইটিপি (Effluent Treatment Plant) স্থাপন না করে পরিচালিত ২০টি শিল্প কারখানার বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।

রিটকারী পক্ষের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ শনিবার (৯ মে) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষ থেকে শীতলক্ষ্যা নদী দূষণকারী ২০টি শিল্প কারখানার বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি আবেদন করা হয়। গত ৫ মার্চ এই আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্ট ওই ২০টি প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দেন।

আদালতের নির্দেশের প্রেক্ষিতে গত ৭ মে বিআইডব্লিউটিএ একটি প্রতিবেদন দাখিল করে, যেখানে অভিযুক্ত ২০টি প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ ও গ্যাস লাইন বিচ্ছিন্ন করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এই প্রতিবেদনটির ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আদালত পরবর্তীতে শীতলক্ষ্যা নদীর দূষণের ফলে সৃষ্ট ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ সংক্রান্ত পূর্বের আদেশের আলোকে নতুন প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন এবং দাখিলকৃত প্রতিবেদনটি নথিভুক্ত করেন।

বিচ্ছিন্ন সংযোগের আওতায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে—খালেক টেক্সটাইল, লীনা পেপার মিল, আর এস কে ডাইং, খান ব্রাদার্স টেক্সটাইল, এসআরএস নিড ডাইং, মেসার্স রুবেল ডাইং, বাংলাদেশ ডাইয়িং অ্যান্ড প্রসেসিং, মেসার্স সোহেল ডাইং, এশিয়ান ফেব্রিক, জিলানী ডাইং, গাজীপুর বোর্ড মিলস, নিউ আলম ডাইং, মায়ের দোয়া ডাইং, এম আর ডাইং, আব্দুর রব ডাইং, বিসমিল্লাহ নিড ডাইং, শিমুল ডাইং, রাজ্জাক ওয়াশিং, কর্ণফুলী টেক্সটাইল মিল এবং হাজী রাসুল ডাইং।

শুনানিকালে এইচআরপিবির পক্ষ থেকে সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, পরিবেশ আইন অনুযায়ী ইটিপি ছাড়া শিল্পকারখানা পরিচালনা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রতিষ্ঠান আইন অমান্য করে নদী দূষণ করে আসছে এবং আদালতের নির্দেশের আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তিনি দূষণের ফলে সৃষ্ট ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিষয়েও আদালতে আবেদন জানান।