ঢাকা ১০:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ জুন ২০২৬

গবেষণায় মিললো নতুন তথ্য: পুরুষের চেয়ে নারীরাই বেশি আকর্ষণীয়

দীর্ঘ দেড় শতাব্দী আগে চার্লস ডারউইন তার ‘দ্য ডিসেন্ট অব ম্যান’ গ্রন্থে বলেছিলেন, প্রাণিজগতের অন্যান্য প্রজাতির মতো নয়, মানুষের ক্ষেত্রে নারীরাই বেশি রূপসী ও অলঙ্কারিক। তবে ডারউইনের এই দাবির পেছনে তখন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ বা উপাত্ত ছিল না। সম্প্রতি এক গবেষণায় ডারউইনের এই তত্ত্বের বৈজ্ঞানিক সত্যতা পাওয়া গেছে। রয়্যাল সোসাইটির সাময়িকী ‘প্রোসিডিংস অব দ্য রয়্যাল সোসাইটি বি’-তে প্রকাশিত ‘দ্য জেন্ডার অ্যাট্রাক্টিভনেস গ্যাপ’ শীর্ষক এক গবেষণা বলছে, বিশ্বজুড়ে সব সংস্কৃতিতেই পুরুষের তুলনায় নারীদের মুখমণ্ডল বেশি আকর্ষণীয়।

গবেষণার প্রধান লেখক ইউজেন ওয়াসিলিভিটস্কি এবং তার দল বিশ্বের ৭৬টি দেশের ৫২টি সমীক্ষা বিশ্লেষণ করেছেন। এই বিশাল ডেটাবেজে ছিল ১৭ হাজার মানুষের মুখের ছবি, যা মূল্যায়ন করেছেন প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের মুখের ওপর এই পরীক্ষা চালানো হয়। এতে দেখা গেছে, মূল্যায়নকারীর নিজস্ব সংস্কৃতি, লিঙ্গ, বয়স বা জাতিসত্তা যা-ই হোক না কেন, সব ক্ষেত্রেই পুরুষের চেয়ে নারীর চেহারা বেশি আকর্ষণীয় রেটিং পেয়েছে। তবে অংশগ্রহণকারীদের যখন নিজেদের চেহারা রেটিং করতে বলা হয়, তখন এই লিঙ্গভিত্তিক ব্যবধানটি দ্রুত মিলিয়ে যায়।

গবেষকেরা গাণিতিক পদ্ধতিতে মুখের গঠন পরিমাপের টেকনিক ‘মরফোমেট্রি’ ব্যবহার করেন। ছবির মান, আলো, মেকআপ ও চুলের স্টাইলসহ সেলফ-গ্রুমিংয়ের প্রভাব এবং বয়স বাড়লে মানুষের আকর্ষণ কমে যাওয়ার মতো বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া হয়। সব খতিয়ে দেখে গবেষণায় পাওয়া যায়, একজন গড়পড়তা নারীর মুখমণ্ডল প্রায় ৬০ শতাংশ পুরুষের মুখের চেয়ে বেশি আকর্ষণীয়। গবেষকেরা যখন ছবিগুলোতে নারীদের কোমল বৈশিষ্ট্যগুলো কৃত্রিমভাবে কমিয়ে দেন, তখন তাদের আকর্ষণের রেটিংও কমতে শুরু করে। এটি প্রমাণ করে যে নারীর কোমল বৈশিষ্ট্য ও গোলগাল মুখাবয়বই তাদের বেশি আকর্ষণীয় করে তোলে। গবেষণার সবচেয়ে চমকপ্রদ দিকটি ছিল, পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও অন্য নারীদের মুখমণ্ডলকে পুরুষদের চেয়ে বেশি আকর্ষণীয় বলে রেটিং দিয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঈদের ছুটি শেষে আজ খুলছে সরকারি-বেসরকারি অফিস, ফিরছে কর্মচাঞ্চল্য

গবেষণায় মিললো নতুন তথ্য: পুরুষের চেয়ে নারীরাই বেশি আকর্ষণীয়

আপডেট সময় : ০৮:৪৮:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

দীর্ঘ দেড় শতাব্দী আগে চার্লস ডারউইন তার ‘দ্য ডিসেন্ট অব ম্যান’ গ্রন্থে বলেছিলেন, প্রাণিজগতের অন্যান্য প্রজাতির মতো নয়, মানুষের ক্ষেত্রে নারীরাই বেশি রূপসী ও অলঙ্কারিক। তবে ডারউইনের এই দাবির পেছনে তখন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ বা উপাত্ত ছিল না। সম্প্রতি এক গবেষণায় ডারউইনের এই তত্ত্বের বৈজ্ঞানিক সত্যতা পাওয়া গেছে। রয়্যাল সোসাইটির সাময়িকী ‘প্রোসিডিংস অব দ্য রয়্যাল সোসাইটি বি’-তে প্রকাশিত ‘দ্য জেন্ডার অ্যাট্রাক্টিভনেস গ্যাপ’ শীর্ষক এক গবেষণা বলছে, বিশ্বজুড়ে সব সংস্কৃতিতেই পুরুষের তুলনায় নারীদের মুখমণ্ডল বেশি আকর্ষণীয়।

গবেষণার প্রধান লেখক ইউজেন ওয়াসিলিভিটস্কি এবং তার দল বিশ্বের ৭৬টি দেশের ৫২টি সমীক্ষা বিশ্লেষণ করেছেন। এই বিশাল ডেটাবেজে ছিল ১৭ হাজার মানুষের মুখের ছবি, যা মূল্যায়ন করেছেন প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের মুখের ওপর এই পরীক্ষা চালানো হয়। এতে দেখা গেছে, মূল্যায়নকারীর নিজস্ব সংস্কৃতি, লিঙ্গ, বয়স বা জাতিসত্তা যা-ই হোক না কেন, সব ক্ষেত্রেই পুরুষের চেয়ে নারীর চেহারা বেশি আকর্ষণীয় রেটিং পেয়েছে। তবে অংশগ্রহণকারীদের যখন নিজেদের চেহারা রেটিং করতে বলা হয়, তখন এই লিঙ্গভিত্তিক ব্যবধানটি দ্রুত মিলিয়ে যায়।

গবেষকেরা গাণিতিক পদ্ধতিতে মুখের গঠন পরিমাপের টেকনিক ‘মরফোমেট্রি’ ব্যবহার করেন। ছবির মান, আলো, মেকআপ ও চুলের স্টাইলসহ সেলফ-গ্রুমিংয়ের প্রভাব এবং বয়স বাড়লে মানুষের আকর্ষণ কমে যাওয়ার মতো বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া হয়। সব খতিয়ে দেখে গবেষণায় পাওয়া যায়, একজন গড়পড়তা নারীর মুখমণ্ডল প্রায় ৬০ শতাংশ পুরুষের মুখের চেয়ে বেশি আকর্ষণীয়। গবেষকেরা যখন ছবিগুলোতে নারীদের কোমল বৈশিষ্ট্যগুলো কৃত্রিমভাবে কমিয়ে দেন, তখন তাদের আকর্ষণের রেটিংও কমতে শুরু করে। এটি প্রমাণ করে যে নারীর কোমল বৈশিষ্ট্য ও গোলগাল মুখাবয়বই তাদের বেশি আকর্ষণীয় করে তোলে। গবেষণার সবচেয়ে চমকপ্রদ দিকটি ছিল, পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও অন্য নারীদের মুখমণ্ডলকে পুরুষদের চেয়ে বেশি আকর্ষণীয় বলে রেটিং দিয়েছেন।