রাজশাহীর বৈশাখ মানেই অন্যরকম এক আবহ। এখানে গ্রীষ্মের আগমন ঘটে একটু আগেভাগেই। বরেন্দ্র অঞ্চলের তপ্ত রোদ আর মাটির বুক চিরে আসা গরম হাওয়ার মধ্যেই এই শহরে পহেলা বৈশাখের উদযাপন শুরু হয়। কৃষ্ণচূড়ার লাল আভা আর রাধাচূড়ার হলুদ রঙে সেজে ওঠে প্রকৃতি, আর বাতাসে ভাসে শিমুল তুলোর ওড়াউড়ি। ভোরের হাওয়ায় মিশে থাকা ফুলের মিষ্টি গন্ধই জানান দেয় নতুন বছরের আগমনী বার্তা।
শৈশবের বৈশাখী সকালগুলো ছিল ভীষণ উত্তেজনার। ভোরে তামাটে আকাশের নিচে সাদা রোদের ঝিলিক আর কোকিলের ডাক মনকে প্রফুল্ল করে তুলত। বাড়িতে পান্তা-ইলিশ আর হরেক রকমের ভর্তার আয়োজন ছিল উৎসবের অবিচ্ছেদ্য অংশ। মায়ের হাতে মাখানো সেই সাধারণ খাবারের স্বাদ আজও স্মৃতিতে অমলিন হয়ে আছে। খাওয়ার শেষে বাবার হাত ধরে মেলায় যাওয়ার সেই মুহূর্তগুলো ছিল অমূল্য।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বৈশাখী মেলা ছিল উৎসবের মূল কেন্দ্রবিন্দু। রঙিন দোকান, আলপনা আঁকা দেয়াল আর নাগরদোলার ক্যাঁচকোঁচ শব্দে মুখরিত থাকত চারুকলার প্রাঙ্গণ। শিক্ষার্থীদের নিপুণ হাতে তৈরি পোড়ামাটির ভাস্কর্য, রঙিন মুখোশ আর পটচিত্রগুলো দেখে মনে হতো এ যেন শিল্পের এক মায়াবী জগত। সেই রঙিন দিনগুলো আর নাগরদোলার সেই রোমাঞ্চকর অনুভূতি আজও মনের কোণে সজীব হয়ে আছে।
রিপোর্টারের নাম 

























