প্রেমের সম্পর্ক থেকে শুরু করে গ্রাম্য সালিশ, জরিমানা এবং অবশেষে বিয়ে। কিন্তু বিয়ের কয়েক মাস পরই তরুণীর রহস্যজনক মৃত্যু ‘আত্মহত্যা’ বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। স্বামীর পরিবার দাবি করে, গলায় ফাঁস দিয়ে তিনি নিজেই জীবন শেষ করেছেন। ময়নাতদন্তেও আত্মহত্যার কথা উল্লেখ ছিল, এবং পুলিশও ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে ধরে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।
তবে, এই ‘আত্মহত্যা’র ঘটনায় শুরু থেকেই কিছু অসঙ্গতি ছিল। মৃতদেহের চুলে গাছের গুটি, মুখে মাটি, ভেজা কাপড়, গলায় অস্বাভাবিক দাগ এবং গভীর রাতে প্রতিবেশীদের কিছুই টের না পাওয়া—এই ছোট ছোট আলামতগুলোই এক পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহ রহস্য উন্মোচন করে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) প্রকাশিত একটি বইয়ে এই ঘটনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছিল ভূঞাপুরের পুংলীপাড়া গ্রামে। জুরান আলী শেখের মেয়ে আজমিরা খাতুনের সঙ্গে একই গ্রামের আব্দুর রহমান ভোলার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় সালিশে ভোলাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার টাকা দিতে না পারায় পরে স্থানীয় ইউপি সদস্যের মাধ্যমে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয় এবং ২০১৬ সালের ২২ জুলাই তাদের বিয়ে হয়।
কিন্তু বিয়ের পর আজমিরার জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। তাকে বাবার বাড়ি যেতে দেওয়া হতো না এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগও প্রায় বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। আজমিরা দেখতে সুশ্রী নন এবং দরিদ্র পরিবারের মেয়ে হওয়ায় স্বামীর পরিবার তাকে পছন্দ করত না। গ্রামবাসীর চাপে বিয়ে হওয়ায় স্বামী ও তার পরিবারের মধ্যে ক্ষোভ ছিল বলেও তদন্তে উঠে আসে। বিয়ের পর থেকেই আজমিরার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চলছিল।
এরপর ২০১৭ সালের ১৪ এপ্রিল খবর আসে যে আজমিরা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ভূঞাপুর থানা পুলিশ অপমৃত্যুর মামলা রুজু করে এবং ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনেও আত্মহত্যার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। এর ভিত্তিতে থানা পুলিশ ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে ধরে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়।
আজমিরার পরিবার এই ব্যাখ্যা মেনে নেয়নি। তারা আদালতে সিআর মামলা দায়ের করলে তদন্তভার পায় পিবিআই। মামলার তদন্ত শুরু করেন পিবিআই টাঙ্গাইলের পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো….
রিপোর্টারের নাম 




















