ঢাকা ১০:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

ভালোবাসার অনন্য নজির: স্ত্রীকে কিডনি দিয়ে নতুন জীবন দিলেন স্বামী

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২২:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

ভালোবাসা যে কেবল কথার ফুলঝুরি নয়, বরং ত্যাগের মাধ্যমেও প্রমাণ করা যায়—তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন শরীয়তপুরের জসিম উদ্দিন। দীর্ঘদিনের জীবনসঙ্গিনী মিনারা বেগমের জীবন বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি দান করেছেন তিনি। এই মানবিক ঘটনাটি জেলাজুড়ে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ৩২ বছর বয়সী মিনারা বেগম গত দুই বছর ধরে উচ্চ রক্তচাপ ও কিডনি বিকলসহ নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। চিকিৎসকরা জানান, তার দুটি কিডনিই অকেজো হয়ে পড়েছে। প্রথমে মিনারার মা কিডনি দিতে রাজি হলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। এমন সংকটাপন্ন অবস্থায় কোনো দাতা খুঁজে না পেয়ে জসিম উদ্দিন নিজেই নিজের কিডনি দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।

গত ৫ মার্চ রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জসিমের কিডনি মিনারার শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। বর্তমানে তারা দুজনেই সুস্থ আছেন এবং চিকিৎসকদের পরামর্শে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। ২০০৭ সালে পারিবারিকভাবে বিয়ে হওয়া এই দম্পতির ঘরে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে, যে বর্তমানে নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে।

জসিম উদ্দিনের এই আত্মত্যাগ সমাজ ও পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধের এক বিরল উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, বর্তমান সময়ে যেখানে সম্পর্কের টানাপোড়েন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা, সেখানে জসিমের এই পদক্ষেপ দাম্পত্য প্রেমের এক উজ্জ্বল মহিমা ছড়িয়ে দিয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে গণভোটের রায় ও অধ্যাদেশ পুনর্বহালের দাবি

ভালোবাসার অনন্য নজির: স্ত্রীকে কিডনি দিয়ে নতুন জীবন দিলেন স্বামী

আপডেট সময় : ০৯:২২:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

ভালোবাসা যে কেবল কথার ফুলঝুরি নয়, বরং ত্যাগের মাধ্যমেও প্রমাণ করা যায়—তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন শরীয়তপুরের জসিম উদ্দিন। দীর্ঘদিনের জীবনসঙ্গিনী মিনারা বেগমের জীবন বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি দান করেছেন তিনি। এই মানবিক ঘটনাটি জেলাজুড়ে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ৩২ বছর বয়সী মিনারা বেগম গত দুই বছর ধরে উচ্চ রক্তচাপ ও কিডনি বিকলসহ নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। চিকিৎসকরা জানান, তার দুটি কিডনিই অকেজো হয়ে পড়েছে। প্রথমে মিনারার মা কিডনি দিতে রাজি হলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। এমন সংকটাপন্ন অবস্থায় কোনো দাতা খুঁজে না পেয়ে জসিম উদ্দিন নিজেই নিজের কিডনি দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।

গত ৫ মার্চ রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জসিমের কিডনি মিনারার শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। বর্তমানে তারা দুজনেই সুস্থ আছেন এবং চিকিৎসকদের পরামর্শে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। ২০০৭ সালে পারিবারিকভাবে বিয়ে হওয়া এই দম্পতির ঘরে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে, যে বর্তমানে নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে।

জসিম উদ্দিনের এই আত্মত্যাগ সমাজ ও পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধের এক বিরল উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, বর্তমান সময়ে যেখানে সম্পর্কের টানাপোড়েন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা, সেখানে জসিমের এই পদক্ষেপ দাম্পত্য প্রেমের এক উজ্জ্বল মহিমা ছড়িয়ে দিয়েছে।