রংপুর অঞ্চলে চলমান তীব্র জ্বালানি সংকটের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে কৃষি খাতে। উত্তরের এই জনপদে ডিজেলের অভাবে সেচ পাম্পগুলো প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হওয়ায় বোরো ধান ক্ষেত ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। ভরা মৌসুমে পানির অভাবে মাঠের ফসল নষ্ট হতে দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাজারো কৃষক। কৃষি বিভাগ আশঙ্কা করছে যে, সময়মতো পর্যাপ্ত সেচ নিশ্চিত করা না গেলে এবার বোরো ধানের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। যদিও জেলা প্রশাসন দ্রুত ডিজেল সরবরাহ বাড়ানোর আশ্বাস দিচ্ছে, তবে মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা।
শনিবার রংপুরের গংগাচড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ফসলি মাঠ ঘুরে দেখা গেছে এক হাহাকারপূর্ণ চিত্র। ডিজেল না থাকায় অধিকাংশ সেচ পাম্প অচল হয়ে পড়ে আছে। কৃষকরা অভিযোগ করেছেন যে, আগে যেখানে সহজেই চাহিদামতো তেল পাওয়া যেত, এখন সেখানে ফিলিং স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তেল মিলছে না। অনেক ক্ষেত্রে পাম্প থেকে জনপ্রতি দুই-তিন লিটারের বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না, যা দিয়ে একটি সেচ পাম্প কয়েক ঘণ্টাও চালানো সম্ভব নয়। গংগাচড়া উপজেলার কৃষক আব্দুল মালেক আক্ষেপ করে বলেন যে, জমিতে নিয়মিত পানি দিতে না পারলে তাঁর সারা বছরের কষ্ট আর বিনিয়োগ সব শেষ হয়ে যাবে।
জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি তেলের রেশনিং ব্যবস্থা কৃষকদের দুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। অনেক কৃষক জানান যে, ড্রাম বা বোতল নিয়ে তেল নিতে গেলে পাম্প কর্তৃপক্ষ তা ফিরিয়ে দিচ্ছে এবং শ্যালো মেশিন সরাসরি পাম্পে নিয়ে আসার শর্ত জুড়ে দিচ্ছে। এতে কৃষকদের পরিবহন খরচ ও সময় উভয়ই কয়েকগুণ বেড়ে যাচ্ছে। প্রান্তিক কৃষকদের পক্ষে ভারী শ্যালো মেশিন ভ্যানে করে পাম্পে নেওয়া অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্পগুলোও কাজে আসছে না; ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে সেখানেও সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
রংপুর জেলায় এবার এক লাখ ৩২ হাজার ৪১০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, যার সিংহভাগই ডিজেল-চালিত সেচ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। কৃষক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, বোরো ধানের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সেচ দিতে না পারলে ফলন অর্ধেকে নেমে আসার ঝুঁকি রয়েছে। ক্ষেত মজুর পরিষদের পক্ষ থেকে সরকারের তদারকির অভাব ও অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিকে এই কৃত্রিম সংকটের জন্য দায়ী করা হয়েছে। রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানিয়েছেন যে বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণেই এই সংকট তৈরি হয়েছে, তবে কৃষকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় তেল সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 
























