ঢাকা ০৫:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

নারায়ণগঞ্জে মানবতাবিরোধী অপরাধ: স্বজনের জবানবন্দিতে শামীম ওসমানসহ ১২ আসামির বিচার শুরু

নারায়ণগঞ্জে ‘জুলাই বিপ্লব’ চলাকালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ ১২ আসামির বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রথম সাক্ষী হিসেবে শহীদ আবুল হাসান স্বজনের বড় ভাই আবুল বাশার অনিক জবানবন্দি দিয়েছেন।

জবানবন্দিতে অনিক বলেন, আবু সাঈদ শহীদ হওয়ার পর ১৭ জুলাই থেকে তিনি ও তার ভাই আবুল হাসান স্বজন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। তিনি দাবি করেন, ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জের জালকুড়ি লিংক রোড এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর শামীম ওসমান, অয়ন ওসমান, আজমেরী ওসমান, তানভীর রহমান টিটু, শাহ নিজাম, সাংবাদিক রাজু, ডিস বাবুসহ ১৫০ থেকে ২০০ জন অস্ত্রধারী ব্যক্তি হামলা ও গুলি চালায়। এই ঘটনায় আদিল ও আবুল হোসেন মিঝি নিহত এবং এনআরবি মামুনসহ অনেকে আহত হন বলে তিনি জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন।

অনিক আরও জানান, ৫ আগস্ট সকালে তিনি ও তার ভাই বন্দর উপজেলার কুশিয়ারা এলাকা থেকে আন্দোলনে যোগ দিতে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া মোড়ে যান। মিশনপাড়া মোড় থেকে মিছিল নিয়ে চাষাঢ়া অভিমুখে যাওয়ার সময় ল্যাবএইড হাসপাতাল গলিতে শামীম ওসমানের নেতৃত্বে অয়ন ওসমান, আজমেরী ওসমান, তানভীর রহমান টিটু, শাহ নিজাম, আব্দুল করিম বাবু (ডিস বাবু), কামরুল হাসান মুন্না, ছাত্রলীগ নেতা শুভ, রিয়াদ, সোহানুর রহমান শুভ্র, মেহেদী, ফরহাদসহ প্রায় ১০০ থেকে ২০০ জন অস্ত্রধারী তাদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি চালায়।

জবানবন্দিতে তিনি দাবি করেন, অয়ন ওসমানের পিস্তল থেকে ছোড়া গুলি তার ভাই আবুল হাসান স্বজনের বাম বুকে বিদ্ধ হয়। পরে আন্দোলনকারীরা তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন। এরপর স্বজনকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পথে কাজলা ফ্লাইওভারের কাছে অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করে ছররা গুলি ছোড়া হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অনিকের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকা মেডিকেলে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ৫ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টার দিকে স্বজনের অস্ত্রোপচার শুরু হয় এবং প্রায় সাত ঘণ্টা পর তা শেষ হয়। অস্ত্রোপচারের পর জ্ঞান ফিরে এলে স্বজন তাকে প্রথমে জিজ্ঞেস করেন, ‘হাসিনার পতন হয়েছে কি না’। তিনি জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে গেছেন শুনে স্বজন মুচকি হেসে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় সংকট মোকাবিলায় সাংবাদিকদের ভূমিকার গুরুত্ব অপরিসীম: সেলিম উদ্দিন

নারায়ণগঞ্জে মানবতাবিরোধী অপরাধ: স্বজনের জবানবন্দিতে শামীম ওসমানসহ ১২ আসামির বিচার শুরু

আপডেট সময় : ০৪:০৮:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

নারায়ণগঞ্জে ‘জুলাই বিপ্লব’ চলাকালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ ১২ আসামির বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রথম সাক্ষী হিসেবে শহীদ আবুল হাসান স্বজনের বড় ভাই আবুল বাশার অনিক জবানবন্দি দিয়েছেন।

জবানবন্দিতে অনিক বলেন, আবু সাঈদ শহীদ হওয়ার পর ১৭ জুলাই থেকে তিনি ও তার ভাই আবুল হাসান স্বজন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। তিনি দাবি করেন, ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জের জালকুড়ি লিংক রোড এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর শামীম ওসমান, অয়ন ওসমান, আজমেরী ওসমান, তানভীর রহমান টিটু, শাহ নিজাম, সাংবাদিক রাজু, ডিস বাবুসহ ১৫০ থেকে ২০০ জন অস্ত্রধারী ব্যক্তি হামলা ও গুলি চালায়। এই ঘটনায় আদিল ও আবুল হোসেন মিঝি নিহত এবং এনআরবি মামুনসহ অনেকে আহত হন বলে তিনি জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন।

অনিক আরও জানান, ৫ আগস্ট সকালে তিনি ও তার ভাই বন্দর উপজেলার কুশিয়ারা এলাকা থেকে আন্দোলনে যোগ দিতে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া মোড়ে যান। মিশনপাড়া মোড় থেকে মিছিল নিয়ে চাষাঢ়া অভিমুখে যাওয়ার সময় ল্যাবএইড হাসপাতাল গলিতে শামীম ওসমানের নেতৃত্বে অয়ন ওসমান, আজমেরী ওসমান, তানভীর রহমান টিটু, শাহ নিজাম, আব্দুল করিম বাবু (ডিস বাবু), কামরুল হাসান মুন্না, ছাত্রলীগ নেতা শুভ, রিয়াদ, সোহানুর রহমান শুভ্র, মেহেদী, ফরহাদসহ প্রায় ১০০ থেকে ২০০ জন অস্ত্রধারী তাদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি চালায়।

জবানবন্দিতে তিনি দাবি করেন, অয়ন ওসমানের পিস্তল থেকে ছোড়া গুলি তার ভাই আবুল হাসান স্বজনের বাম বুকে বিদ্ধ হয়। পরে আন্দোলনকারীরা তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন। এরপর স্বজনকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পথে কাজলা ফ্লাইওভারের কাছে অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করে ছররা গুলি ছোড়া হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অনিকের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকা মেডিকেলে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ৫ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টার দিকে স্বজনের অস্ত্রোপচার শুরু হয় এবং প্রায় সাত ঘণ্টা পর তা শেষ হয়। অস্ত্রোপচারের পর জ্ঞান ফিরে এলে স্বজন তাকে প্রথমে জিজ্ঞেস করেন, ‘হাসিনার পতন হয়েছে কি না’। তিনি জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে গেছেন শুনে স্বজন মুচকি হেসে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলেন।