ঢাকা ০৫:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

বরিশালের কড়াপুর মিয়াবাড়ি মসজিদ: ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামের স্মৃতি বিজড়িত এক স্থাপত্য

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৪:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

বরিশালের ভৌগোলিক পরিবর্তনের প্রভাবে অনেক প্রাচীন জনপদ ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন বিলীন হয়ে গেলেও কালের সাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে কড়াপুর মিয়াবাড়ি মসজিদ। নদীভাঙন আর পলি-আচ্ছাদিত ভূভাগের ক্রমাগত রূপান্তরের মাঝেও বরিশালের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে এই মসজিদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি কেবল একটি ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, বরং এর পরতে পরতে মিশে আছে মোগল স্থাপত্যরীতি ও এক বীর সংগ্রামীর জীবনগাথা।

মসজিদটির নির্মাতা হায়াত মাহমুদ ছিলেন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের এক কিংবদন্তি যোদ্ধা। চন্দ্রদ্বীপের সেনাবাহিনীর সেনাপতি থেকে বুজুর্গ-উমেদপুর পরগণার জমিদারি লাভ করা এই বীর পুরুষ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আধিপত্য মানতে অস্বীকার করেছিলেন। ফলস্বরূপ ব্রিটিশরা তাকে ‘ডাকাত সরদার’ আখ্যা দিয়ে জমিদারি কেড়ে নেয় এবং প্রিন্স অব ওয়েলস দ্বীপে নির্বাসনে পাঠায়। দীর্ঘ নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে তিনি কড়াপুরে বসতি স্থাপন করেন এবং ১৮ শতকের শেষভাগে এই দৃষ্টিনন্দন মসজিদটি নির্মাণ করেন।

শায়েস্তাখানি স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এই দোতলা মসজিদটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৭০ ফুট এবং প্রস্থ ৪০ ফুট। স্থানীয় লোককথা অনুসারে, তাজমহল নির্মাণে যুক্ত থাকা কিছু কারিগর এই মসজিদটি তৈরিতে অংশ নিয়েছিলেন। ১৭ শতকের স্থাপত্যরীতির সঙ্গে এর যথেষ্ট সামঞ্জস্য পাওয়া যায়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই মসজিদের ছাদে কোনো ধরনের রড বা লোহার ব্যবহার করা হয়নি, যা তৎকালীন কারিগরি দক্ষতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে আজও পর্যটকদের বিমোহিত করে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নাবিক নয়, বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের দূত: নৌ প্রতিমন্ত্রী

বরিশালের কড়াপুর মিয়াবাড়ি মসজিদ: ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামের স্মৃতি বিজড়িত এক স্থাপত্য

আপডেট সময় : ০৩:৪৪:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

বরিশালের ভৌগোলিক পরিবর্তনের প্রভাবে অনেক প্রাচীন জনপদ ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন বিলীন হয়ে গেলেও কালের সাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে কড়াপুর মিয়াবাড়ি মসজিদ। নদীভাঙন আর পলি-আচ্ছাদিত ভূভাগের ক্রমাগত রূপান্তরের মাঝেও বরিশালের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে এই মসজিদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি কেবল একটি ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, বরং এর পরতে পরতে মিশে আছে মোগল স্থাপত্যরীতি ও এক বীর সংগ্রামীর জীবনগাথা।

মসজিদটির নির্মাতা হায়াত মাহমুদ ছিলেন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের এক কিংবদন্তি যোদ্ধা। চন্দ্রদ্বীপের সেনাবাহিনীর সেনাপতি থেকে বুজুর্গ-উমেদপুর পরগণার জমিদারি লাভ করা এই বীর পুরুষ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আধিপত্য মানতে অস্বীকার করেছিলেন। ফলস্বরূপ ব্রিটিশরা তাকে ‘ডাকাত সরদার’ আখ্যা দিয়ে জমিদারি কেড়ে নেয় এবং প্রিন্স অব ওয়েলস দ্বীপে নির্বাসনে পাঠায়। দীর্ঘ নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে তিনি কড়াপুরে বসতি স্থাপন করেন এবং ১৮ শতকের শেষভাগে এই দৃষ্টিনন্দন মসজিদটি নির্মাণ করেন।

শায়েস্তাখানি স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এই দোতলা মসজিদটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৭০ ফুট এবং প্রস্থ ৪০ ফুট। স্থানীয় লোককথা অনুসারে, তাজমহল নির্মাণে যুক্ত থাকা কিছু কারিগর এই মসজিদটি তৈরিতে অংশ নিয়েছিলেন। ১৭ শতকের স্থাপত্যরীতির সঙ্গে এর যথেষ্ট সামঞ্জস্য পাওয়া যায়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই মসজিদের ছাদে কোনো ধরনের রড বা লোহার ব্যবহার করা হয়নি, যা তৎকালীন কারিগরি দক্ষতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে আজও পর্যটকদের বিমোহিত করে।