ঢাকা ০২:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের অনড় অবস্থান: চুক্তি করতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান, সমর্থকদের রাস্তায় থাকার নির্দেশ

ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুদ্ধ শেষ করার জন্য কোনো চুক্তি করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও বেশি উদ্যোগী হতে হবে। একই সঙ্গে, তারা তাদের সমর্থকদের রাস্তায় নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত দীর্ঘ আলোচনা প্রসঙ্গে বলেন, মার্কিন প্রতিনিধিদল শেষ পর্যন্ত ইরানি প্রতিনিধিদলের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার ঘোষণা করেছেন যে মার্কিন নৌবাহিনী অবিলম্বে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় জলসীমায় অবস্থিত ‘হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ বা প্রস্থানের চেষ্টাকারী যেকোনো জাহাজ অবরোধের’ প্রক্রিয়া শুরু করবে। তিনি আরও বলেন, ‘মার্কিন সামরিক বাহিনী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত’ রয়েছে এবং ‘উপযুক্ত সময়ে ইরানকে শেষ করে দেবে’।

বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেন মোহসেনি-এজেই ইসলামাবাদে যাওয়া প্রতিনিধিদলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, তারা ইরান সরকারের সমর্থকদের ‘অধিকার রক্ষা করেছে’। এই সমর্থকদের মধ্যে আধা সামরিক বাহিনীও রয়েছে, যারা ছয় সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে প্রতি রাতে তেহরান ও অন্যান্য শহরের প্রধান চত্বর, রাস্তা এবং মসজিদগুলোতে জড়ো হচ্ছে। শনিবার রাতে যখন প্রতিনিধিদলগুলো আলোচনায় ব্যস্ত ছিল, তখন রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) মহাকাশ বিভাগের একজন সদস্যকে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে পতাকা হাতে থাকা সমর্থকদের উদ্বিগ্ন না হতে বলতে শোনা যায়। সামরিক পোশাক ও পরিচয় গোপনের জন্য কালো মুখোশ পরা ব্যক্তি জনতাকে লক্ষ্য করে বলেন, ‘শত্রু যদি না বোঝে, আমরা তাদের বুঝিয়ে দেব।’ উপস্থিতি জনতার মধ্যে কয়েকজন আরো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাতে বলেন।

পার্লামেন্টে একাধিক আইনপ্রণেতা বলেছেন, আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় তারা খুশি, কারণ তারা বিশ্বাস করেন যে এই যুদ্ধে ইরান সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। সংসদ স্পিকারের ডেপুটি হামিদরেজা হাজি-বাবাই বলেছেন, যদি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এমন প্রস্তাব আনা হয়, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘আত্মসমর্পণের’ ইঙ্গিত থাকবে এবং এর ফলে ইরান ও তার নেতাদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে, সেটাই হবে রাস্তায় থাকা শাসকগোষ্ঠীর সমর্থকদের কাছে একমাত্র গ্রহণযোগ্য বিষয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বর্ষবরণে প্রস্তুত দেশ: চারুকলার মঙ্গল শোভাযাত্রায় এবার প্রধান আকর্ষণ ‘লাল ঝুঁটির মোরগ’

ইরানের অনড় অবস্থান: চুক্তি করতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান, সমর্থকদের রাস্তায় থাকার নির্দেশ

আপডেট সময় : ০১:১৬:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুদ্ধ শেষ করার জন্য কোনো চুক্তি করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও বেশি উদ্যোগী হতে হবে। একই সঙ্গে, তারা তাদের সমর্থকদের রাস্তায় নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত দীর্ঘ আলোচনা প্রসঙ্গে বলেন, মার্কিন প্রতিনিধিদল শেষ পর্যন্ত ইরানি প্রতিনিধিদলের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার ঘোষণা করেছেন যে মার্কিন নৌবাহিনী অবিলম্বে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় জলসীমায় অবস্থিত ‘হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ বা প্রস্থানের চেষ্টাকারী যেকোনো জাহাজ অবরোধের’ প্রক্রিয়া শুরু করবে। তিনি আরও বলেন, ‘মার্কিন সামরিক বাহিনী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত’ রয়েছে এবং ‘উপযুক্ত সময়ে ইরানকে শেষ করে দেবে’।

বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেন মোহসেনি-এজেই ইসলামাবাদে যাওয়া প্রতিনিধিদলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, তারা ইরান সরকারের সমর্থকদের ‘অধিকার রক্ষা করেছে’। এই সমর্থকদের মধ্যে আধা সামরিক বাহিনীও রয়েছে, যারা ছয় সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে প্রতি রাতে তেহরান ও অন্যান্য শহরের প্রধান চত্বর, রাস্তা এবং মসজিদগুলোতে জড়ো হচ্ছে। শনিবার রাতে যখন প্রতিনিধিদলগুলো আলোচনায় ব্যস্ত ছিল, তখন রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) মহাকাশ বিভাগের একজন সদস্যকে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে পতাকা হাতে থাকা সমর্থকদের উদ্বিগ্ন না হতে বলতে শোনা যায়। সামরিক পোশাক ও পরিচয় গোপনের জন্য কালো মুখোশ পরা ব্যক্তি জনতাকে লক্ষ্য করে বলেন, ‘শত্রু যদি না বোঝে, আমরা তাদের বুঝিয়ে দেব।’ উপস্থিতি জনতার মধ্যে কয়েকজন আরো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাতে বলেন।

পার্লামেন্টে একাধিক আইনপ্রণেতা বলেছেন, আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় তারা খুশি, কারণ তারা বিশ্বাস করেন যে এই যুদ্ধে ইরান সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। সংসদ স্পিকারের ডেপুটি হামিদরেজা হাজি-বাবাই বলেছেন, যদি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এমন প্রস্তাব আনা হয়, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘আত্মসমর্পণের’ ইঙ্গিত থাকবে এবং এর ফলে ইরান ও তার নেতাদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে, সেটাই হবে রাস্তায় থাকা শাসকগোষ্ঠীর সমর্থকদের কাছে একমাত্র গ্রহণযোগ্য বিষয়।