ফিলিস্তিনের সাম্প্রতিক পৌরসভা নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের অনুগত রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলো উল্লেখযোগ্য সাফল্য লাভ করেছে বলে নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। প্রায় দুই দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো এই নির্বাচনে গাজার একটি শহরও অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ফিলিস্তিনি প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মুস্তাফা ফলাফল ঘোষণার সময় বলেন, এই নির্বাচন ‘অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়ে এবং জটিল পরিস্থিতির মধ্যে’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গাজার দেইর আল-বালাহ শহরের ভোটকে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (পিএ) ‘পাইলট’ বা পরীক্ষামূলক নির্বাচন হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং গাজাকে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দাবি করেছে। ২০০৭ সাল থেকে গাজা নিয়ন্ত্রণকারী হামাস এই নির্বাচনে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থী দেয়নি এবং পশ্চিম তীরের ভোটও বর্জন করেছে।
প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, দেইর আল-বালাহে মোট ১৫টি আসনের মধ্যে আব্বাসের ফাতাহ-সমর্থিত ‘নাহদাত দেইর আল-বালাহ’ তালিকা ছয়টি আসনে জয়ী হয়েছে। অন্যদিকে, ‘দেইর আল-বালাহ ব্রিংস আস টুগেদা’ নামের একটি তালিকায় দুটি আসন পেয়েছে। বাকি আসনগুলো স্বাধীন বা স্থানীয় গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ভাগ হয়েছে। পশ্চিম তীরে ফাতাহ সমর্থিত প্রার্থীরা অনেক জায়গায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই জয়ী হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
গাজায় ভোটার উপস্থিতি ছিল ২৩ শতাংশ, যেখানে পশ্চিম তীরে তা ছিল ৫৬ শতাংশ। নির্বাচন কমিশনের প্রধান রামি হামদাল্লাহ জানান, কিছু ব্যালট বাক্স ও সরঞ্জাম ইসরাইলি বিধিনিষেধের কারণে গাজায় প্রবেশ করতে পারেনি। বিশ্লেষকদের মতে, গাজায় ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ার অন্যতম কারণ হলো চলমান যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি এবং ভয়াবহ মানবিক সংকট। বহু মানুষ বেঁচে থাকার লড়াইয়ে ব্যস্ত থাকায় ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেননি। তবে, কিছু বাসিন্দা ভোট দিতে এসেছিলেন। গাজার দেইর আল-বালাহের এক ভোটার আশরাফ আবু দান বলেন, সেবা নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় প্রতিনিধি নির্বাচনের অধিকার থেকেই তিনি ভোট দিয়েছেন। ইসরাইলের চলমান সামরিক অভিযান এবং সীমিত যুদ্ধবিরতির মধ্যেও এই নির্বাচনকে ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের একটি প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 






















