ঢাকা ০৮:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

তিস্তার বালুচরে সবুজের বিপ্লব: রবিশস্য চাষে ভাগ্য বদলাচ্ছে নদীপাড়ের কৃষকদের

এক সময়ের প্রমত্তা তিস্তা নদী এখন পানিশূন্য হয়ে ধু-ধু বালুচরে পরিণত হলেও সেখানে দেখা দিচ্ছে নতুন প্রাণের স্পন্দন। উত্তরের ছয় জেলার বুক চিরে বয়ে যাওয়া এই নদীর চরাঞ্চলে এখন সবুজের সমারোহ। বিস্তীর্ণ বালুচরে রবিশস্যসহ নানা ফসলের চাষাবাদ করে নিজেদের ভাগ্য বদলাচ্ছেন নদীপাড়ের হাজারো কৃষক। প্রাণহীন তিস্তার বুকে এখন ফলছে মিষ্টি কুমড়া, লাউ, বাদাম, ভুট্টা, তিল, সরিষা ও পেঁয়াজসহ হরেক রকমের শাক-সবজি।

রংপুরের গঙ্গাচড়া এবং লালমনিরহাটের কালিগঞ্জ ও আদিতমারীর কৃষকরা জানান, বর্ষায় তিস্তা সবকিছু কেড়ে নিলেও শীত মৌসুমে এই চরই তাদের বাঁচার অবলম্বন হয়ে দাঁড়ায়। কৃষি অফিসের সহযোগিতা ও প্রণোদনায় প্রতি বছর এই অঞ্চলে শতকোটি টাকার ফসল উৎপাদিত হচ্ছে। কৃষকদের মতে, চরের উর্বর পলি মাটিতে উৎপাদিত ফসলের মান অত্যন্ত ভালো এবং ফলনও আশাব্যঞ্জক, যা দিয়ে তারা সারা বছরের খরচ মিটিয়ে থাকেন।

তবে উৎপাদিত ফসল বাজারজাতকরণে এখনো নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় কৃষকদের। যাতায়াত ব্যবস্থা অনুন্নত হওয়ায় ঘোড়ার গাড়িতে করে বালুচর থেকে ফসল পরিবহন করতে হয়। কৃষকদের দাবি, সরাসরি মাঠ থেকে পণ্য পরিবহনের সরকারি ব্যবস্থা থাকলে তারা আরও লাভবান হতে পারতেন। চরাঞ্চলের হাজার হাজার হেক্টর বালুমাটি ব্যবহার করে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন হওয়ায় এখন আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন এই অঞ্চলের মানুষ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শর্ত না মানলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা বাতিলের হুঁশিয়ারি ইরানের

তিস্তার বালুচরে সবুজের বিপ্লব: রবিশস্য চাষে ভাগ্য বদলাচ্ছে নদীপাড়ের কৃষকদের

আপডেট সময় : ০১:৩৭:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

এক সময়ের প্রমত্তা তিস্তা নদী এখন পানিশূন্য হয়ে ধু-ধু বালুচরে পরিণত হলেও সেখানে দেখা দিচ্ছে নতুন প্রাণের স্পন্দন। উত্তরের ছয় জেলার বুক চিরে বয়ে যাওয়া এই নদীর চরাঞ্চলে এখন সবুজের সমারোহ। বিস্তীর্ণ বালুচরে রবিশস্যসহ নানা ফসলের চাষাবাদ করে নিজেদের ভাগ্য বদলাচ্ছেন নদীপাড়ের হাজারো কৃষক। প্রাণহীন তিস্তার বুকে এখন ফলছে মিষ্টি কুমড়া, লাউ, বাদাম, ভুট্টা, তিল, সরিষা ও পেঁয়াজসহ হরেক রকমের শাক-সবজি।

রংপুরের গঙ্গাচড়া এবং লালমনিরহাটের কালিগঞ্জ ও আদিতমারীর কৃষকরা জানান, বর্ষায় তিস্তা সবকিছু কেড়ে নিলেও শীত মৌসুমে এই চরই তাদের বাঁচার অবলম্বন হয়ে দাঁড়ায়। কৃষি অফিসের সহযোগিতা ও প্রণোদনায় প্রতি বছর এই অঞ্চলে শতকোটি টাকার ফসল উৎপাদিত হচ্ছে। কৃষকদের মতে, চরের উর্বর পলি মাটিতে উৎপাদিত ফসলের মান অত্যন্ত ভালো এবং ফলনও আশাব্যঞ্জক, যা দিয়ে তারা সারা বছরের খরচ মিটিয়ে থাকেন।

তবে উৎপাদিত ফসল বাজারজাতকরণে এখনো নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় কৃষকদের। যাতায়াত ব্যবস্থা অনুন্নত হওয়ায় ঘোড়ার গাড়িতে করে বালুচর থেকে ফসল পরিবহন করতে হয়। কৃষকদের দাবি, সরাসরি মাঠ থেকে পণ্য পরিবহনের সরকারি ব্যবস্থা থাকলে তারা আরও লাভবান হতে পারতেন। চরাঞ্চলের হাজার হাজার হেক্টর বালুমাটি ব্যবহার করে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন হওয়ায় এখন আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন এই অঞ্চলের মানুষ।