বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো গ্রামীণ জনপদ। কৃষি, প্রাণিসম্পদ এবং ক্ষুদ্র কুটির শিল্পের ওপর ভিত্তি করেই এ দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা টিকে আছে। তবে গ্রামীণ শ্রমশক্তির একটি বড় অংশ এখনও অনুৎপাদনশীল বা ‘লুকায়িত কর্মসংস্থান’-এর ফাঁদে আটকে আছে। ফলে কঠোর পরিশ্রম করলেও তাদের আয় সীমিত এবং জাতীয় জিডিপিতে প্রত্যাশিত অবদান রাখতে পারছে না। এই অদক্ষতাকে কাটিয়ে উঠে গ্রামীণ অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে গ্রামীণ অর্থনীতিকে টেকসই করতে ‘সার্কুলার ইকোনমি’ বা বৃত্তাকার অর্থনীতি একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে। যেখানে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব। সরকারের সাম্প্রতিক বিভিন্ন উদ্যোগ, যেমন—কৃষক কার্ড বিতরণ, জলাশয় পুনরুদ্ধার এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তন গ্রামীণ অর্থনীতির ভিতকে মজবুত করছে। তবে এর জন্য প্রয়োজন আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৃষকদের সঠিক প্রশিক্ষণ।
গ্রামীণ উৎপাদকরা প্রায়ই তাদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে লোকসানের শিকার হন। এই সমস্যা সমাধানে উৎপাদন থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত একটি সুসংগঠিত চেইন তৈরি করা জরুরি। যদি অদৃশ্য বা অদক্ষ শ্রমশক্তিকে সঠিক কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ সম্পদে রূপান্তর করা যায়, তবে প্রতিটি গ্রামই দেশের অর্থনীতির এক একটি শক্তিশালী উৎপাদন হাবে পরিণত হবে।
রিপোর্টারের নাম 

























