ঢাকা ০৪:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

বাংলার বৈশাখ ও মেঘের সন্ধানে এক চিরন্তন সুরের আকুতি

বাঙালির বৈশাখ কেবল ঋতু পরিবর্তনের উৎসব নয়, বরং এটি শত বছরের ঐতিহ্য ও জীবন সংগ্রামের এক নিবিড় মিশেল। এককালে কৃষির খাজনা আদায়ের হিসাব থেকে শুরু করে বর্তমানের ডিজিটাল উৎসব পর্যন্ত বৈশাখের রূপ বারবার বদলেছে। তবে যা অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, তা হলো চৈত্র-সংক্রান্তির সেই চিরচেনা হাহাকার এবং নতুন বছরের অনিশ্চিত আকাশ। আধুনিকতার এই যুগেও মানুষ যখন প্রকৃতির সামনে অসহায় বোধ করে, তখন সেই পুরোনো আকুতিই সুর হয়ে ফিরে আসে।

বাংলার লোকসংগীতের অন্যতম শক্তিশালী অনুষঙ্গ ‘আল্লাহ মেঘ দে পানি দে’ গানটি আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। কনসার্ট থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ছোট ভিডিও—সবখানেই এই সুরের অনুরণন পাওয়া যায়। এই গানটির রচয়িতা কে তা নিয়ে মতভেদ থাকলেও, এর আবেদন চিরন্তন। শিল্পী আব্বাসউদ্দীন আহমদের কণ্ঠে এই গানটি যে নতুন মাত্রা পেয়েছিল, তা আজও প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে গেঁথে আছে। মূলত এটি একটি জারি গান, যার শেকড় কারবালার বিয়োগান্তক ইতিহাসের পিপাসার সঙ্গে মিশে আছে বাংলার তপ্ত মাঠের হাহাকারে।

বাঙালির আধ্যাত্মিকতা কেবল উপাসনালয়ে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর বিশাল এক অংশ গড়ে উঠেছে এই শুকনো মাটি আর অনিশ্চিত আকাশের দিকে তাকিয়ে। যখন মাটি ফেটে চৌচির হয়, তখন কৃষক তার হৃদয়ের সবটুকু আকুতি ঢেলে প্রার্থনা করে বৃষ্টির জন্য। এই গানটি সেই তৃষ্ণার্ত মাটিরই এক অনন্য দলিল। ধর্মীয় বিষাদ আর কৃষিজীবী বাস্তবতার এই অপূর্ব মিলনই গানটিকে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে টিকিয়ে রেখেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে যান্ত্রিক ত্রুটি: উত্তরাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট

বাংলার বৈশাখ ও মেঘের সন্ধানে এক চিরন্তন সুরের আকুতি

আপডেট সময় : ০২:০৪:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

বাঙালির বৈশাখ কেবল ঋতু পরিবর্তনের উৎসব নয়, বরং এটি শত বছরের ঐতিহ্য ও জীবন সংগ্রামের এক নিবিড় মিশেল। এককালে কৃষির খাজনা আদায়ের হিসাব থেকে শুরু করে বর্তমানের ডিজিটাল উৎসব পর্যন্ত বৈশাখের রূপ বারবার বদলেছে। তবে যা অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, তা হলো চৈত্র-সংক্রান্তির সেই চিরচেনা হাহাকার এবং নতুন বছরের অনিশ্চিত আকাশ। আধুনিকতার এই যুগেও মানুষ যখন প্রকৃতির সামনে অসহায় বোধ করে, তখন সেই পুরোনো আকুতিই সুর হয়ে ফিরে আসে।

বাংলার লোকসংগীতের অন্যতম শক্তিশালী অনুষঙ্গ ‘আল্লাহ মেঘ দে পানি দে’ গানটি আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। কনসার্ট থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ছোট ভিডিও—সবখানেই এই সুরের অনুরণন পাওয়া যায়। এই গানটির রচয়িতা কে তা নিয়ে মতভেদ থাকলেও, এর আবেদন চিরন্তন। শিল্পী আব্বাসউদ্দীন আহমদের কণ্ঠে এই গানটি যে নতুন মাত্রা পেয়েছিল, তা আজও প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে গেঁথে আছে। মূলত এটি একটি জারি গান, যার শেকড় কারবালার বিয়োগান্তক ইতিহাসের পিপাসার সঙ্গে মিশে আছে বাংলার তপ্ত মাঠের হাহাকারে।

বাঙালির আধ্যাত্মিকতা কেবল উপাসনালয়ে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর বিশাল এক অংশ গড়ে উঠেছে এই শুকনো মাটি আর অনিশ্চিত আকাশের দিকে তাকিয়ে। যখন মাটি ফেটে চৌচির হয়, তখন কৃষক তার হৃদয়ের সবটুকু আকুতি ঢেলে প্রার্থনা করে বৃষ্টির জন্য। এই গানটি সেই তৃষ্ণার্ত মাটিরই এক অনন্য দলিল। ধর্মীয় বিষাদ আর কৃষিজীবী বাস্তবতার এই অপূর্ব মিলনই গানটিকে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে টিকিয়ে রেখেছে।