ভারতের রাজধানী দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লার কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণে নয়জন নিহত হওয়ার ঘটনায় এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলোর শীর্ষ সূত্র জানিয়েছে, বিস্ফোরণে ব্যবহৃত গাড়িটির মালিক দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামার বাসিন্দা-এক চিকিৎসক ড. ওমর মোহাম্মদ। তিনি সম্প্রতি জম্মু-কাশ্মীর ও হরিয়ানা পুলিশের হাতে ধরা পড়া ‘হোয়াইট কলার’ সন্ত্রাস দলের সদস্য ছিলেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) বিকেলের মধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে।
বিস্ফোরণটি এখন সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে তদন্ত করছে দিল্লি পুলিশ। এ ঘটনায় তারা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৬ ও ১৮ ধারা প্রয়োগ করেছে, যা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও তার শাস্তি সম্পর্কিত। পাশাপাশি বিস্ফোরক পদার্থ আইনের ৩ ও ৪ ধারা এবং হত্যা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগও যুক্ত করা হয়েছে।
সূত্র অনুযায়ী, দলের দুই মূল সদস্য—ড. মুজাম্মিল শাকিল ও ড. আদিল রশিদ—গ্রেফতারের পর এবং হরিয়ানার ফরিদাবাদে ২,৯০০ কেজি সন্দেহজনক বিস্ফোরক উদ্ধার হওয়ার পর আতঙ্কে ড. ওমর লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণ ঘটান।
তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের আগে গাড়িটিকে লালকেল্লা থেকে দিল্লির কেন্দ্রীয় অংশের দিকে যেতে দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারত কেন্দ্রীয় দিল্লির যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ স্থান।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, লালকেল্লার বিস্ফোরণে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ব্যবহার করা হয়। ফরিদাবাদের অভিযানে উদ্ধার হওয়া পদার্থটিও অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট বলে সন্দেহ করা হচ্ছে—যা সাধারণত সার হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তবে তা দিয়েই শক্তিশালী বোমা তৈরি সম্ভব।
বিস্ফোরণটি ঘটে ঠিক সেই সময়, যখন জম্মু-কাশ্মীর ও হরিয়ানার পুলিশ দল হাজার হাজার কেজি সন্দেহজনক বিস্ফোরক এবং অস্ত্র-গুলির মজুদ উদ্ধার করে। দুটি বাড়ি থেকে এসব উদ্ধার হয়—দুটি বাড়িই ভাড়া নিয়েছিলেন ড. মুজাম্মিল শাকিল।
দিল্লি পুলিশ কমিশনার সত্যিশ গোলচা জানান, “একটি ধীরে চলমান গাড়ি সিগন্যালে থামার পর বিস্ফোরণ ঘটে। এর ফলে আশপাশের কয়েকটি গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”
ঘটনার তদন্তে এখন দিল্লি পুলিশ, জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ, এনআইএ, এনএসজি, ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো, উত্তরপ্রদেশ এন্টি-টেরর স্কোয়াড, হরিয়ানা পুলিশ, গুজরাট পুলিশ এবং ফরেনসিক দল একযোগে কাজ করছে।
জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ পুলওয়ামা থেকে তারিক নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, বিস্ফোরণে ব্যবহৃত গাড়িটি একাধিকবার হাতবদল হয়—প্রথমে আমির নামের একজনের কাছে ছিল, পরে তারিকের কাছে, এবং শেষে ড. ওমরের কাছে পৌঁছায়। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ গত ২৬ দিন ধরে জইশ-ই-মোহাম্মদ দলটির গতিবিধি নজরে রাখছিল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সোমবার রাতে এক বিবৃতিতে বলেন, “কোনও সম্ভাবনাই উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। সব দিক—সন্ত্রাসী যোগসূত্র, সীমান্ত পারের সংশ্লিষ্টতা—তদন্তের আওতায় রয়েছে।” বর্তমানে দিল্লিতে উচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে। লালকেল্লা বিস্ফোরণের সঙ্গে প্রত্যক্ষ সংযোগ আছে কিনা, তা জানতে ফরিদাবাদ দলের সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
তদন্তে জানা গেছে, ‘হোয়াইট কলার’ নামে পরিচিত এই সন্ত্রাস দলটিতে যুক্ত ছিলেন বেশ কয়েকজন শিক্ষিত ও পেশাদার ব্যক্তি। তারা পাকিস্তানসহ বিদেশে অবস্থানরত পরিকল্পনাকারীদের নির্দেশে কাজ করত।
গত কয়েক দিনে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জম্মু-কাশ্মীরের শ্রীনগর, আনন্তনাগ, গান্দেরবল, শোপিয়ান এবং হরিয়ানার ফরিদাবাদে অভিযান চালিয়ে দলটিকে ধ্বংস করে দেয়।
রবিবার ধোজ এলাকায় ড. মুজাম্মিল শাকিলের ভাড়া নেওয়া কক্ষ থেকে ৩৫০ কেজি বিস্ফোরক, ২০টি টাইমার, অ্যাসল্ট রাইফেল, পিস্তল ও বিপুল গুলি উদ্ধার করা হয়। দ্বিতীয় অভিযানটি হয় সেখান থেকে চার কিলোমিটার দূরে ফতেহপুর টাগা গ্রামে, যেখানে ২,৫৬৩ কেজি সন্দেহজনক বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়। এই বাড়িটিও শাকিল ভাড়া নিয়েছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই দলের সদস্যরা শুধু অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহেই নয়, সন্ত্রাসী সংগঠনের পক্ষে পোস্টার লাগানোসহ বিভিন্ন প্রোপাগান্ডা কার্যক্রমেও জড়িত ছিল।
রিপোর্টারের নাম 
























