ঢাকা ০৪:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনে বড় সংস্কার: অভিন্ন গ্রেডিং ও ট্রাস্টি বোর্ডে পারিবারিক নিয়ন্ত্রণ সীমিত করার প্রস্তাব

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৩৭:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫
  • ৩৪ বার পড়া হয়েছে

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উচ্চশিক্ষার মানদণ্ড নিশ্চিত এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বাড়াতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০২৫ (সংশোধিত)’-এর খসড়া তৈরি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। এই খসড়ায় বেশ কিছু যুগান্তকারী পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা শিগগিরই চূড়ান্ত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

📌 মূল প্রস্তাবনা ও কঠোর বিধি

  • অভিন্ন গ্রেডিং ও ক্রেডিট ট্রান্সফার: দেশের সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে একই ধরনের গ্রেড পয়েন্ট সিস্টেম ও ক্রেডিট ট্রান্সফার বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানভেদে গ্রেডিংয়ের তারতম্য দূর হবে এবং শিক্ষার্থীরা সহজে প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করতে পারবে।
  • জরিমানা বৃদ্ধি ও সনদ জালিয়াতি রোধ: আইন লঙ্ঘনের সর্বোচ্চ জরিমানা ১০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়াও, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে সনদ জালিয়াতি প্রমাণিত হলে, প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম ন্যূনতম দুই বছরের জন্য বন্ধ রাখার বিধান রাখা হয়েছে।
  • ট্রাস্টি বোর্ডে নিয়ন্ত্রণ: ট্রাস্টি বোর্ডে একচ্ছত্র পারিবারিক প্রভাব কমাতে নতুন বিধানে বলা হয়েছে, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডে একই পরিবারের পাঁচজনের বেশি সদস্য থাকতে পারবেন না। বোর্ডের মোট সদস্য সংখ্যা ৯ থেকে ১৫ জনের মধ্যে সীমিত রাখারও প্রস্তাব করা হয়েছে।
  • সনদপত্রে স্বাক্ষর: শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে এবং একাডেমিক নথিপত্রের বৈধতা নিশ্চিত করতে, ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যরা আর সনদপত্রে স্বাক্ষর করতে পারবেন না। উপাচার্য না থাকলে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত প্রো-ভিসি বা রেজিস্ট্রার সনদ দিতে পারবেন।
  • অন্যান্য পরিবর্তন: খসড়ায় উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ নিয়োগে ইউজিসির নেতৃত্বে সার্চ কমিটি গঠন, বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য কমপক্ষে ৫ একর জমি থাকা, এবং টিউশন ফি নির্ধারণে ইউজিসির অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও রয়েছে।

ইউজিসি আশা করছে, এই সংশোধিত আইন কার্যকর হলে দেশের ১১৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামো শক্তিশালী হবে এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

কাতারের আকাশসীমায় ইরানের আগ্রাসন প্রতিহত: দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনে বড় সংস্কার: অভিন্ন গ্রেডিং ও ট্রাস্টি বোর্ডে পারিবারিক নিয়ন্ত্রণ সীমিত করার প্রস্তাব

আপডেট সময় : ০১:৩৭:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উচ্চশিক্ষার মানদণ্ড নিশ্চিত এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বাড়াতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০২৫ (সংশোধিত)’-এর খসড়া তৈরি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। এই খসড়ায় বেশ কিছু যুগান্তকারী পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা শিগগিরই চূড়ান্ত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

📌 মূল প্রস্তাবনা ও কঠোর বিধি

  • অভিন্ন গ্রেডিং ও ক্রেডিট ট্রান্সফার: দেশের সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে একই ধরনের গ্রেড পয়েন্ট সিস্টেম ও ক্রেডিট ট্রান্সফার বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানভেদে গ্রেডিংয়ের তারতম্য দূর হবে এবং শিক্ষার্থীরা সহজে প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করতে পারবে।
  • জরিমানা বৃদ্ধি ও সনদ জালিয়াতি রোধ: আইন লঙ্ঘনের সর্বোচ্চ জরিমানা ১০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়াও, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে সনদ জালিয়াতি প্রমাণিত হলে, প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম ন্যূনতম দুই বছরের জন্য বন্ধ রাখার বিধান রাখা হয়েছে।
  • ট্রাস্টি বোর্ডে নিয়ন্ত্রণ: ট্রাস্টি বোর্ডে একচ্ছত্র পারিবারিক প্রভাব কমাতে নতুন বিধানে বলা হয়েছে, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডে একই পরিবারের পাঁচজনের বেশি সদস্য থাকতে পারবেন না। বোর্ডের মোট সদস্য সংখ্যা ৯ থেকে ১৫ জনের মধ্যে সীমিত রাখারও প্রস্তাব করা হয়েছে।
  • সনদপত্রে স্বাক্ষর: শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে এবং একাডেমিক নথিপত্রের বৈধতা নিশ্চিত করতে, ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যরা আর সনদপত্রে স্বাক্ষর করতে পারবেন না। উপাচার্য না থাকলে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত প্রো-ভিসি বা রেজিস্ট্রার সনদ দিতে পারবেন।
  • অন্যান্য পরিবর্তন: খসড়ায় উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ নিয়োগে ইউজিসির নেতৃত্বে সার্চ কমিটি গঠন, বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য কমপক্ষে ৫ একর জমি থাকা, এবং টিউশন ফি নির্ধারণে ইউজিসির অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও রয়েছে।

ইউজিসি আশা করছে, এই সংশোধিত আইন কার্যকর হলে দেশের ১১৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামো শক্তিশালী হবে এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।